• কুকুরমুক্ত রাখতে হবে স্কুলচত্বর, দায়িত্বে থাকবেন নোডাল শিক্ষক
    বর্তমান | ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এসআইআর নিয়ে এমনিতেই বিধ্বস্ত হয়ে রয়েছেন স্কুলশিক্ষকরা। এবার সুপ্রিম কোর্টের রায়কে মর্যাদা দিতে ছাত্র সামলানোর পাশাপাশি স্কুল চত্বরের কুকুর সামলানোর দায়িত্বও তাঁদের নিতে হচ্ছে। ৭ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া রায়ের প্রেক্ষিতে বিকাশ ভবন নির্দেশ দিয়েছে, প্রত্যেক স্কুলে এই কাজের জন্য একজন শিক্ষককে দায়িত্ব দিতে হবে। পথকুকুর থেকে স্কুল চত্বরকে মুক্ত এবং নিরাপদ রাখার দায়িত্ব এই নোডাল শিক্ষকদের। কুকুরের জন্য কোনোরকম অপরিচ্ছন্নতা তৈরি হলে দায়িত্বও তাঁদের নিতে হবে। পুরসভা বা পঞ্চায়েতের মতো সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ রেখে এই কাজটি করবেন সেই শিক্ষকরা। শিক্ষা কমিশনারের তরফে এই বার্তাগুলি ডিআইদের মাধ্যমে পৌঁছে গিয়েছে স্কুলে স্কুলে।দিল্লিতে জলাতঙ্ক নিয়ে হইচই হওয়ার পর শিক্ষাদপ্তর একটি নির্দেশিকা দিয়েছিল। তাতে কুকুর নিয়ে পড়ুয়াদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছিল। বিশেষ করে রোগাক্রান্ত বা অস্বাভাবিক আচরণ করা কুকুরদের থেকে দূরে থাকতে বলা হয়। পাশাপাশি বলা হয়েছিল, পথকুকুরদের সঙ্গে যেন কোনোরকম আক্রমণাত্মক আচরণ না করা হয়। এই অবস্থায় প্রধান শিক্ষকদের একটি সংগঠন পশুপ্রেমী তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মানেকা গান্ধীকে চিঠি লিখে জানায়, এই অর্ডারের ফলে পড়ুয়াদের মধ্যে পথকুকুরদের প্রতি বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হবে। তাদের মধ্যে ছোটো থেকে পশুদের প্রতি সহমর্মিতা তৈরির অন্তরায় হয়ে উঠবে এই নির্দেশ। যদিও মানেকা গান্ধীর দপ্তর থেকে আসা চিঠিতে অর্ডারটিকে যুক্তিসঙ্গতই বলা হয়েছিল। নিরাপত্তার অধিকার যে পড়ুয়াদের রয়েছে, তা স্পষ্ট করে বলা হয়। প্রয়োজনে স্কুলের উদ্বৃত্ত মিড ডে মিল থেকে যাতে পথকুকুরদের খাওয়ানো হয়, সেই ব্যবস্থা চালুর পরামর্শও দেওয়া হয় চিঠিতে। সেরকম অর্ডারও পরে জারি হয়েছিল। তবে, হাসপাতাল, সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য শিক্ষাকেন্দ্রকে পথকুকুর মুক্ত করা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের কড়া প্রতিক্রিয়ার পর ছবিটি বদলে গিয়েছে। এখন সতর্ক থেকে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নয়, বরং ক্যাম্পাস কুকুরমুক্ত রাখার উপরেই জোর দিতে হচ্ছে প্রশাসনকে। শিক্ষাদপ্তরের এই নির্দেশও তারই ফলশ্রুতি। শিক্ষক সংগঠন এসটিইএ’র অন্যতম নেতা অনিমেষ হালদার বলেন, ‘একবার নির্দেশ আসছে কুকুরদের মিড ডে মিল করে খাওয়াতে হবে। আবার এখন বলা হচ্ছে, স্কুলচত্বর বেওয়ারিশ কুকুরমুক্ত রাখতে হবে। শিক্ষকরা এখন দোটানায়।’
  • Link to this news (বর্তমান)