• কমল জিএসটি, সুফল কি পাবেন বিড়ি শ্রমিকরা?
    আজকাল | ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে মুর্শিদাবাদ জেলার বিড়ি শিল্পের সঙ্গে জড়িত মালিক এবং শ্রমিকদের জন্য  বড় সুখবর শোনালেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। পানমশলা, সিগারেটের মতো তামাকজাত দ্রব্যের উপর এক ধাক্কায় ৪০  শতাংশ জিএসটি বসালেও বিড়ি শিল্পকে কিছুটা নিস্তার দিয়ে প্রস্তাবিত জিএসটি 'স্ল্যাব'  ২৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করার কথা ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। প্রস্তাবিত নতুন কর কাঠামো রবিবার থেকেই চালু হয়ে যাচ্ছে। 

    গতবছর কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে বিড়ি ,সিগারেট এবং তামাকজাত দ্রব্যের উপর ৪০ শতাংশ জিএসটি লাগু করার প্রস্তাব কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়েছিল। তারপর থেকেই আশঙ্কার মেঘ জমেছিল মুর্শিদাবাদের বিড়ি শিল্পের সঙ্গে জড়িত মালিক এবং শ্রমিকপক্ষের মধ্যে। মুর্শিদাবাদ জেলায়  প্রায় ১৭লক্ষ মানুষ বিড়ি শিল্পের সঙ্গে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে জড়িত। কেবলমাত্র জঙ্গিপুর মহকুমাতেই ৯ লক্ষর বেশি বিড়ি শ্রমিক রয়েছেন। জেলায় ছোট বড় মিলিয়ে ১০০-র বেশি বিড়ি ফ্যাক্টরি রয়েছে।

    বিড়ি শিল্পের সঙ্গে জড়িতদের অনুমান, কেন্দ্রীয় সরকার জিএসটি-র হার কমানোয় একদিকে যেমন  বিড়ি ফ্যাক্টরি মালিকরা বড় রেহাই  পেতে চলেছেন অন্যদিকে বিড়ি শিল্পের সঙ্গে যে সমস্ত শ্রমিকরা জড়িত তাঁরাও এখন সঠিক মজুরি পাবেন বলে সব পক্ষেরই মত। 

    প্রসঙ্গত, বিড়ি শিল্পের সঙ্গে  বিড়ি তৈরির জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় কেন্দু (তেন্দু) পাতার উপর ৫ শতাংশ জিএসটি বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। এই হারও আগের তুলনায় কম। 

    গত বছর কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় তামাকজাত দ্রব্যের ওপর ৪০ শতাংশ জিএসটি  বসানোর প্রস্তাব অনুমোদন করার পর অনেকেই মনে করেছিলেন মুর্শিদাবাদ জেলায় বিড়ি উৎপাদন প্রায় ২৫ শতাংশ কমে যাবে। তবে কেন্দ্রীয় সরকারের নতুন এই সিদ্ধান্তে বিড়ি শিল্প নতুন করে  অক্সিজেন পেতে চলেছে বলেই তথ্যাভিজ্ঞ মহলের মত। 

     সূত্রের খবর, ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে  মালদা এবং মুর্শিদাবাদ জেলার বিড়ি মালিকদের কাছ থেকে প্রায় ৬০০ কোটি টাকার জিএসটি আদায় হয়েছিল। 

    বর্তমানে ১০০০ বিড়ি তৈরির জন্য শ্রমিকদের ২১০ টাকা মজুরি ধার্য থাকলেও বেশিরভাগ বিড়ি ফ্যাক্টরি মালিক শ্রমিকদের  ১৯৫ টাকার বেশি মজুরি দেন না বলেই অভিযোগ। নতুন কর কাঠামোয় মালিক পক্ষের হাতে অতিরিক্ত টাকা  সঞ্চয় হওয়ার সুযোগ তৈরি হওয়ায় শ্রমিকেরা এখন নিজেদের সঠিক মজুরি পাবেন বলেই আশায় দিন গুনছেন। 

    মুর্শিদাবাদ সিআইটিইউ জেলা কমিটির সদস্য রুহুল আমিন বলেন, "এই জেলার দু-একটি বড় বিড়ি কোম্পানি ছাড়া কেউই শ্রমিকদের বিড়ি বাঁধার জন্য তাঁদের প্রাপ্য মজুরি দেন না। বেশিরভাগ ফ্যাক্টরির মালিকই ১৯৫ টাকার বেশি মজুরি শ্রমিকদের দেন না। এতদিন ধরে মালিকদের দাবি ছিল তাঁদেরকে কেন্দ্রীয় সরকারকে অতিরিক্ত জিএসটি দিতে হচ্ছে সেই কারণে তাঁরা শ্রমিকদের প্রাপ্য মজুরি দিতে পারছেন না।"তিনি বলেন, "কোনও শ্রমিক মজুরি নিয়ে বেশি জোরাজুরি করলে তাঁকে সপ্তাহে প্রত্যেকদিন কাজ দেওয়া হয় না। শ্রমিকদের মজুরি নিয়ে সবথেকে বেশি  শোষণ করে ছোট বিড়ি ফ্যাক্টরির মালিকরা। আমরা আশাবাদী কেন্দ্রীয় সরকার জিএসটি হার কমানোয় এখন থেকে শ্রমিকরা নিজেদের প্রাপ্য মজুরি পাবেন।" 

    ফরাক্কার  তৃণমূল বিধায়ক তথা জেলার অন্যতম বড় বিড়ি ব্যবসায়ী মনিরুল ইসলাম কেন্দ্রীয় সরকারের জিএসটি কমানোর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, "বিড়ি শিল্পের সঙ্গে মুর্শিদাবাদ জেলায় লক্ষ লক্ষ মানুষ জড়িয়ে রয়েছেন। বিড়ি মালিকদের উপর অতিরিক্ত করের বোঝা চাপানোর  ফলে অনেক সময় মালিকরা ইচ্ছা থাকলেও শ্রমিকদের সঠিক বেতন সময় মতো দিতে পারতেন না। আমরা আশাবাদী জিএসটি কমার ফলে মালিকপক্ষের হাতে অতিরিক্ত টাকা এলে এই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।"

    তবে জিএসটি কমানোর এই সিদ্ধান্তে বিড়ি ফ্যাক্টররি মালিক বা শ্রমিক কেউই লাভবান হবে না বলে দাবি করেছেন ঔরঙ্গাবাদ বিড়ি মার্চেন্ট অ‌্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক রাজকুমার জৈন।  তিনি বলেন ,"কেন্দ্রের সরকার বিড়ি শিল্পে ১০ শতাংশ জিএসটি কমিয়ে আজ থেকেই ১০ শতাংশ 'কেন্দ্রীয় আবগারি শুল্ক' বসিয়েছে।  তার ফলে জিএসটি কমানোর কোনও লাভ কোনও পক্ষই পাবে না। "
  • Link to this news (আজকাল)