• 'ইউসুফ পাঠানের প্রচারে গিয়ে হিন্দুদের মনে আঘাত করেছিলাম, ক্ষমা চাইছি'
    ২৪ ঘন্টা | ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
  • অয়ন ঘোষাল: রেজিনগরের সভা থেকে ক্ষমতা প্রদর্শন করলেন জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ূন কবীর। তাঁর মঞ্চে দেখা গেল আসাদউদ্দিন ওয়েসির দল মিম-এর পতাকা। হুমায়ূনের ওই সভাতেই জনতা উন্নয়ন পার্টিতে যোগ দিলেন ফিরহাদ হাকিমের প্রাক্তন জামাই ইয়াসিন হায়দার। আর ওই মঞ্চ থেকেই হুমায়ূনের হুংকার, ঈদের পর ওয়াইসি আর আমি ব্রিগেড সমাবেশ করব। সঙ্গে আইএসএফ থাকলে স্বাগত। সিপিএম থাকলে স্বাগত। না পেলে আমরা দুই পার্টি লড়াই করে নেব।

    মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদ করতে গিয়ে তৃণমূল থেকে বহিস্কৃত হয়েছেন হুমায়ূন কবীর। স্বভাবতই তাঁর সব রাগ গিয়ে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের উপরে। রেজিনগরের সভা থেকে হুমায়ূন কবীর বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সংখ্যালঘুদের কথা বেমালুম ভুলে গেছেন। ওয়াকফ বিল মানতে অস্বীকার করেছেন। ওয়াকফ নিয়ে প্রতিবাদ করলে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। 

    জেলায় অধীর চৌধুরীকে হারানোর কথা টেনে হুমায়ূন কবীর বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন হুমায়ূন, আমার কাছে খবর আছে অধীর চৌধুরী জিততে চলেছেন, সেলিম জিততে চলেছেন। তুমি কিছু একটা করো। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায় ইউসুফ পাঠানের হয়ে প্রচার করেছিলাম। ইউসুফ পাঠানকে আমি জিতিয়েছি। এখানে এসে যোগী আদিত্যনাথ আমাকে দাঙ্গাবাজ বলেছিল। উল্টো করে টাঙানোর কথা বলেছিল। আমি তার প্রতিবাদ করেছিলাম। বলেছিলাম আমাকে আদেশ দিলে জেলার বিজেপি করার লোকজনদের ২ ঘণ্টার মধ্যে ঠান্ডা করে দেব। মুখ্যমন্ত্রীর কথায় ইউসুফ পাঠানের প্রচারে গিয়ে আমি হিন্দুদের মনে আঘাত করেছিলাম। সেইজন্য আজ করজোড়ে ক্ষমা চাইছি। ভবিষ্যতে এমন আঘাত করার কথা বলব না। ৪৩ বছরের রাজনীতিতে সংকীর্ণ রাজনীতি করিনি। কিন্তু মমতাদিদি, আপনার আমলে হরগোবিন্দ দাস, চন্দন দাস খুন হয়েছে কেন?মুখ্যমন্ত্রী জবাব দিন। সবকটা ফেক অ্যারেস্ট হয়েছে। আসল দোষীদের গ্রেফতার করা হয়নি। ১৩ জন যুবকের জীবন নষ্ট হয়ে গেল আপনার পুলিসের জন্য। 

    একসময় হুমায়ূন কবীর ঘোষণা করেছিলেন ব্রিগেডে সভা করবেন। তার জন্য ব্রিগেড পরিদর্শনেও গিয়েছিলেন। কিন্তু শেষপর্যন্ত সেই সভা হয়নি। রেজিনগরের সভায় হুমায়ূন বলেন, আমার ব্রিগেড সমাবেশ চক্রান্ত করে আটকে দেওয়া হয়েছে। ১০ দিন অপেক্ষা করিয়ে আমাকে বলা হল ব্রিগেড পাওয়া যাবে না। আমি নাকি ১৬ তারিখ বেলডাঙায় অশান্তির ইন্ধন দিয়েছি। ১৭ তারিখ অভিষেকের রোড শো ছিল বলে তক্ষুনি রাস্তা ক্লিয়ার করে দিল। এটা ১৬ তারিখ করা যেত না?

    একসময় অধীর চৌধুরীর ডানহাত ছিলেন হুমায়ূন কবীর। প্রায় তিরিশ বছর কংগ্রেস করার পর দল ছেড়ে তৃণমূল যোগদান করেন হুমায়ূন কবীর। সেই তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছে হুমায়ূনকে। এনিয়ে মমতা নিশানা করে হুমায়ূন বলেন, আমাকে সাসপেন্ড করলেন। আমার অপরাধ হল বাবরি মসজিদ তৈরি করা। আপনি জগন্নাথ মন্দির করেছেন কেন? আপনি দুর্গা অঙ্গন করেছেন কেন? আর আপনাকে লাগবে না। আপনার কুর্সি এবার কেড়ে নেব। লক্ষী ভান্ডার কার টাকায় দেন? আপনার বাবার টাকায় দেন? ভাইপো বলেছে ওনার বিরুদ্ধে দুর্নীতি প্রমাণিত হলে আপনি ফাঁসি দেবেন। আপনার কোম্পানির লোক সুজয় কৃষ্ণ ভদ্র জেলে গেছে। কেন্দ্র মনে করলে আপনাকে এক্ষুনি অ্যারেস্ট করে ভুবনেশ্বর পাঠিয়ে দিতে পারে। RSS এর সঙ্গে সেটিং আছে আপনার।

    ভরা সভায় হুমায়ূন স্বীকার করেন, কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলের হাত ধরা আমার জীবনের ঐতিহাসিক ভুল। মমতা কে ক্ষমতাচ্যুত করতে চাইলে আমাদের ভোট দিন। আমরা ক্ষমতায় এলে ৩০০০ টাকা লক্ষীর ভান্ডার দেব। বিজেপি ১০০ পেরোবে না। তৃণমূল ৫০ পেরোবে না। আমি গ্যারান্টি দিলাম। ঈদের পর ওয়াইসি আর আমি ব্রিগেড সমাবেশ করব। সঙ্গে আইএসএফ থাকলে স্বাগত। সিপিএম থাকলে স্বাগত। না পেলে আমরা দুই পার্টি লড়াই করে নেব।

  • Link to this news (২৪ ঘন্টা)