প্রসেনজিত্ মালাকার: বীরভূমের বোলপুর শহরে পরিবেশ ও আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একটি বিশাল পুকুর সম্পূর্ণ ভরাট করে কংক্রিটের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল। এই ঘটনায় তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডলের দাদা সুব্রত মণ্ডলের নাম জড়িয়েছে বলে অভিযোগ উঠল। খবর পেয়ে দ্রুত নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিল বোলপুর পৌরসভা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কালিমোহনপল্লী এলাকায় প্রায় ২ বিঘা জমির উপর অবস্থিত এই পুকুরটি ভরাট করে বহুতল নির্মাণের (শোনা যাচ্ছে নার্সিংহোম হতে পারে) করার পরিকল্পনা ছিল। কোনও অনুমতি ছাড়াই কাজ চলছিল,এমনকি পৌরসভার জলের ট্যাঙ্ক ও গাড়ি ব্যবহার করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ। পুকুর ভরাটের ফলে স্থানীয় বাস্তুতন্ত্রের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে।
বোলপুর পৌরসভার ইঞ্জিনিয়ার বাপি বীরবংশী জানান, "চেয়ারপার্সনের নির্দেশে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিদর্শন করি। কোনও বেআইনি কাজ করতে দেওয়া হবে না। সাইট ঘুরে দেখে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের কাগজপত্র নিয়ে পৌরসভায় হাজির হতে বলা হয়েছে। জলের গাড়ি কারা এনেছিল,তাও খতিয়ে দেখা হবে।"
পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৮৬, পশ্চিমবঙ্গ ভূমি সংস্কার আইন ১৯৫৫, মৎস্য আইন ১৯৮৪, জলাভূমি সংরক্ষণ বিধিমালা সহ বিভিন্ন আইন অনুসারে পুকুর ভরাট করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের একাধিক নির্দেশ রয়েছে যে ব্যক্তিগত মালিকানাধীন হলেও জলাভূমি ভরাট অবৈধ। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শান্তিনিকেতন-সংলগ্ন বোলপুরে এমন ঘটনা ঘটলেও দীর্ঘদিন প্রশাসনের নজর এড়িয়ে যাওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে।
বিরোধীদের দাবি, তৃণমূলের প্রভাবশালী নেতা অনুব্রত মণ্ডলের দাদা সুব্রত মণ্ডল এই কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকায় প্রশাসন নীরব ছিল। স্থানীয় বাসিন্দা তপন হাজরা বলেন, "এটা পুকুর ছিল,বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শুনেছি নার্সিংহোম হবে। কাউন্সিলর তাপসী বাউড়ি ও তৃণমূল নেতা নরেশ বাউড়ি এতে জড়িত।"
সিপিআই(এম)-এর বীরভূম জেলা সম্পাদক গৌতম ঘোষ অভিযোগ করেন, "বোলপুরে পুকুর ভরাট নতুন নয়। তৃণমূলের মদতেই জমি মাফিয়ারা এসব করছে। পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে, সাধারণ মানুষের প্রতিবাদের জায়গা নেই।"
বিজেপি নেতা কাঞ্চন ঘোষ বলেন, "অনেকদিন ধরে পুকুর বোজানোর চলছে। প্রশাসন কী করছিল? সুব্রত মণ্ডলের নাম শোনা যাচ্ছে। তোলাবাজি চলছে। দরকষাকষি না হওয়ায় আজ কাজ বন্ধ করা হল। বোলপুরে একের পর এক পুকুর ভরাট হয়েছে।"
পৌরসভা সংশ্লিষ্টদের কাগজপত্র যাচাই করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে বলে জানিয়েছে। এই ঘটনা পরিবেশ সংরক্ষণ ও আইনের প্রয়োগ নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।