• পত্রবার্তায় জেলাশাসকদের ‘শেষ সুযোগ’
    আনন্দবাজার | ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
  • বিধি না মেনে শুনানি এবং কমিশনের নির্দিষ্ট সফটওয়্যারে তথ‍্য আপলোড করার ঘটনায় জেলাশাসকদের লিখিত সতর্কবার্তা পাঠানোর কাজ শুরু করল নির্বাচন কমিশন। তবে সব জেলাশাসকের ক্ষেত্রে এমন পদক্ষেপ করা হচ্ছে তা নয়, বরং উদাহরণ উল্লেখ করে সেই চিঠি পাঠানো হচ্ছে কিছু সংখ্যক জেলাশাসক তথা জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে।

    বিধি প্রধানত দু’টি। এক, সুনির্দিষ্ট ব‍্যক্তির শুনানির পরে তাঁর ছবি-সই মিলিয়ে আপলোড করতে হবে। দুই, বৈধ হিসেবে কমিশনের তালিকাভুক্ত নথিগুলিই একমাত্র আপলোড করতে হবে। এই দু’টি বিষয়েই অসাধু কার্যকলাপের প্রমাণ হাতে পাচ্ছে কমিশন। একমাত্র সংশ্লিষ্ট জেলাগুলিকেই এর দায় দেওয়া হচ্ছে। কমিশন সূত্রের ব্যাখ্যা, এই পত্রবার্তা কার্যত শেষ সুযোগ দেওয়ার মতোই। পদ্ধতিটি পুরোপুরি আইনসম্মত রাখতে লিখিত ভাবে এবং উদাহরণ উল্লেখ করে করা হচ্ছে।

    কমিশনের পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, চূড়ান্ত ভোটার তালিকার জন‍্য ভোটার তথ্য আপলোড করার বার্তা ইআরও এবং এইআরও-দের একাংশ দিলেও, সেগুলির একটা বড় অংশই ত্রুটিপূর্ণ। সেখানে যে নথি গ্রহণ এবং আপলোড করা হয়েছে, তা বিধিসম্মত নয়। এমনকি, কিছু কিছু ক্ষেত্রে শুনানির সময়ে ভোটারের ছবি নেওয়া এবং আপলোড করা হয়নি। নেওয়া হয়নি কোনও নথিও। দেখানো হচ্ছে, সংশ্লিষ্ট ভোটারের শুনানিই হয়নি। এই ক্ষেত্রে কোন জেলায় কোথায় এমন কী হয়েছে, তার সবিস্তার তথ্য দিয়ে জেলাশাসককে ঘটনার অনুসন্ধান করতে বলা হয়েছে। বলা হয়েছে, এমন সব ঘটনায় পদক্ষেপ করতে হবে তাঁকেই এবং সব রিপোর্ট পাঠাতে হবে কমিশনের কাছে।

    এখন ভোটারের জমা পড়া নথি যাচাইয়ের জন্য যাচ্ছে জেলাশাসকের কাছে। সংশ্লিষ্ট দফতর বা বিভাগ থেকে রিপোর্ট পাওয়ার পরে তা ফেরত যাচ্ছে ইআরও এবংএইআরও-র কাছে। তাঁরা এর পরে যে আপলোড করছেন, তা যাচাই করছেন রোল-পর্যবেক্ষকেরা। সেই যাচাইয়েই ধরা পড়েছে এমন সব গরমিল। তাঁরা সেই তথ্য জানাচ্ছেন কমিশনকে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই সংশোধনের পদক্ষেপ করতে বলা হচ্ছে সেই জেলাশাসকদের।

    ঘটনাচক্রে, বৃহস্পতিবারই দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার অতিরিক্ত জেলাশাসক পদমর্যাদার এক আধিকারিকের বিরুদ্ধে কমিশনে অভিযোগ হয়েছে। প্রমাণ-সহ সেই অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই আধিকারিক অধস্তন আধিকারিকদের ওয়টস্যাপ মেসেজে জানাচ্ছেন, ‘কোনও অবস্থাতেই নট-ভেরিফায়েড বোতামে ক্লিক করা যাবে না।...দৈনিক তিন হাজার করে যাচাই করতে হবে যে কোনও মূল্যে।’ ওই ‘মোবাইল স্ক্রিনশট’ দিয়ে সমাজমাধ‍্যমে সরব হয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও। ঊর্ধ্বতনের নজর এড়িয়ে সে কাজ করা যে সম্ভব নয়, তা মনে করা হচ্ছে। সেই ঘটনার সমান্তরালে এমন গরমিলের রিপোর্ট পাওয়ার পরে কমিশনের পদক্ষেপঅর্থবহ। অনেকের মতে, এমন গরমিলের সংশোধন বা কোনও পদক্ষেপ জেলাশাসকেরা না করলে আইনি জালে জড়িয়ে পড়তে পারেন তাঁরাই। তাতে তাঁদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করার আইনি ক্ষমতাও রয়েছে প্রশাসনের হাতে।
  • Link to this news (আনন্দবাজার)