আজকাল ওয়েবডেস্ক: এসআইআর প্রক্রিয়ার শুনানি পর্বেও বাংলায় মৃত্যুমিছিল জারি রয়েছে। আবারও শুনানির আতঙ্কে ও ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার আশঙ্কায় মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়লেন এক বৃদ্ধা।
এবার ঘটনাস্থল দক্ষিণ ২৪ পরগনার জীবনতলা। মৃত বৃদ্ধার নাম, গৌরী বোস। ৬৫ বছর বয়সি ওই বৃদ্ধা আগে কোচবিহারে থাকতেন। প্রায় ১০ বছর তিনি ঘুটিয়ারি শরীফের মাখালতলা এলাকায় এক ভাড়া বাড়িতে থাকেন। প্রথমে তাঁর ছেলে থাকলেও, পরে ছেড়ে চলে যান। বর্তমানে পরিবারের কারও সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ নেই।
কোচবিহার থেকে ভোটার ও আধার কার্ডের ঠিকানাও পরিবর্তন করেন বৃদ্ধা। ঘুটিয়ারি এলাকায় ভোটও দিয়েছিলেন গত কয়েক বছরে। কিন্তু তাঁর আতঙ্ক ছিল, এই ঘুটিয়ারি এলাকায় ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তাঁর নাম ছিল না। কোচবিহারে পুরনো ভোটার তালিকায় তাঁর নাম ছিল। কিন্তু জায়গা পরিবর্তনের কারণে এই এলাকার পুরনো ভোটার তালিকায় নাম না থাকার কারণে আতঙ্কে ভুগতে শুরু করেন বৃদ্ধা।
ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার আশঙ্কায় দিন কয়েক আগে মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছিলেন বৃদ্ধা। গতকাল শনিবার রাতে ঘুমের মধ্যে মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়েন তিনি। প্রতিবেশীদের দাবি, শুনানির আতঙ্কে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে।
প্রসঙ্গত, এসআইআর আতঙ্কে বাংলায় একের পর এক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এসআইআর আতঙ্কে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে আগরপাড়ায়। প্রদীপ করের মৃত্যুতে প্রতিবেশীরা দাবি করেছিলেন, তাঁর ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে। তবুও তিনি আতঙ্কিত ছিলেন। তাই নিজেকে শেষ করে দেন।
বীরভূমের ইলামবাজারে ক্ষিতীশ মজুমদার (৯৫) এসআইআর আতঙ্কে আত্মঘাতী হয়েছেন বলেও তাঁর পরিবারের অভিযোগ ছিল। পানিহাটির প্রদীপ করের পর প্রাণ হারান পশ্চিম মেদিনীপুরের কোতোয়ালি থানার কোরা পাড়া গ্রামের বাসিন্দা ক্ষিতীশ। বেশ কয়েক মাস আগে বীরভূমে মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসে ইলামবাজারের স্কুলবাগান সুভাষপল্লীতে স্থায়ীভাবে থাকতে শুরু করেন তিনি। পরিবারের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংক্রান্ত আতঙ্কই তাঁকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দিয়েছে।
এরপর দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ভাঙড়ের জয়পুর এলাকার যুবক সফিকুল গাজি (৩৫) এসআইআর আতঙ্কে আত্মঘাতী হয়েছেন বলে তাঁর পরিবারের দাবি। তাঁরা স্ত্রী জানান, গত কয়েক দিন ধরে আতঙ্কে ছিলেন স্বামী। বারবার বলছিলেন, তাঁর কোনও পরিচয়পত্র নেই। ভাই-বাপ কেউ নেই। স্ত্রী বারবার অভয় দেওয়ার চেষ্টা করলেও গত বুধবার সকালে তিনি নিজেকে শেষ করে দেন।
এই আবহে বহরমপুর থানার অন্তর্গত গান্ধী কলোনী এলাকায় গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী হন এক ব্যবসায়ী। সেক্ষেত্রেও পরিবাররে দাবি ছিল, আত্মহত্যার কারণ এসআইআর আতঙ্ক। ২০০২ সালে ভোটার তালিকায় নাম না থাকায় ‘দেশ ছাড়তে হবে’ এই আতঙ্কে গত ৪ নভেম্বর কীটনাশক খেয়ে আত্মঘাতী হন মুর্শিদাবাদের কান্দির মোহন শেখ (৫৫)।