• দু’দিনে ৮২ হাজার টাকা পতন রুপোর, নিম্নমুখী সোনাও, আজ বাজেটের দিকে তাকিয়ে মধ্যবিত্ত
    বর্তমান | ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দিনের পর দিন রকেট গতিতে বেড়েছে সোনার দাম। আর রুপো? সে তো গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই উল্কার মতো ছুটছিল। কিন্তু গত দু’দিনে আচমকাই সেই দৌড়ে লাগাম পড়েছে। অন্তত ১৬ হাজার টাকা কমেছে হলুদ ধাতুর দর। কিন্তু রুপোর দর ৪৮ ঘণ্টায় পড়েছে প্রায় ৮৩ হাজার টাকা। স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা বলছেন, যেটুকু দাম নেমেছে, সেটা আপাতত স্বস্তির। তবে ভবিষ্যতে তা আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা এখনো যায়নি। এক্ষেত্রে সোনার দামে কিছুটা লাগাম টানতে মধ্যবিত্তের ভরসা কেন্দ্রীয় বাজেট। আজ, রবিবার সংসদে পেশ করা বাজেটে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন সোনার উপর আমদানি শুল্ক কমান কি না, সেদিকেই নজর ক্রেতা, বিক্রেতা উভয়েরই।এখনও পর্যন্ত কলকাতায় সোনার রেকর্ড দর ওঠে গত ২৯ জানুয়ারি। ওয়েস্ট বেঙ্গল বুলিয়ান মার্চেন্টস অ্যান্ড জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই দিন ২৪ ক্যারেট সোনার দশ গ্রামের দাম ছিল ১ লক্ষ ৭৮ হাজার ৪৫০ টাকা। শনিবার তা নেমে আসে ১ লক্ষ ৬২ হাজার ৩০০ টাকায়। অর্থাৎ দু’দিনের তফাতে প্রায় ১৬ হাজার টাকা সস্তা হয়েছে সোনা। তবে সবচেয়ে চমকে দিয়েছে রুপোর দর। গত ২৯ জানুয়ারি কলকাতায় এক কিলো খুচরো রুপোর দাম গিয়েছিল ৩ লক্ষ ৮৫ হাজার ৪০০ টাকা। গত দু’দিনের ধাক্কায় শনিবার তা কমে দাঁড়িয়েছে ৩ লক্ষ ২ হাজার ৫০০ টাকায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফেডারেল ব্যাংক নিয়ে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত, মার্কিন ডলারের তুলনায় টাকার দরে পতন এবং ভূ-রাজনৈতিক টালমাটাল পরিস্থিতিই এর জন্য অনেকটাই দায়ী। তাই স্বর্ণ ব্যবসায়ী মহলে আশঙ্কা, এই সামগ্রিক অস্থিরতাই ফের টেনে তুলতে পারে সোনার দরকে। সেক্ষেত্রে উপায়?গতবছর বাজেট পেশের সময় আমদানি শুল্ক ১৫ থেকে ৬ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছিল। তার ফল মিলেছিল হাতেনাতে। সোনার দাম নেমে এসেছিল অনেকটাই। সেই উদাহরণ টেনেই এদিন রাজ্যের স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের অন্যতম সংগঠন স্বর্ণ শিল্প বাঁচাও কমিটির কার্যনির্বাহী সভাপতি সমর দে বলেন, ‘আমরা দাবি জানিয়েছি, সোনার আমদানি শুল্ক ২ শতাংশে নামিয়ে আনা হোক। তাতে দাম কমবে, চোরাপথে সোনা আমদানির প্রবণতাও কমবে। অন্যদিকে জিএসটি কাউন্সিল যাতে সোনার উপর জিএসটির হার ৩ থেকে কমিয়ে ১.২৫ শতাংশ করে, সেই দাবিও জানানো হয়েছে। এতে সরকারের রাজস্ব ক্ষতি হবে না। কারণ, গত বছর সোনার দাম যা ছিল, তা এখন আড়াই গুণ বেড়েছে। ফলে  জিইএসটির হার কমলেও, সরকারের রাজস্বে টান পড়বে না।’  গয়না কেনার ক্ষেত্রে কিস্তিতে টাকা মেটানোর সুযোগ করে দেওয়া জন্য প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর, অর্থমন্ত্রক এবং বাণিজ্য মন্ত্রকে লিখিত আর্জি জানিয়েছেন তাঁরা।
  • Link to this news (বর্তমান)