সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: ২০০২ সালে ভোটার তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও পাড়া ব্লকের চৌতলা গ্রামের আদিবাসী বৃদ্ধ দুর্জন মাঝিকে(৮২) শুনানির নোটিস দেওয়া হয়েছিল। নোটিস পাওয়ার পরেই বৃদ্ধ আতঙ্কে ভুগছিলেন। সেই আতঙ্কে গত ২৯ডিসেম্বর বৃদ্ধ আত্মঘাতী হন বলে পরিবার ও তৃণমূলের তরফে অভিযোগ তোলা হয়। মৃতের ছেলে কানাই মাঝি বাবার মৃত্যুর জন্য নির্বাচন কমিশনকে দায়ী করেন। তাই ঘটনার দিন পাড়া থানায় নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। এবার বাবার মৃত্যুর প্রতিবাদ জানাতে আগামী সোমবার তৃণমূল প্রতিনিধি দলের সঙ্গে দিল্লির নির্বাচন কমিশন দপ্তরে যাবেন কানাইবাবু। ইতিমধ্যে কানাইবাবু দিল্লির বাংলা ভবনে পৌঁছে গিয়েছেন। বর্তমানে সেখানেই রয়েছেন। এসআইআরের নামে সাধারণ মানুষকে হেনস্তা বাংলার মানুষ মেনে নিচ্ছে না। তাই দিকে দিকে বাংলার মানুষ প্রতিবাদে মুখর হচ্ছে।কানাইবাবু বলেন, নির্বাচন কমিশন সাধারণ মানুষকে যেভাবে হেনস্তা করছে তাতে মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়ছে। বাবার মৃত্যুর জন্য যারা দায়ী, তাদের দায় নিতে হবে। তাই দিল্লি এসেছি।বিজেপি বিধায়ক নদীয়ার চাঁদ বাউরি বলেন, বৈধ ভোটার কারও নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাবে না। এসআইআরের নামে তৃণমূল সাধারণ মানুষকে ভয় দেখাচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্জনবাবু ইনিউমারেশন ফর্ম সঠিকভাবে পূরণ করে জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু, তাঁকে নো ম্যাপিং বলে শুনানির নোটিস দেওয়া হয়েছিল। তাই ওইদিন ব্লকে শুনানি ক্যাম্পে যাওয়ার জন্য আনাড়া বাজারে টোটো ডাকতে যাচ্ছিলেন বলে বাড়ি থেকে বের হন। কিছুক্ষণ পরেই ট্রেনে কাটা পড়ার খবর আসে। আদ্রা ডিভিশনের আনাড়া-রুকনি শাখার চৌতলা গ্রামের কাছে বৃদ্ধের ট্রেনে কাটা পড়া মৃতদেহ উদ্ধার হয়। খবর পেয়ে তৃণমূল নেতৃত্ব সহ পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। ওইদিন ঘটনাকে ঘিরে সমস্ত পাড়া ব্লক উত্তাল হয়ে ওঠে। তৃণমূলের তরফে বিডিওকে ডেপুটেশন দেওয়া হয়। প্রতিবাদ মিছিল ও বিক্ষোভ সভা হয়।তৃণমূল ছাত্র পরিষদের জেলা সভাপতি কিরীটী আচার্য বলেন, বৃহস্পতিবার পাড়া থেকে কানাইবাবু দিল্লি রওনা দিয়েছেন। বর্তমানে তিনি দিল্লির বাংলা ভবনে আছেন। দলের তরফে সমস্ত ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমাদের দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সোমবার নির্বাচন কমিশনের কাছে তাঁর বাবার মৃত্যুর প্রতিবাদ জানাতে শামিল হবেন। আত্মঘাতী দুর্জন মাঝির ছেলে কানাই মাঝি দিল্লিতে পৌঁছেছেন।