• নাজিরাবাদে বিপর্যয়ের কারণ খুঁজতে দমকল ও বিদ্যুৎ দপ্তরকে চিঠি পুলিশের
    এই সময় | ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • এই সময়: আনন্দপুরের নাজিরাবাদে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কোথায় গাফিলতি ছিল, সে বিষয়ে জানতে ধৃত তিনজনকে জেরা করা হচ্ছে। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন ডেকরেটর সংস্থার মালিক গঙ্গাধর দাস এবং মোমো প্রস্তুতকারী কারখানার দুই আধিকারিক। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গোডাউন ও সংলগ্ন কারখানাগুলিতে অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ সংযোগ এবং দাহ্য সামগ্রী মজুত সংক্রান্ত সব তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার আশায় দমকল ও বিদ্যুৎ দপ্তরের রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ। সে কারণে দুই দপ্তরকে আলাদা ভাবে চিঠি পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট হাতে এলে তদন্তের পরবর্তী দিক নির্ধারণ করা হবে।

    এ দিকে, নাজিরাবাদের ডেকরেটর্সের গোডাউন থেকে শুক্রবার পর্যন্ত মোট ২৭টি দেহাংশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে একটি আধপোড়া দেহ এবং বাকি ২৬টি পোড়া হাড়ের টুকরো। সব দেহাংশ কাঁটাপুকুর মর্গে রাখা হয়েছে। বর্তমানে চলছে ডিএনএ ম্যাচিংয়ের কাজ।

    গত রবিবারের অগ্নিকাণ্ড থেকে প্রাণে বেঁচে ফিরেছেন পাঁচজন শ্রমিক। তাঁদের অধিকাংশই পূর্ব মেদিনীপুরের বাসিন্দা। আগুন লাগার সম্ভাব্য কারণ জানতে তাঁদের সঙ্গেও কথা বলবেন তদন্তকারীরা। তবে বারুইপুর জেলা পুলিশের এক কর্তা জানিয়েছেন, বেঁচে ফেরা শ্রমিকরা এখনও ট্রমার মধ্যে রয়েছেন। আতঙ্ক কাটিয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরলে কয়েকদিন পরে তাঁদের সঙ্গে কথা বলা হবে।

    এরই মধ্যে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রাজনৈতিক চাপানউতরও তীব্র হয়েছে। শুক্রবার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপির মিছিল হয় নরেন্দ্রপুরে। থানায় ডেপুটেশনও জমা দেয় বিজেপির প্রতিনিধি দল। ওই মিছিলে ডিজে বক্স বাজানোর অভিযোগ ওঠে। তার প্রতিবাদে শনিবার একই এলাকায় পাল্টা মিছিল করে তৃণমূল কংগ্রেস। স্থানীয় বিধায়ক ফিরদৌসী বেগম,নজরুল মণ্ডলের নেতৃত্বে মিছিল থেকে বিজেপির আচরণকে ‘অমানবিক’ বলে আক্রমণ করা হয়। শনিবার কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধি দলও নাজিরাবাদের ঘটনাস্থলে যায়।

    তবে স্বজনহারা পরিবারগুলির একটাই প্রশ্ন—আর কতদিন অপেক্ষা করতে হবে প্রিয়জনের দেহাংশ পাওয়ার জন্য? প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, ডিএনএ ম্যাচিংয়ের প্রক্রিয়া শেষ হলে যত দ্রুত সম্ভব দেহাংশ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে।

  • Link to this news (এই সময়)