• থিয়েটার তো এখনও মাইনরিটি কালচার! সংবাদে গুরুত্ব পায়?
    এই সময় | ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • এই সময়: তুমি তোমার পথে চলো, আমি চলব আমার পথে — থিয়েটার এবং সংবাদমাধ্যমের সম্পর্ক বোধহয় এমনটাই। এক পক্ষ কী ভাবল, সে বিষয়ে অন্য পক্ষের যেন কিছুই যায় আসে না। এ ভাবে একে অন্যকে উপেক্ষা করেই কি চলতে থাকবে? এমনই বিতর্কিত বিষয় নিয়ে জমজমাট আড্ডার আসর বসেছিল বইমেলায়। কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলায় এমন আকর্ষক বিষয় নিয়ে আলোচনা যেখানে হতে পারত, হয়েছিল ঠিক সেখানেই। ১৯৮ নম্বর স্টলে। এখানেই এই সময়–এর প্যাভিলিয়নে অতিথি হিসেবে এসেছিলেন নাট্যব্যক্তিত্ব দেবাশিস এবং সেঁজুতি রায় মুখোপাধ্যায়।

    নাটক কি ‘সংখ্যালঘু’র শিল্প? এখানে ‘সংখ্যালঘু’ শব্দটা কোনও ধর্মীয় আঙ্গিক থেকে নয়, জনপ্রিয়তার নিরিখে উল্লেখ করা হয়েছে। সিনেমা এবং ওয়েব সিরিজ়ের বিপুল জনপ্রিয়তার যুগে এই প্রশ্নটাই যেন খুব বেশি প্রকট। তার সরাসরি জবাব দিতে গিয়ে এ দিন দেবাশিস বলেন, ‘শিল্পী প্রাথমিক ভাবে যা সৃষ্টি করেন, তার সবটাই নিজের জন্য। কে তাঁর শিল্পকে ভালো বলবেন, এমন ভাবনা মাথায় থাকে না। কাজেই সেদিক থেকে দেখলে, যে কোনও শিল্পই ‘সংখ্যালঘু’।

    এমন মতের বিরোধিতা করেননি সেঁজুতিও। তিনি বলেন, ‘থিয়েটার এত বছর টিকে থাকার পরেও ‘মাইনরিটি কালচার’ হিসেবেই রয়ে গিয়েছে। কিন্তু তার পরেও থিয়েটারের মধ্যে এমন কিছু থাকে, যা কোথাও একটা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছতে পারে বলেই তো আজও থিয়েটার হল হাউজ়ফুল হয়।’

    আজকের দুনিয়ায় যে কোনও কিছুই ‘পাতে দেওয়ার যোগ্য’ কি না, সেটা ঠিক করে দেয় সোশ্যাল মিডিয়া। সাধারণ মানুষের মনন ও চিন্তার প্রবাহ নির্ধারণ করে দেওয়া এই ‘সর্বশক্তিমান’ সোশ্যাল মিডিয়া কি নাটকের ভাগ্যও কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করে না? ‘করে। খুব বেশি করে’— স্পষ্ট জবাব একই সঙ্গে সেঁজুতি ও দেবাশিসের। সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনা চললে হল–এ দর্শকের সংখ্যা তো বাড়েই।

    সেই যুগে সোশ্যাল মিডিয়া ছিল না বলেই তো উৎপল দত্তর ‘গোর্কি’ মাত্র তিন জন দর্শকের সামনে অভিনীত হয়েছিল। থিয়েটার হলের সাতশো আসন ভর্তি করেছেন মানুষ, এমন দিনও গিয়েছে। কিন্তু আজ সময় বদলালেও বাংলার থিয়েটার নিজেকে বদলাতে পারেনি। এই মানসিকতার পরিবর্তন অবশ্য প্রয়োজনীয় — এমনটাই মনে করেছেন দুই নাট্য ব্যক্তিত্ব। পুরোনো মানসিকতা বজায় রেখে নতুন করে নাটক করতে গেলে তাতে নাটকের অপমৃত্যুই হয় বলে জানালেন ওঁরা।

  • Link to this news (এই সময়)