• জ্বালানির ব্যবহারিক বদলে শিল্পদূষণ কমানোর পরামর্শ সমীক্ষায়
    এই সময় | ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • এই সময়: সৌরবিদ্যুৎ ও বৈদ্যুতিক চুল্লির ব্যবহার এবং মোটরের আধুনিকীকরণের মতো তুলনামূলক অল্প খরচের পদক্ষেপেই রাজ্যের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পাঞ্চলে জ্বালানি খরচ এবং দূষণ—দু’টিই উল্লেখযোগ্য ভাবে কমানো সম্ভব বলে সম্প্রতি এক সমীক্ষায় দাবি করা হয়েছে।

    ‘এনার্জি অ্যাসেসমেন্ট অফ এমএসএমই মাইক্রো-ক্লাস্টার্স ইন ওয়েস্ট বেঙ্গল’ শীর্ষক সমীক্ষাটি যৌথ ভাবে পরিচালনা করেছে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট (আইআইএসডব্লিউবিএম) এবং আসর সোশ্যাল ইমপ্যাক্ট অ্যাডভাইজর্স। হাওড়া ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার শিল্পাঞ্চলে অবস্থিত ১৫টি ক্ষুদ্র শিল্প কারখানার উপরে এই সমীক্ষা চালানো হয়।

    গবেষণায় রূপোর কারুকাজ, ইঞ্জিনিয়ারিং, গ্যালভানাইজিং এবং তার উৎপাদন—এই চারটি ক্ষেত্রের শিল্পে জ্বালানি ব্যবহার এবং কার্বনের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া উৎস বিশ্লেষণ করা হয়েছে। সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, অধিকাংশ কারখানাতেই জীবাশ্ম জ্বালানির উপরে অতিরিক্ত নির্ভরতা রয়েছে। পাশাপাশি, পুরোনো ও অদক্ষ চুল্লি, কম দক্ষ মোটর এবং জ্বালানি ব্যবহারে নিয়মিত নজরদারির অভাব উৎপাদন খরচ বাড়াচ্ছে এবং অপ্রয়োজনীয় দূষণ ঘটাচ্ছে।

    সমীক্ষাদলের সুপারিশ, পাওয়ার ফ্যাক্টর সংশোধন ও লোড ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমে মোটরের আধুনিকীকরণ এবং কারখানার ছাদে সৌরবিদ্যুতের প্যানেল স্থাপনের মতো পদক্ষেপ করা প্রয়োজন। এতে মূল গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ কেনার খরচ কমবে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার মগরাহাট অঞ্চলের রূপোর কারুকাজ শিল্পের একটি উদাহরণ তুলে বলা হয়েছে, সেখানে আধুনিক পরিচালন পদ্ধতি ও বিদ্যমান বৈদ্যুতিক চুল্লির দক্ষ ব্যবহারে জ্বালানি খরচ উল্লেখযোগ্য ভাবে কমানো সম্ভব হয়েছে। গবেষকদের দাবি, এই ধরনের বিনিয়োগে কারখানাগুলির উপরে অতিরিক্ত আর্থিক চাপ পড়ে না এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিনিয়োগের অর্থ অল্প সময়ের মধ্যেই উঠে আসে।

    এমএসএমই দপ্তরের যুগ্ম অধিকর্তা মৌ সেন বলেন, ‘জ্বালানি সাশ্রয় ও পরিচ্ছন্ন প্রযুক্তির ব্যবহার এখন আর বিকল্প নয়, প্রতিযোগিতার বাজারে টিকে থাকার শর্ত। শিল্পাঞ্চলভিত্তিক এই সমীক্ষা বাস্তব সমস্যার সমাধানে সহায়ক হবে।’ আইআইএসডব্লিউবিএম-এর অধিকর্তা কষ্ণমুরারি আগরওয়াল বলেন, ‘ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে দূষণ কমানোর প্রক্রিয়া ব্যয়বহুল হওয়ার প্রয়োজন নেই। কিছু ব্যবহারিক পরিবর্তন জরুরি।’

  • Link to this news (এই সময়)