হলদিয়ায় বাস-বাইকের ধাক্কা, মৃত ৪, ছেলের মৃত্যুর কিছুদিনের মধ্যে প্রাণ গেল বাবা-মা ও মেয়ের
বর্তমান | ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সংবাদদাতা, হলদিয়া: শনিবার হলদিয়ায় বাস ও বাইকের সংঘর্ষে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে একই বাইকে থাকা একই পরিবারের স্বামী, স্ত্রী ও তাঁদের কিশোরী মেয়ের প্রাণ গিয়েছে। দুপুরে তমলুকে জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাস চালকেরও মৃত্যু হয়। জখম হয়েছেন ন’জন যাত্রী। এদিন সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটেছে হলদিয়ার সুতাহাটা থানার ঘোষেরমোড় এলাকায় বালুঘাটা-কুঁকড়াহাটি রোডে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতদের নাম অরূপ মণ্ডল(৫২), প্রতিমা মণ্ডল(৪২) এবং তাঁদের কন্যা সুজিতা মণ্ডল(১৩)। এদের বাড়ি সুতাহাটার গুয়াবেড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের কৃষ্ণনগরে। মৃত বাস চালকের নাম মহাদেব শাসমল(৪৫)। তাঁর বাড়ি হলদিয়া পুরসভার ২০ নম্বর ওয়ার্ডের বালুঘাটায়। জখম ন’জনের মধ্যে বাসযাত্রী ও গাড়ির চালক ছিলেন। তাঁদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চারজন তমলুক হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। বাকি পাঁচজনের হলদিয়া মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে। দুর্ঘটনার পরই ঘটনাস্থলে যান হলদিয়ার এসডিপিও অরিন্দম অধিকারী। এদিন বিকেলে হলদিয়া মহকুমা হাসপাতালে এসে চিকিৎসাধীন রোগীদের বিষয়ে খোঁজ খবর নেন জেলাশাসক ইউনিস রিশিন ইসমাইল। তাঁর সঙ্গে ছিলেন মহকুমা শাসক তীর্থঙ্কর বিশ্বাস ও বিধায়ক তাপসী মণ্ডল। এদিন দুর্ঘটনার পর থেকে ওই রুটে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কুঁকড়াহাটিগামী বাসটি এদিন সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। তবে, দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে ধন্দ রয়েছে। একটি সূত্রের দাবি, উল্টোদিক থেকে আসা বাইককে বাঁচাতে গিয়ে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারায়। শেষমেস বাস ও বাইকের সংঘর্ষ ঘটে। এরপর বাইক সহ বাস রাস্তার পাশের জলের পাইপ লাইনের একটি কংক্রিটের পিলারে ধাক্কা মারে। দুর্ঘটনায় বাইক আরোহী তিনজন ছিটকে পড়ে কয়েক মিটার দূরে। অন্য একটি সূত্রের দাবি, স্টিয়ারিং কেটে গিয়ে বাসটি মুহূর্তের মধ্যে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধাক্কা মারে চৈতন্যপুরের দিক থেকে আসা ওই বাইকে। পুলিশ দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে তদন্তে নেমেছে। দুর্ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে দেখা হছে। ওই বাসে এদিন ২০-২২জন যাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনার পর বাসের সিটেই আটকে গিয়েছিলেন চালক। হাইড্রা মেশিন এনে দরজা ভেঙে চালককে উদ্ধার করেন স্থানীয়রা।স্থানীয়রা বলেন, একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যুর খবর পৌঁছতেই শোকের ছায়া নামে কৃষ্ণনগর গ্রামে। সুতাহাটা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি অশোক মিশ্র বলেন, ১৮দিন আগে হঠাৎই অসুস্থ হয়ে অরূপবাবুর ছেলে সৌভিক মণ্ডল মারা যান। তিনি হলদিয়ার একটি বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ছাত্র ছিলেন। সন্তানের মৃত্যুর পর পরিবারের সকলের মন খারাপ ছিল। তাই শ্রাদ্ধের পরই এদিন বাইকে চেপে গৌরাঙ্গ ধাম মন্দিরে পুজো দিতে যাচ্ছিলেন বাড়ির সবাই। এদিকে চালক মহাদেব শাসমলের মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ পরিবার ও আত্মীয়স্বজন। বিকেলে মহকুমা হাসপাতালে গিয়ে জখমদের পরিবারের উদ্বিগ্ন আত্মীয়স্বজনকে চিকিৎসা নিয়ে আশ্বস্ত করেন জেলাশাসক। তিনি বলেন, দুর্ঘটনায় জখমদের পাশে রয়েছে প্রশাসন। চিকিৎসার সমস্ত খরচ বহন করবে রাজ্য সরকার। বিধায়ক তাপসী মণ্ডল বলেন, দুর্ঘটনার বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী খোঁজ নিয়েছেন। মৃতদের প্রত্যেকের নামে ২ লক্ষ করে টাকা ও জখমদের ৫০হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেবে রাজ্য সরকার।