• বিজেপি সাংসদই তো কাঁটাতারের বেড়া খুলে দিতে বলছেন! স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ঠেস অভিষেকের
    বর্তমান | ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বাংলায় ভোট প্রচারে এসে একই দিনে জোড়া কর্মসূচি থেকে রাজ্য সরকার এবং তৃণমূলকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। যার জবাব দিয়েছেন রাজ্যের শাসকদলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দিল্লি যাওয়ার পথে বিমানবন্দরে  তাঁর কটাক্ষের সুর—‘নির্বাচনের সময় হয়েছে, তাই এখন প্রতিমাসে অমিত শাহ আসছেন।  কিন্তু নির্বাচনের পরে তাঁকে কি আর খুঁজে পাওয়া যাবে!’ প্রত্যয়ী অভিষেক—‘যতবার ইচ্ছে আসুন, বাংলা কিন্তু তৃণমূলের হাতেই থাকবে।’তৃণমূলের বিরুদ্ধে শাহ এনেছেন দুর্নীতির অভিযোগ। তারও জবাব দিয়েছেন অভিষেক। তাঁর নিশানা—‘অমিত শাহ! আপনার পাশেই মঞ্চে দুর্নীতিগ্রস্তরা বসে আছেন। হাস্যকর কথা বলবেন না। বাংলা, অসম, মহারাষ্ট্র সহ দেশের একাধিক জায়গায় বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির ভুরি ভুরি অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নিতে পারেননি?’ অভিষেক বলেন, ‘নীরব মোদী ও মেহুল চোকসিদের দেখা গিয়েছে মোদীর সঙ্গে। সবাই তা জানে। এরা নিশ্চয়ই কেউ ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ নন!অনুপ্রবেশের ইস্যু তুলে ধরে শাহ আক্রমণ শানিয়েছেন রাজ্য সরকারকে। যার জবাবে অভিষেক বলেন, ‘প্রকাশ্য সভায় বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকার বলেছেন, তাঁরা ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশের সঙ্গে সীমান্ত খুলে দেওয়া হবে। এই মন্তব্যের পরও জগন্নাথের বিরুদ্ধে কেন কোনো ব্যবস্থা অমিত শাহ নিলেন না? তাহলে কী জগন্নাথ সরকারের বক্তব্যকে সমর্থন করেন অমিত শাহ!’ অভিষেকের প্রশ্ন, ‘এসআইআর প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে কতজন রোহিঙ্গা এবং বাংলাদেশি ধরা পড়েছে, তার তালিকা কেন নির্বাচন কমিশন প্রকাশ করতে পারল না? আনন্দপুরের অগ্নিকাণ্ড ও প্রাণহানির ঘটনাকেও তুলে ধরে তৃণমূল সরকারকে আক্রমণ করেছেন অমিত শাহ। প্রেক্ষিতে অভিষেক বলেছেন, ‘মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে পানীয় জল খেয়ে মানুষ মারা গিয়েছেন। এরজন্য তাহলে নরেন্দ্র মোদি দায়ী?’এদিকে বাম ও তৃণমূল জমানার তুলনা টানতে গিয়ে অমিত শাহ কার্যত সার্টিফিকেট দিয়েছেন সিপিএমকে। যা নিয়ে তৃণমূল সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য, অমিত শাহ বাংলার ইতিহাস জানেন না। ওঁনার উচিত ছিল সিঙ্গুর, নন্দীগ্রাম, ধানতলা, বানতলা সহ সিপিএমের অত্যাচারের ইতিহাসটা পড়া। অপরদিকে অমিত শাহের ‘সার্টিফিকেট’ নিতে রাজি নয় সিপিএম। দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী বলেন, অমিত শাহকে কে বলেছে যে, বামেরা সার্টিফিকেট চায়। অমিত শাহের সার্টিফিকেট বিপজ্জনক। ওই সার্টিফিকেট বামেদের দরকার নেই।’এদিন তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক বৈঠক করেও অমিত শাহকে নিশানা করেন সাংসদ পার্থ ভৌমিক। তাঁর বক্তব্য, বারাকপুরের যে মাঠে অমিত শাহ সভা করেছেন, সেখানে খেলা বন্ধ, সরস্বতী পুজোও বন্ধ। ওখানেই আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি আইএনটিটিইউসি আবেদন করেছে, গণ অবস্থানের। যারা ওই মাঠে খেলাধূলা করত, সরস্বতী পুজো করত, তাঁদের নিয়ে অবস্থানে বসা হবে। আমরা দেখি অনুমতি দেওয়া হয় কি না।
  • Link to this news (বর্তমান)