মহারাষ্ট্রে এই প্রথম মহিলা উপমুখ্যমন্ত্রী শপথ নিলেন অজিত-পত্নী সুনেত্রা
বর্তমান | ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মুম্বই: গত বুধবার বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে অজিত পাওয়ারের। তিন দিনের মাথায় স্বামীর ফেলে যাওয়া উপমুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিলেন অজিত-পত্নী সুনেত্রা পাওয়ার। শনিবার এই প্রথম মহিলা উপমুখ্যমন্ত্রী পেল মহারাষ্ট্র। উপমুখ্যমন্ত্রী পদের মতোই স্বামীর হাতে থাকা আবগারি শুল্ক, ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ এবং সংখ্যালঘু উন্নয়ন দপ্তর পেলেন সুনেত্রা। তবে অজিত পাওয়ারের অর্থ ও পরিকল্পনা দপ্তর নিজের হাতে রেখে দিলেন মহাযুতি সরকারের বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ।সুনেত্রা পাওয়ার এদিন উপমুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিলেও এনসিপি তথা পাওয়ার পরিবারে সংযুক্তির উদ্যোগ নিয়ে নতুন করে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। কারণ, এদিন সকালেই প্রয়াত অজিতের কাকা এনসিপি (এসপি) সুপ্রিমো শারদ পাওয়ার সাংবাদিকদের বলেন, বিজেপি জোট সরকারে সুনেত্রার উপমুখ্যমন্ত্রী পদ গ্রহণ করার বিষয়ে পরিবারে কোনো আলোচনাই হয়নি। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান সম্পর্কে আমার কিছু জানা নেই। আমি সংবাদ মাধ্যম থেকে বিষয়টি জানতে পেরেছি। তাহলে কি অজিত পাওয়ারের উত্তরাধিকারী নির্ধারণের প্রক্রিয়া থেকে পরিবারের প্রবীণতম সদস্যকেই এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে? এই প্রশ্নের জবাবে শারদ শুধু বলেন, আমি এনিয়ে কিছু বলতে পারব না।সকালে বারামতীতে সাংবাদিক সম্মেলনে শারদ পাওয়ারের মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট, এনসিপির দুই শিবির তথা পরিবারে ফাটল এখনও স্পষ্ট। তবে এদিন দুপুরে অজিত-পুত্র পার্থ শারদ পাওয়ারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গিয়েছিলেন বলে খবর। আর এই চাপানউতোরের মধ্যেই এদিন মুম্বইয়ের দলীয় বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে এনসিপির পরিষদীয় দলের নেতা নির্বাচিত হন সুনেত্রা। দলীয় বিধায়কদের সম্মতিপত্র পাঠানো হয় মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশের কাছে। তিনি তা রাজভবনে পাঠিয়ে দেন। পরে রাজভবনেই হয় শপথগ্রহণের অনুষ্ঠান। সুনেত্রাকে শপথবাক্য পাঠ করান মহারাষ্ট্রের রাজ্যপাল আচার্য দেবব্রত। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ ও আরেক উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ সিন্ধে। শপথগ্রহণের অনুষ্ঠান থেকেই স্লোগান ওঠে, ‘অজিত দাদা অমর রহে।’ উপমুখ্যমন্ত্রী পদে শপথগ্রহণের পর সুনেত্রা পাওয়ার বলেন, ‘দাদার অকাল প্রয়াণ শুধু আমার ব্যক্তিগত জীবনেই নয়, গোটা মহারাষ্ট্রের হৃদয়েও শোকের ছায়া ফেলেছে। তবে, তিনি আমাকে কর্তব্য, সংগ্রাম ও জনগণের প্রতি সৎ থাকতে শিখিয়েছেন। সেটাই আমার মূল ভিত্তি।’ সুনেত্রাকে শুভেচ্ছা জানান মোদিও।