• এসআইআর: অফিসে যাওয়ার তাড়ায় দুর্ঘটনায় মৃত্যু ডেটা এন্ট্রি অপারেটরের
    বর্তমান | ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি ও সংবাদদাতা, ময়নাগুড়ি: এসআইআরের কাজের চাপ। সময়ে অফিসে পৌঁছনোর তাড়া। সেকারণে বাস ছেড়ে স্কুটার নিয়েই বেলাকোবা থেকে ময়নাগুড়ি বিডিও অফিসের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন দু’জন মহিলা ডেটা এন্ট্রি অপারেটর। কিন্তু বাড়ি থেকে কিছুটা দূর যেতেই জাতীয় সড়কে দুর্ঘটনার কবলে পড়েন তাঁরা। পিছন থেকে একটি ডাম্পার এসে সজোরে ধাক্কা মারে স্কুটারে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় একজনের। অন্যজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় জলপাইগুড়ি মেডিকেলের অধীন সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পুলিশ ও পরিবার সূত্রে খবর, মৃতের নাম শম্পা রায় (২৭)। বাড়ি বেলাকোবার হাসপাতাল পাড়ায়। তিনি ময়নাগুড়ি ব্লক খাদ্যদপ্তরের ডেটা এন্ট্রি অপারেটর ছিলেন। গুরুতর জখম হয়েছেন বছর ২৯ এর পায়েল মহন্ত হাজরা। বাড়ি বেলাকোবা স্টেশন কলোনিতে। তিনি ময়নাগুড়ি বিডিও অফিসে বাংলা সহায়তা কেন্দ্রের কর্মী।শনিবার সকাল ১০টা নাগাদ জলপাইগুড়ির দশদরগা বটতলা এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। খবর পেয়ে জলপাইগুড়ি সদর হাসপাতালের মর্গে এসে মৃতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন ময়নাগুড়ির বিডিও প্রসেনজিৎ কুণ্ডু। তিনি বলেন, অত্যন্ত মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। দু’জনেই এসআইআরের কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। আমরা মৃতের পরিবারের পাশে থাকব। জখম কর্মীর চিকিৎসার ব্যাপারে খোঁজখবর রাখা হচ্ছে।স্থানীয় সূত্রে খবর, পায়েল স্কুটার চালাচ্ছিলেন। পিছনে বসেছিলেন শম্পা। অন্যদিন পায়েল বাড়ি থেকে স্কুটার নিয়ে বেরলেও দশদরগায় রেখে বাসে করে ময়নাগুড়িতে কাজে যেতেন। কিন্তু এদিন বাড়ি থেকে বেরতে কিছুটা দেরি হয়ে যাওয়ায় ময়নাগুড়ি পর্যন্ত স্কুটারেই যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পথে স্কুটারে তুলে নেন সহকর্মী শম্পাকে। পায়েলের স্বামী শিবু হাজরার অভিযোগ, এসআইআরের কাজের চাপের জন্য সময়ে অফিসে পৌঁছনোর তাড়া থাকায় এদিন বাস ছেড়ে স্কুটার নিয়ে ময়নাগুড়িতে যাচ্ছিল স্ত্রী। কিন্তু তারপরও যদি অফিসে পৌঁছতে দেরি হয়ে যায় সেক্ষেত্রে কী হবে, এনিয়ে হয়ত টেনশন করতে গিয়েই জাতীয় সড়কে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। সঙ্গে শম্পা রায় নামে স্ত্রীর একজন সহকর্মী ছিলেন। দুর্ঘটনায় শম্পার মৃত্যু হয়েছে। স্ত্রীর অবস্থাও আশঙ্কাজনক।পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারি কর্মচারী ফেডারেশনের জলপাইগুড়ি শাখার সম্পাদক সব্যসাচী বক্সি বলেন, এসআইআরের ডিউটি করতে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে শম্পা রায়ের। আরও একজন বিএসকে কর্মী ওই দুর্ঘটনায় জখম হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এসআইআরে এতটাই কাজের চাপ যে, সময়ে অফিসে পৌঁছনোর তাড়া থাকায় বাস ছেড়ে তাঁরা স্কুটার নিয়ে যাচ্ছিলেন। পরিবারে একমাত্র রোজগেরে ছিলেন শম্পা। তাঁরা পাঁচ বোন। বাড়িতে বাবা-মা রয়েছেন। শম্পার মর্মান্তিক মৃত্যুতে তাঁর গোটা পরিবার চরম অসহায় হয়ে পড়ল।ময়নাগুড়ি ব্লক খাদ্য পরিদর্শক রাজেশ পণ্ডিত বলেন, খুবই মর্মান্তিক ঘটনা। শম্পা আগে ধুপগুড়িতে ছিলেন। যেহেতু এসআইআর চলছে, সে কারণে তিনি প্রতিদিন তাড়াতাড়ি অফিসে আসতেন। হঠাৎ স্কুটারেও আসতেন। এমন ঘটনা আমরা মেনে নিতে পারছি না।
  • Link to this news (বর্তমান)