• দিল্লির অটল ক্যান্টিনে এবার রেটিনা স্ক্যানিং, আধার যাচাই বাধ্যতামূলক
    বর্তমান | ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • নয়াদিল্লি: বাংলার ‘মা ক্যান্টিন’-এর নকল। গত ডিসেম্বরে ঢাকঢোল পিটিয়ে দিল্লিতে ‘অটল ক্যান্টিন’ চালু করেছে রেখা গুপ্তা প্রশাসন। সেখানে পাঁচ টাকায় মিলছে ভরপেট খাবার। গরিব মানুষের কথা ভেবে এই পদক্ষেপ নিয়েছে রাজধানীর বিজেপি সরকার। এবার ডবল ইঞ্জিন সরকারের এই জনমুখী প্রকল্প নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে। সম্প্রতি অটল ক্যান্টিনের প্রত্যেক কেন্দ্রে আধার ভেরিফিকেশন ও রেটিনা স্ক্যান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রশাসনের যুক্তি, বহু মানুষ দিনে একাধিকবার খাবার নিয়ে থাকেন। তা রুখতেই এই সিদ্ধান্ত। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই সরব হয়েছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন। তাদের অভিযোগ, জনকল্যাণমূলক কাজের নামে অসহায় মানুষের সঙ্গে অমানবিক আচরণ করা হচ্ছে। জানা গিয়েছে, আধার ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে একটি তথ্যভাণ্ডার তৈরি করেছে প্রশাসন। একবার ক্যান্টিনে গিয়ে রেটিনা স্ক্যান করলেই বাকি সব কেন্দ্রে সেই তথ্য চলে যাবে। সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি দ্বিতীয়বার দুপুরের খাবার নিতে পারবেন না। তবে পরে চাইলে রাতের খাবার নেওয়া যাবে। প্রসঙ্গত, অটল ক্যান্টিনে সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত দুপুরের খাবার পরিবেশন করা হয়। রাতের খাবার মেলে বিকেল সাড়ে ৬টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত। দিল্লি আরবান শেল্টার ইম্প্রুভমেন্ট বোর্ডের এক আধিকারিক বলেন, ‘একটি ক্যান্টিন থেকে লাঞ্চ কিনলে অন্যান্য কেন্দ্রে সেই তথ্য পৌঁছে যাবে। সেদিন কোনো জায়গা থেকেই আর দুপুরের খাবার কেনা যাবে না।’ তাতে অবশ্য চিঁড়ে ভিজছে না। ক্যান্টিনে বায়োমেট্রিক ব্যবস্থার তীব্র নিন্দা করেছে মানবাধিকার সংগঠনগুলি। সেন্টার ফর হোলিস্টিক ডেভেলপমেন্টের কার্যনির্বাহী ডিরেক্টর সুনীল আলেদিয়ার তোপ, ‘পেটে খিদে থাকলেও দ্বিতীয়বার খাবার নেওয়া যাবে না। বিষয়টা অত্যন্ত হাস্যকর। আর উদ্বোধন হওয়া সত্ত্বেও অটল ক্যান্টিনের একাধিক কেন্দ্র এখনও চালুই হয়নি।’
  • Link to this news (বর্তমান)