দুই এনসিপির সংযুক্তির জল্পনায় টালমাটাল ইন্ডিয়া জোটের ভবিষ্যৎ
বর্তমান | ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: একদিকে অনিশ্চয়তা এবং অন্যদিকে শারদ পাওয়ারের রহস্যময় মন্তব্য। মহারাষ্ট্রের রাজনীতি থেকেই সম্ভবত ইন্ডিয়া জোটের ছত্রভঙ্গ হওয়ার বার্তা প্রকট হতে চলেছে। শারদ পাওয়ার এবং অজিত পাওয়ারের দুই এনসিপি সংযুক্ত সম্ভাবনা প্রবল হয়ে উঠেছিল যখন, তখনই অজিত পাওয়ারের মৃত্যু। আর যুদ্ধকালীন তৎপরতায় সেই সংযুক্তি আটকাতেই বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব দ্রুত অজিত-পত্নী সুনেত্রা পাওয়ারকে উপমুখ্যমন্ত্রী করে দিয়েছে। শনিবার শারদ পাওয়ার একদিকে বলেছেন, অজিত পাওয়ারের ইচ্ছা ছিল দুই দলের সংযুক্তিকরণ। আবার অন্যদিকে বলেছেন, সুনেত্রা পাওয়ার যে উপমুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন এ ব্যাপারে তিনি কিছু জানেন না।যদি সংযুক্তিকরণ হয়, তাহলে কি বিজেপির জোটে তিনিও থাকবেন? এই প্রশ্নের উত্তরে শারদ পাওয়ার কোনও সদুত্তর দেননি। পুরসভা ভোটের প্রাক্কালে রাজ থ্যাকারের সঙ্গে উদ্ধব থ্যাকারের পুনর্মিলন হয়ে যায়। যা কংগ্রেসের কাছে মোটেই গ্রহণযোগ্য হয়নি। আর এবার দুই এনসিপির মিলনের সম্ভাবনা। সুতরাং সবথেকে একাকী হয়ে যাচ্ছে কংগ্রেস। প্রধান প্রশ্ন এই রাজ্যে ইন্ডিয়া জোটের তাহলে ভবিষ্যৎ কী? এমনকি অন্য রাজ্যেও। কারণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করবেন না, সেটা নিয়ে সংশয় নেই। অখিলেশ যাদব আগাম আভাস দিচ্ছেন যে, ২০২৭ সালের বিধানসভা ভোটে তিনিও আর কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করতে আগ্রহী নন। তেজস্বী যাদব বিহার ভোটের পরই জানিয়েছেন কংগ্রেস সম্পর্কে তাঁর ক্ষোভের কথা। অতএব আদতে ইন্ডিয়া জোটের অস্তিত্বই নড়বড়ে। এমতাবস্থায় মহারাষ্ট্র থেকেই জোটের ইতি কি না, প্রশ্ন উঠছে। কারণ, শারদ পাওয়ার এবং উদ্ধব থ্যাকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের সঙ্গে কংগ্রেস দূরত্ব বজায় রাখছে। পুরসভা ভোটে ইন্ডিয়া জোট বলে কিছু ছিলই না মহারাষ্ট্রে। আর তার পরিণাম মুখ থুবড়ে পড়া। সুতরাং শুধু যে মহারাষ্ট্রের রাজনীতি বদলাতে চলেছে এমন নয়। জাতীয় স্তরের জোট সমীকরণেও ছায়া পড়তে চলেছে।