• রেজিস্ট্রেশন করেও মাধ্যমিকে বসছে না ৬০২৪ পড়ুয়া, উদ্বিগ্ন শিক্ষামহল
    বর্তমান | ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: পূর্ব মেদিনীপুরে মাধ্যমিকের জন্য রেজিস্ট্রেশন করেও পরীক্ষা দিচ্ছে না ৬০২৪জন ছাত্রছাত্রী। এই জেলায় নবম শ্রেণির মোট ৬৭ হাজার ৪৮১জন ছাত্রছাত্রী মাধ্যমিকের রেজিস্ট্রেশন করেছিল। অথচ পরীক্ষায় বসছে ৬১ হাজার ৪৫৭জন। আগামীকাল, সোমবার থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু। তারজন্য ছাত্রছাত্রীরা অ্যাডমিট কার্ড সংগ্রহ করেছে। মাত্র এক বছরেই ড্রপআউটের শিকার ৬০২৪জন। শিক্ষায় এগিয়ে থাকা পূর্ব মেদিনীপুরে মাধ্যমিক স্তরে ড্রপআউটের এই পরিসংখ্যান বেশ উদ্বেগজনক। ড্রপআউট তালিকায় ছাত্রেত সংখ্যা ৩৪৬৯, ছাত্রী ২৫৫৫জন।নবম শ্রেণিতে পড়ার সময়ই পড়ুয়াদের রেজিস্ট্রেশন হয়ে যায়। সেটাই মাধ্যমিকের রেজিস্ট্রেশন হিসাবে ধরা হয়। পূর্ব মেদিনীপুরে এরকম মোট ৬৭ হাজার ৪৮১জন পড়ুয়া ২০২৬ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসার জন্য রেজিস্ট্রেশন করেছিল। তাদের মধ্যে ছাত্র সংখ্যা ৩২ হাজার ৫৮২জন। ছাত্রী সংখ্যা ছিল ৩৪ হাজার ৮৯৯জন। যদিও ২ ফেব্রুয়ারি জেলার মোট ৬১ হাজার ৪৫৭জন মাধ্যমিকে বসতে চলেছে বলে শনিবার মাধ্যমিক-’২৬ এর পূর্ব মেদিনীপুরের ডিস্ট্রিক্ট কনভেনর সত্যজিৎ কর জানিয়েছেন। তাদের মধ্যে ছাত্র সংখ্যা ২৯ হাজার ১১৩জন। ছাত্রীর সংখ্যা ৩২ হাজার ৩৪৪জন।জানা গিয়েছে, ছাত্রদের মধ্যে অনেকেই পরিযায়ী শ্রমিক। রোজগারের জন্য তাদের কেউ ওড়িশা, অন্ধ্রপ্রদেশ কিংবা মহারাষ্ট্রে চলে গিয়েছে। পরীক্ষার আগে এরকম বেশকিছু ছাত্রকে ডেকে পাঠিয়েছেন স্কুলের শিক্ষকরা। তাদের সকলে স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের ডাকে সাড়া দিচ্ছে এমনটা নয়। আবার ছাত্রীদের মধ্যে বিয়ে কিংবা প্রেম করে পালানোর ঘটনাও ঘটছে। এভাবেই মাধ্যমিকস্তরে ড্রপআউটের সংখ্যা বেড়েছে।তমলুক ব্লকের কুলবেড়্যা ভীমদেব আদর্শ বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষক রবীন্দ্রনাথ বেরা বলেন, আমাদের স্কুলে দশম শ্রেণির ছ’-সাতজন ছাত্র ভিনরাজ্যে চলে গিয়েছিল। তাদের সেখান থেকে এনে মাধ্যমিকে বসানোর উদ্যোগ নিয়েছি। এছাড়া, এক ছাত্রী প্রেম করে বিয়ে করেছে। তাকেও পরীক্ষায় বসানোর চেষ্টা চলছে। শেষমেশ বসবে কি না, জানি না।তমলুকের কেলোমাল সন্তোষিনী হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক মৃন্ময় মাজি বলেন, নবম ও দশম শ্রেণিতে পড়ার সময়ই পড়ুয়ারা রোজগার করতে শুরু করছে। কেউ দোকানে চলে যাচ্ছে। আবার অনেকে অন্য রাজ্যে যাচ্ছে। যেকারণে মাধ্যমিক স্তরেই ড্রপআউট হচ্ছে।এবছর পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় মোট ৬৬৪টি বিদ্যালয় থেকে মোট ৬১ হাজার ৪৫৭জন ছাত্রছাত্রী মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসবে। গত বছরের তুলনায় প্রায় দেড় হাজার পরীক্ষার্থী বাড়ছে। মোট সেন্টারের সংখ্যা ১১৫টি। তার মধ্যে মেন সেন্টার ৬৭টি। সাবভেন্যু আরও ৪৮টি। মোট ২১টি কাস্টডিয়ানে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র থাকছে। এবার জেলায় তিনটি পরীক্ষা কেন্দ্র বেড়েছে। এছাড়াও, আরও চারটি কেন্দ্র বদল করা হয়েছে। এভাবে মোট সাতটি নতুন পরীক্ষা কেন্দ্রে মাধ্যমিক হবে। তমলুক শহরের ঐতিহ্যবাহী হ্যামিল্টন হাইস্কুল, নন্দীগ্রামের কাঞ্চননগর দিদারুদ্দিন বিদ্যাভবন, চণ্ডীপুরের ধান্যশ্রী কেসি হাইস্কুল, পাঁশকুড়ার পূর্ব শুকুতিয়া গোপালকৃষ্ণ বালিকা বিদ্যালয়, ভগবানপুর-১ ব্লকের মহম্মদপুর দেশপ্রাণ বিদ্যাপীঠ, খেজুরি-২ ব্লকের কশাড়িয়া হাইস্কুল এবং পটাশপুর-২ ব্লকের বাল্যগোবিন্দপুর জ্ঞানকর্ম বিদ্যাপীঠে নতুন সেন্টার হচ্ছে।
  • Link to this news (বর্তমান)