দায়িত্ব নিয়েই কলকাতা পুলিশের ‘স্বাস্থ্য’ রক্ষার টোটকা নগরপালের
আনন্দবাজার | ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
দিনের ব্যস্ত সময়ে রাস্তায় নেমে কাজ করার সঙ্গে থানার এলাকা ভাগাভাগি নিয়ে টানাপড়েনে না যাওয়ার জন্য ট্র্যাফিকের ওসি থেকে শুরু করে কনস্টেবলদের পরামর্শ দিলেন কলকাতার নতুন নগরপাল সুপ্রতিম সরকার। পাশাপাশি, তাঁর নাম করে কেউ কোনও অতিরিক্ত সুবিধা চাইলে তা না দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন নতুন নগরপাল।
শনিবারই কলকাতার নগরপাল হিসেবে দায়িত্বভার নিয়েছেন সুপ্রতিম। এ দিন বেলা সাড়ে ১২টা নাগাদ লালবাজারে এসেনতুন দায়িত্বভার গ্রহণ করেন তিনি। দায়িত্ব নিয়েই এ দিন বিকেলে কলকাতা পুলিশের প্রতিটি থানার ওসি এবং ট্র্যাফিক গার্ড-সহ নিচুতলার পুলিশকর্মীদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করেন নগরপাল। বৈঠকে তিনি কলকাতা পুলিশকে এক হয়ে কাজ করার পরামর্শ দেন। সূত্রের খবর, নগরপালের নাম করে কেউ পুলিশকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করলে সতর্ক থাকতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। সে ক্ষেত্রে পুলিশ যাতে কাউকে বাড়তি সুবিধা না দেয়, তা নিশ্চিত করার কথা বলেছেন তিনি।
শহরকে যানজটমুক্ত রাখতে প্রতিটি ট্র্যাফিক গার্ডের আধিকারিকদের সতর্ক থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন নগরপাল। ব্যস্ত সময়, অর্থাৎ সকাল, বিকেল বা সন্ধ্যার দিকে শহরের ট্র্যাফিকের গতি নিয়ে একাধিক অভিযোগ রয়েছে সাধারণ মানুষের। দায়িত্ব নিয়েই ব্যস্ত সময়ের ট্র্যাফিকের ‘রোগ’ সারাতে ট্র্যাফিক গার্ডের অফিসার থেকে কনস্টেবল, সকলকে রাস্তায় নেমে ডিউটি করার নির্দেশ দিয়েছেন নগরপাল। এ দিন বৈঠকে সিপি-র নির্দেশ, গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ট্র্যাফিক আধিকারিক এবং কনস্টেবলরা যেন রাস্তায় থাকেন।
কোনও দুর্ঘটনা বা অপরাধের তদন্তের ক্ষেত্রে দুই থানা বা গার্ডের মধ্যে সীমানা ভাগ নিয়ে টানাপড়েনের অভিযোগ মাঝেমধ্যেই শোনা যায়। এই টানাপড়েন বন্ধ করতে নির্দেশ দিয়েছেন নতুন সিপি। সকলকে এক হয়ে কাজ করার নির্দেশ দেন তিনি। সকলে যে কলকাতা পুলিশের অংশ, তা মনে করিয়ে দেন নগরপাল।
সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, এ দিন বৈঠকে নগরপাল জানান, কলকাতা পুলিশের ডাইনিং এবং লিভিং রুম হল থানা এবং ট্র্যাফিক। আর রান্নাঘর হল গোয়েন্দা বিভাগ ও গুন্ডা দমন শাখা। এগুলোই কলকাতা পুলিশের স্বাস্থ্য! ফলে সেগুলি যাতে পরিষ্কার এবং সাজানো-গোছানো থাকে, সে দিকে সব সময়ে খেয়াল রাখার নির্দেশ দিয়েছেন সিপি।