দাউ দাউ করে জ্বলছে গোটা বাড়ি। ভাড়াটেরা ছুটে বেরিয়ে আসছেন। কিন্তু অনেক ডেকেও বাড়িওয়ালার কোনও সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। খবর পেয়ে পুলিশ এসে দরজা ভেঙে উদ্ধার করে বাড়ির মালিককে। আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। দমকলের তিনটি ইঞ্জিন গিয়ে প্রায় আড়াই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
নাজিরাবাদ অগ্নিকাণ্ডের আবহেই বৃহস্পতিবার গভীর রাতে চিৎপুর থানার বিটি রোডে বাড়ির মধ্যে এক ব্যক্তির পুড়ে মৃত্যুর এই ঘটনায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের নাম আনন্দসাগর সাউ (৪৮)। স্থানীয় সূত্রের খবর, আনন্দের পরিবারের লোকেরা অন্যত্র থাকেন। ওই বাড়িতে আনন্দ থাকতেন। সেখানে ভাড়া থাকে প্রায় ১০টি পরিবার।
পুলিশ সূত্রের খবর, প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, মানসিক সমস্যা ছিল আনন্দের। একটি হোমে তাঁর চিকিৎসা চলছিল। কয়েক দিন আগে তিনি সেখান থেকে ফিরে আসেন। বাড়িতে আগুন লাগার কারণ স্পষ্ট নয়। তবে পুলিশ সূত্রের খবর, প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে, আনন্দই আগুন লাগিয়েছেন। তদন্তে অবশ্য সব দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
শুক্রবার ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, কয়েকটি ঘর পুরো পুড়ে গিয়েছে। পুড়ে গিয়েছে একটি পাম্পের দোকানও। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে পোড়া আসবাব। এক জায়গায় ডাঁই করা রয়েছে পোড়া ট্রাঙ্ক, আধপোড়া বই-খাতা, জামাকাপড়, জুতো ইত্যাদি। পাশেই উদ্বিগ্ন মুখে দাঁড়িয়ে ছিলেন ওই বাড়ির এক ভাড়াটে মমতা দেবী। মায়ের পাশে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী পায়েলকুমারী প্রসাদ। মমতা জানান, রাতে সবাই ঘুমোচ্ছিলেন। সাড়ে ১২টা নাগাদ ঘুম ভেঙে তিনি দেখেন, গোটা ঘর ধোঁয়ায় ভরে গিয়েছে। তাড়াতাড়ি ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন তাঁরা। বেরিয়ে আসেন অন্য ভাড়াটেরাও। যে যতটুকু পেরেছেন, জিনিসপত্র বার করে আনেন। মমতা বলেন, ‘‘আনন্দের মানসিক সমস্যা ছিল। তাঁর বাড়ির লোকজন চিকিৎসার জন্য তাঁকে সরকারি হোমে পাঠিয়েছিলেন। প্রায় ন’মাস সেখানে চিকিৎসা চলে। ১৫-২০ দিন হল আনন্দ এই বাড়িতে এসেছিলেন। তার মধ্যেই এই কাণ্ড।’’
ভাড়াটে গৌরী রায়ের পাশের ঘরেই থাকতেন আনন্দ। বাড়িতে আগুন লাগলেও বেঁচে গিয়েছে গৌরীর ঘরটি। তিনি বলেন, ‘‘মাঝরাতে চিৎকার শুনে ছুটে ঘর থেকে বেরিয়ে আসি। দেখি, গোটা বাড়ি জ্বলছে। আসে দমকল-পুলিশ। ভাড়াটেরা বেরিয়ে এলেও আনন্দ বেরিয়ে আসেননি। ডাকাডাকি করলেও তাঁর কোনও সাড়াশব্দ পাওয়া যাচ্ছিল না। এর পরেই আনন্দের ঘরের দরজা ভেঙে ভিতরে গিয়ে দেখা যায়, মেঝেতে পড়ে রয়েছেন তিনি। দেহে পোশাক নেই।’’
আগুনে পুরো পুড়ে গিয়েছে ভাড়াটে প্রভাস মণ্ডলের ঘর। তবে অগ্নিকাণ্ডের সময়ে বাড়িতে ছিলেন না পেশায় ফল ব্যবসায়ী প্রভাস। তাঁর বাড়ি ডায়মন্ড হারবারে। অসুস্থ মাকে দেখতে সেখানে গিয়েছিলেন তিনি। প্রভাস বলেন, ‘‘আগুন লাগার খবর পেয়ে আজ সকালে এখানে চলে আসি। এসে দেখি, সব শেষ।’’