• বাংলার জন্য ঠিক কী কী ঘোষণা বাজেটে? বিস্তারিত রইল
    আজ তক | ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • কেন্দ্রীয় বাজেটে ২০২৬ এ পশ্চিমবঙ্গ কী কী পেল? এই প্রতিবেদনে ঠিক সেটাই জানতে পারবেন। শনিবার সংসদে বাজেট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। আর সেই সময়েই একেবারে নতুন একটি ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডরের (DFC) কথা ঘোষণা করেন। এই করিডরের মাধ্যমে ডানকুনি ও গুজরাতের সুরাট যুক্ত হবে। পূর্ব ও পশ্চিম ভারতের মধ্যে পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রে এটি বড়সড় বদল আনতে পারে বলে মত অর্থনৈতিক ও পরিবহণ বিশেষজ্ঞদের।

    বর্তমানে দেশে দু'টি ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডর চালু রয়েছে। পূর্বাঞ্চলের করিডর লুধিয়ানা থেকে ডানকুনি পর্যন্ত বিস্তৃত। অন্যদিকে পশ্চিমাঞ্চলের করিডর দাদরি থেকে মুম্বইয়ের জওহরলাল নেহরু পোর্ট পর্যন্ত। নতুন ঘোষিত ডানকুনি-সুরাট করিডর কার্যত এই দু’টি রুট সংযুক্ত করবে। এর ফলে উত্তর ও মধ্য ভারতের উপর দিয়ে পূর্ব থেকে পশ্চিমে একটি টানা ফ্রেট ব্যাকবোন গড়ে উঠবে। দীর্ঘ দূরত্বে পণ্য পরিবহণ আরও দ্রুত ও সস্তা হবে বলেই দাবি কেন্দ্রের।

    সরকারের যুক্তি, আলাদা মালগাড়ির লাইনে বেশি করে পণ্য সরবরাহ করা হলে সেক্ষেত্রে যাত্রীবাহি ট্রেনের উপর চাপ কমবে। পাশাপাশি লজিস্টিক খরচও কমবে।

    বর্তমানে ভারতের জিডিপির প্রায় ১৪ থেকে ১৬ শতাংশ খরচ হয় লজিস্টিক্সে। জাতীয় লজিস্টিক নীতির লক্ষ্য এই খরচকে এক অঙ্কে নামিয়ে আনা। নতুন ফ্রেট করিডর সেই লক্ষ্য পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলেই মত ওয়াকিবহাল মহলের। বিশেষত গুজরাতের শিল্পাঞ্চল ও পূর্ব ভারতের বাজারের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও ভাল হবে।

    রাজনৈতিক তাৎপর্য
    মার্চ-এপ্রিল নাগাদ পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন হতে পারে। তার আগে ডানকুনিকে কেন্দ্র করে এমন একটি বৃহৎ পরিকাঠামো প্রকল্পের ঘোষণা নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ। এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

    বাজেটে শুধু রেলপথ নয়, সামগ্রিক পরিকাঠামো উন্নয়নেই জোর দিয়েছে কেন্দ্র। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে মূলধন ব্যয় ধরা হয়েছে ১২.২ লক্ষ কোটি টাকা। পাশাপাশি আগামী পাঁচ বছরে ২০টি নতুন জাতীয় জলপথ চালু করার পরিকল্পনাও রয়েছে। পরিবেশবান্ধব ও সাসটেইনেবল পণ্য পরিবহণ ব্যবস্থার দিকে ধীরে ধীরে ঝুঁকতেই চাইছে সরকার।

    রেলের জন্যই আরও একগুচ্ছ পরিকল্পনার ঘোষণা হয়েছে। রবিবার বাজেট বক্তৃতায় নির্মলা সীতারামন জানান, সাতটি হাই-স্পিড রেল করিডর গড়ে তোলার ভাবনা রয়েছে কেন্দ্রের। মুম্বই-পুনে, পুনে-হায়দরাবাদ, হায়দরাবাদ-বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ-চেন্নাই, চেন্নাই-বেঙ্গালুরু, দিল্লি-বারাণসী এবং বারাণসী-শিলিগুড়ি; এই রুটগুলিকে 'গ্রোথ কানেক্টর' হিসেবে গড়ে তোলার টার্গেট সেট করা হয়েছে। পরিবেশবান্ধব ও দ্রুত যাত্রী পরিবহণ ব্যবস্থাই এর মূল উদ্দেশ্য।
  • Link to this news (আজ তক)