ভোটমুখী বঙ্গে এসে আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ড নিয়ে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। অগ্নিদগ্ধ মোমো কারখানার মালিককে কেন গ্রেপ্তার করা হলো না? তুললেন সেই প্রশ্নও।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) ব্যারাকপুর সাংগঠনিক জেলার কর্মিসভায় যোগ দেন তিনি। সেখান থেকেই আনন্দপুরের অগ্নিকাণ্ড নিয়ে তোপ দাগেন শাহ। তিনি বলেন, ‘এ ঘটনায় ২৫ জন মারা গিয়েছেন। ২৭ জন নিখোঁজ। তাঁরা বাংলার নাগরিক। এখানে কেন ভোটবাক্সের রাজনীতি করা হচ্ছে?’ তিনি গোটা ঘটনায় পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি করেছেন। আনন্দপুরে জলা জমির উপরে গোডাউন গড়া হয়েছিল, এই অভিযোগও তোলেন শাহ।
দুর্ঘটনার সময় কারখানার দরজা বাইরে থেকে খোলা ছিল, না বন্ধ? এই প্রশ্ন তুলে শাহ বলেন, ‘রাজ্য সরকার এই ঘটনায় দোষীদের আড়াল করার চেষ্টা করছে। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এলে অগ্নিকাণ্ডের দোষীদের জেলে ঢোকানো হবে।’ রাজনৈতিক মহলের একাংশের কথায়, ভোটের আগে আনন্দপুর নিয়ে আক্রমণের সুর আরও ঝাঁঝাল করতে চলেছে বিজেপি। অমিত শাহের অভিযোগের পাল্টা তৃণমূলের সোশ্যাল মিডিয়া ইনচার্জ দেবাংশু ভট্টাচার্য এ দিন এক সংবাদ মাধ্যমে বলেন, ‘রাজ্য সরকার গোটা ঘটনার তদন্ত করছে। এখানে প্রশাসন পুরো বিষয়টি শক্ত হাতে দেখছে। যে বা যারা দোষী, তারা শাস্তি পাবে।’ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর তোলা সমস্ত অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছেন তিনি।
এ দিন দুর্নীতি ইস্যুতে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূলকে বিদ্ধ করার চেষ্টা করেন অমিত শাহ। একাধিক তৃণমূলের নেতা জেলে গিয়েছেন, এই দাবি সামনে রেখে তাঁর বক্তব্য, ‘বিজেপি বঙ্গে ক্ষমতায় আসার পরে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিকে মাথায় রেখে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। যে বা যাঁরা দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের জেলে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।’
বঙ্গে ক্ষমতা দখলের জন্য যে বিজেপি এক ইঞ্চিও জায়গা ছাড়বে না, এ দিন তা স্পষ্ট ভাবে বুঝিয়ে দেন অমিত শাহ। শনিবার ব্যারাকপুর থেকে ফের একবার বাঙালি অস্মিতায় শাণ দেন তিনি। শাহ বলেন, ‘এই মুহূর্তে ২১টি রাজ্যে ক্ষমতায় রয়েছে বিজেপি। কিন্তু তা নিয়ে সন্তুষ্ট নই। নরেন্দ্র মোদী এবং দলের কর্মীরা স্বস্তি পাবেন, যখন বাংলাকে নিয়ে সংখ্যাটা ২২ হয়ে যাবে।’ এ দিন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গ টেনে শাহ বলেন, ‘তিনি বাংলাকে ও কাশ্মীরকে বাঁচিয়েছিলেন। কাশ্মীরের জন্য প্রাণও দিয়েছিলেন।’
এ দিন মতুয়া, নমঃশূদ্রদের আশ্বাস দেন অমিত শাহ। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল তাঁদের ভয় দেখাচ্ছেন বলে বিজেপি সাংসদ শান্তনু ঠাকুর তাঁকে জানিয়েছেন ফোন করে। এর পরেই অমিত শাহ বলেন, ‘মতুয়া, নমঃশূদ্রদের ভয় পাওয়ার প্রয়োজন নেই। তাঁদের ভোট কেউ ছুঁতেও পারবে না।’ রাজ্যে যখন ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন(SIR) চলছে, সেই সময়ে অমিত শাহের এই বার্তা অত্যন্ত ইঙ্গিতপূর্ণ বলে মনে করা হয়েছে। অমিত শাহ এ দিন SIR প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে বলেন, ‘বাংলার ভোটার তালিকা থেকে অনুপ্রবেশকারীদের ছাঁটাই করার প্রয়োজন রয়েছে।’