• শনিবার বেলডাঙায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
  • সূত্রের খবর, ইতিমধ্যে এনআইএ-র কাছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে। তদন্তকারীরা থানায় কেস ডায়েরি এবং অন্যান্য নথি খতিয়ে দেখেন। কেন টানা দু’দিন বেলডাঙায় অশান্তি হল, তা পরিকল্পিত ছিল কি না, কেন্দ্রীয় সংস্থা তা যাচাই করে দেখবে। এখনও পর্যন্ত বেলডাঙার ঘটনায় চারটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে মূল অভিযুক্ত-সহ ৩৬ জনকে। এনআইএ তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করবে। এনআইএ-র প্রতিনিধিদলে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরাও ছিলেন।

    শুক্রবারই এনআইএ-র তরফ থেকে একটি মামলা রুজু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, কোর্টের নির্দেশ মেনে এনআইএ-র তদন্তকারী আধিকারিকদের হাতে এই মামলার এখনও পর্যন্ত হওয়া তদন্তের অগ্রগতি এবং তদন্তের যাবতীয় নথি তুলে দেওয়া হবে। সূত্রের খবর, পুলিশ এখনও পর্যন্ত যে ৩৬ জন দুষ্কৃতীকে এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে তাদের সকলকে এনআইএ নিজেদের হেফাজতে নেবে এবং নতুন করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করবে। নথি হস্তান্তরে প্রক্রিয়া শেষ হলে এনআইএ-র তদন্তকারীরা বেলডাঙায় যে সমস্ত এলাকায় গত ১৬ এবং ১৭ তারিখে অশান্তির ঘটনা হয়েছিল সেখানেও যেতে পারেন বলে সূত্রের খবর।

    ঝাড়খণ্ডে মুর্শিদাবাদের পরিযায়ী শ্রমিক আলাউদ্দিন শেখের মৃত্যুর খবরে অশান্ত হয়ে উঠেছিল বেলডাঙা। গত ১৬ জানুয়ারি আলাউদ্দিনের দেহ সেখানে পৌঁছোতেই সাধারণ মানুষ রাস্তায় নামেন। ভিন্‌রাজ্যে পশ্চিমবঙ্গের শ্রমিকদের মৃত্যুর প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু হয়। বাংলা ভাষা বলার অপরাধে আলাউদ্দিনকে হত্যা করার অভিযোগ ওঠে। যদিও ঝাড়খণ্ডের পুলিশ এই অভিযোগ অস্বীকার করে। প্রাথমিক ভাবে ওই যুবক আত্মহত্যা করেছেন বলেই দাবি করা হয়। তাঁর মৃত্যুর প্রতিবাদে ১৬ তারিখ জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন বিক্ষোভকারীরা। টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখানো হয়। এমনকী, বিক্ষোভে ব্যাহত হয় শিয়ালদহ-লালগোলা ট্রেন চলাচলও।

    প্রথম দিন পুলিশ বিক্ষোভ সরালেও পরের দিন সকাল থেকে বেলডাঙা ফের উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশ পরে আদালতে দাবি করেছে, বেলডাঙার প্রথম দিনের বিক্ষোভ কিছুটা হলেও ছিল স্বতঃস্ফূর্ত। দ্বিতীয় দিন পরিকল্পিত ভাবে সেখানে অশান্তি করা হয়। রাস্তা অবরোধ এবং ট্রেন আটকে দেওয়ায় বহু মানুষ ভোগান্তির শিকার হন। এই  মামলায় হাইকোর্ট জানিয়েছিল, কেন্দ্রীয় সরকার যদি চায়, এনআইএ-কে দিয়ে বেলডাঙার ঘটনার তদন্ত করাতে পারে। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনে কেন্দ্রের কাছ থেকে আরও বাহিনী চাইতে পারবে রাজ্য। এরপরই এদিন তদন্তভারের দায়িত্ব নিয়ে বেলডাঙায় যায় এনআইএ।

     
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)