২০ কেজির টিউমার-কোলনে স্টেজ ফোর ক্যানসার, মহিলাকে সুস্থ করে বিরল সাফল্য বাঙালি ডাক্তারের
বর্তমান | ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: স্টেজ-ফোর কোলন ক্যানসারও সেরে যেতে পারে। প্রমাণ করল এইমস। প্রায় অসম্ভবকে সম্ভব করে সাফল্যের সোপানে পা দিলেন দিল্লি এইমসের বাঙালি চিকিৎসক মুকুরদীপি রায়। ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ। ১৯.৯ কেজি ওজনের বিশাল মাপের টিউমার বের করে সম্পূর্ণ সুস্থ করে তুললেন দুর্গাপুরের মুনমুন ওঝাকে। ৪২ বছরের এই মহিলা গৃহবধূ। স্বামী প্রমোদ ওঝা স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। গত কয়েক বছর ধরে কোলন ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন মুনমুন। অনেক চিকিৎসার পরও ফল হয়নি। এমনকী এইমসও গোড়ার দিকে আশার আলো দেখাতে পারেনি। প্যালিয়েটিভ কেমোথেরাপি দিয়ে ছুটি দিতে চেয়েছিল।ওই অবস্থায় মুনমুনের চিকিৎসার দায়িত্ব নেন এইমসের অঙ্কোলজির অধ্যাপক মুকুরদীপি রায়। এ ধরনের কঠিন অস্ত্রোপচারকে রীতিমতো চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিতেই পছন্দ করেন কলকাতা মেডিকেল কলেজের প্রাক্তনী। শেষপর্যন্ত চেষ্টা চালান যাতে রোগী এবং তাঁর পরিবারের মুখে হাসি ফোটানো যায়। মুনমুন এবং তাঁর পরিবার যা পেয়েছেন।২০২৪ সালের ৩০ জুলাই এইমসে ভর্তি হয়েছিলেন মুনমুন। কিন্তু কেমো ছাড়া গতি নেই বলে একপ্রকার নিরাশ হয়ে যখন পশ্চিমবঙ্গে ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তখনই মুকুরদীপির রায়ের নজরে আসে বিষয়টি। নানা ধরনের ক্যানসারে তাঁর প্রায় ১৫ হাজার অস্ত্রোপচারের অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাঁর গবেষণাপত্র সমাদৃত দেশে বিদেশে।১২ এবং ১৫ জানুয়ারি দু’ দফায় অস্ত্রোপচার হয় মুনমুনের। প্রথমদিন আট ঘণ্টা লাগে। দ্বিতীয় দিনে হয় আরও কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ তিন ঘণ্টার অস্ত্রোপচার। পাঁচদিন পর সুস্থ হন। ছুটি পেয়ে ফিরে গিয়েছেন দুর্গাপুরে।মাল্টি অর্গানে জড়িয়ে থাকা এই টিউমারের সফল অস্ত্রোপচারের কাণ্ডারি ডাঃ মুকুরদীপি বললেন, অত্যন্ত কঠিন ছিল অস্ত্রোপচার। প্রায় ২০ কেজি ওজনের এত বড় টিউমারই নয়। সেটি পেটের মধ্যে থাকা বিভিন্ন অর্গানকে স্পর্শ করে বেড়ে উঠেছিল। তাই সেসব বাঁচিয়ে অস্ত্রোপচার কঠিন। তবে ঠাকুরের আশীর্বাদে সফল হয়েছে। এইমসের পুরো টিমেরই সহযোগিতাতেই সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, সাধারণত প্রচুর পরিমাণ রেড মিট, ফাস্ট ফুড খাওয়ার জন্য এ ধরনের ক্যান্সারের ঝুঁকি থাকে। তাই আচমকা শরীরের ওজন অস্বাভাবিক কমে যাওয়া, মলের সঙ্গে রক্ত বেরনো, মলত্যাগে সময়ের হেরফের (কখনও সকালে, কখনও দুপুরে, রাতে), অ্যানিমিয়া, শরীরে দুর্বলতা, ডায়েরিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য হলে অবহেলা করা উচিত নয়। সেটি হতেই পারে কোলন ক্যান্সার। তবে আশার কথা, স্টেজ ফোর হলেও তা সারিয়ে তোলা যায়।