• আজ কেন্দ্রীয় বাজেট, ভোটমুখী বাংলার ভাগ্যে কী? শুরু জল্পনা
    বর্তমান | ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ১৫ বছরের খরা আর কাটছে না। ২০১১ সালে শেষবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রেল বাজেটে বাংলা পেয়েছিল একঝাঁক উপহার। কোচ ফ্যাক্টরি থেকে একাধিক দুরন্ত এক্সপ্রেস। মেট্রোর সম্প্রসারণ অথবা ট্রাক টার্মিনাল। তারপর থেকে ক্রমেই বাংলার ভাগ্যাকাশে শুধুই বঞ্চনার কালো মেঘে। মোদি সরকার রেলবাজেট বন্ধই করে দিয়েছে। আর কেন্দ্রীয় বাজেটে বাকি সব রাজ্যের জন্য কিছু না কিছু উপহার বিগত ১২ বছর ধরে দেওয়া গেলেও একমাত্র ব্যতিক্রম বাংলা। অরুণ জেটলি থেকে নির্মলা সীতারামন, অর্থমন্ত্রীদের নাম বদলে গেলেও বাংলার দুর্ভাগ্য বদলায়নি। কোনও বাজেটেই বাংলার উন্নয়নের আলো পাওয়া যায়নি। কারণ হয়ত একটাই। ২০১৪ সাল থেকে ২০২৫। ১১ বছরে বাংলা দখল করা অধরা রয়ে গিয়েছে নরেন্দ্র মোদির বিজেপির। ৫টি নির্বাচনেই প্রত্যাখ্যাত হয়েছে তারা। তাই বাংলাকে বঞ্চনারপাশাপাশি শাস্তিও দেওয়া হয়েছে। কখনও সামাজিক প্রকল্পের টাকা আটকে দিয়ে, কখনও আবার প্রকল্প স্থগিত রেখে দিয়ে।আরও একটি নির্বাচন শিয়রে। তাই প্রশ্ন উঠছে, বাংলার ভাগ্য কি এবার অন্তত বদলাবে? ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের দিকে তাকিয়ে বাংলাকে আজ নির্মলা সীতারামন কি কিছু উপহার দিতে চলেছেন? নাকি এবারও সেই বঞ্চনা? সরকারি সূত্রের দাবি, বাংলা, অসম, কেরল, তামিলনাড়ু আজ বাজেটে বিশেষ কিছু উপহার পেতে চলেছে। যদিও নতুন প্রকল্প কেন্দ্রিক সেই উপহার, নাকি  পুরনো প্রকল্পের বরাদ্দ বৃদ্ধি তা স্পষ্ট নয়। জানা যাচ্ছে, বাংলার নাম আজ বাজেট প্রস্তাবে প্রধানত যে প্রকল্পগুলিতে আসার সম্ভাবনা তার সিংহভাগ সড়ক ও রেল প্রকল্প। রেলমন্ত্রকের পৃথক বাজেটে ঘোষিত প্রকল্পগুলির বাজেট বৃদ্ধির সম্ভাবনা। মেট্রো রেলের সম্প্রসারণের একটি প্রস্তাব আসতে পারে। দক্ষিণবঙ্গের সঙ্গে উত্তরবঙ্গের যোগাযোগের এক্সপ্রেসওয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তরবেঙ্গর জন্য থাকতে পারে বিশেষ কয়েকটি ঘোষণা।বছরের শুরুতে আয়করে ১২ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা পর্যন্ত শূন্য কর এবং বছরের শেষ অংশে জিএসটির ধাপ বদলে দিয়ে কর ছাড়। ২০২৫ সালে দুই দফায় করছাড়ের পর ২০২৬ সালে নতুন করে বড়সড় আয়করের উপহারের সম্ভাবনা নেই বলেই সরকারি সূত্রের খবর। বরং আজ বাজেটের লক্ষ্য হবে অর্থসংস্থানের পথ সন্ধান। কারণ বাণিজ্য ঘাটতি বিপুল আকার ধারণ করবে ট্রাম্পের শুল্কের ধাক্কায়। সরকারপক্ষ যতই ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে  মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিকে প্রচারের আলোয় বিরাট বড় সাফল্য হিসেবে অভিহিত করুক, বাণিজ্য মহলের শঙ্কা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হ্রাসের ক্ষতিপূরণ এই চুক্তিতে হবে না। অন্যদিকে টাকার পতন অব্যাহত। বস্তুত এই আর্থিক বছরে যে, এক ডলারের মূল্য ১০০ টাকায় পৌঁছাতে চলেছে বলে শঙ্কা সরকারের। আজ বাজেটে সামাজিক খাতে বরাদ্দ কমবে। উলটে বিপুল ব্যয়বরাদ্দ বাড়বে প্রতিরক্ষা খাতে। অন্তত ৮ লক্ষ কোটি টাকা হতে পারে প্রতিরক্ষা বাজেট। একেবারেই কি করছাড়ের সম্ভাবনা নেই? সম্ভাবনা রয়েছে সিনিয়র সিটিজেনদের লগ্নিতে করছাড়ের।গ্রামীণ অর্থনীতির ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি না পেলে ভারতীয় অর্থনীতির উজ্জ্বলতা আসে না। সেটাই থমকে রয়েছে। অতএব আজ বাজেটে পরিকাঠামো উন্নয়নে বরাদ্দ বাড়ানোর সম্ভাবনা উজ্জ্বল। যদিও বাজেটে যতটা গর্জায়, বাস্তবে ততটা কি বর্ষায়? না। কারণ, বিগত বাজেটে পরিকাঠামো নির্মাণে ১১ লক্ষ কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছিল। আরও একটি বাজেট এসে গেলেও অর্ধেক খরচ হয়নি সেই বরাদ্দ-ঘোষণার। পাশাপাশি প্রধান চ্যালেঞ্জ বেকারত্ব ঠেকানো। এ আই কিংবা বিশ্বমন্দা। কর্মী সংকোচনের ভ্রুকুটি সর্বত্র। ভারতের বেকারত্ব উদ্বেগজনক। যুবসমাজ আজ পুনরায় তাকিয়ে আরও একটি বাজেটের দিকে! চাকরির সন্ধান দিতে পারবেন আজ নির্মলা সীতারামন? কেন্দ্রের একটি সূত্রের দাবি, স্বদেশি ও আত্মনির্ভরতার বার্তা হতে চলেছে এবারের বাজেটের অন্যতম মন্ত্র। বিশেষ করে এমএসএমই সেক্টরের জন্য আসবে বিশেষ প্যাকেজ।
  • Link to this news (বর্তমান)