এআই থেকে চিকিৎসা ক্ষেত্র, ভোটমুখী রাজ্যগুলিতে বেশ কয়েকটি ‘উপহার’ ঘোষণা কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর
বর্তমান | ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নয়াদিল্লি, ১ ফেব্রুয়ারি: ঐতিহাসিক বাজেট হতে চলেছে, আজ, রবিবার এমনই দাবি করেছিলেন কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। কিন্তু সংসদে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী বাজেট পেশ করার পর দেখা গেল, ঐতিহাসিক তো নয়ই, বরং ভোটমুখী ও বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির কথা মাথাতে রেখে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের জন্য এটি বানানো হয়েছে। ওড়িশা, অন্ধ্রপ্রদেশের জন্য বেশ কিছু প্রকল্প। ভোটমুখী পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু ও কেরলের জন্য বিশেষ কয়েকটি ঘোষণা। এই ছিল এদিনের বাজেটে। করের ক্ষেত্রে নতুন কোনও বড়ো ঘোষণা নেই। তবে মেডিকেল সেক্টর ও এআই-এর উপর জোর দেওয়া হয়েছে এবারের বাজেটে। তা অর্থমন্ত্রীর ঘোষণাতেই স্পষ্ট। নির্মলা সীতারামন জানিয়েছেন, চাকরি ক্ষেত্রে এআইয়ের কী প্রভাব রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হবে। প্রতি জেলায় মেয়েদের জন্য হস্টেল, বায়ো ফার্মা সেক্টরে ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ। ক্ষুদ্র শিল্পেও বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে।এছাড়া আয়ুর্বেদ ইনস্টিটিউট, উত্তর ভারতে নিমহ্যান্সের নতুন ক্যাম্পাস, মানসিক রোগের চিকিৎসায় জোর দেওয়ার ঘোষণাও করেছেন নির্মলা সীতারামন। তবে দুটি বিষয়ে বেশি জোর দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। বিদেশে থাকা ভারতীয়দের শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ ও করে ছাড়, দুষ্প্রাপ্য খনিজ পদার্থ। চারটি রাজ্যে দুষ্প্রাপ্য খনিজ পদার্থের জন্য বিশেষ করিডরের ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। ওড়িশা, কেরল, অন্ধ্রপ্রদেশ ও তামিলনাড়ুর মধ্যে হবে সেই করিডর। এছাড়াও মহাত্মা গান্ধীর নামে নতুন প্রকল্পের ঘোষণা করেছেন নির্মলা। মনরেগা প্রকল্পের নাম বদলে জি রাম জি করায় বিরোধী রাজনৈতিক দল থেকে দেশে ক্ষোভের মুখে পড়েছে মোদি সরকার। ১০০ দিনের কাজের প্রকল্প থেকে মহাত্মা গান্ধীর নাম বাদ দেওয়ায় তীব্র ধিক্কার জানিয়েছে কংগ্রেস সহ একাধিক বিরোধী রাজনৈতিক দল। তাই সেই ক্ষতে প্রলেপ দিতে মহাত্মা গান্ধীর নামে নতুন প্রকল্প শুরু করল কেন্দ্র। তার নাম মহাত্মা গান্ধী গ্রাম স্বরাজ। মূলত খাদি বস্ত্রের ব্যবসা বৃদ্ধি সংক্রান্ত এই প্রকল্প বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। এ বারের বাজেটে মোট কর রাজস্ব ২৮.৭ লক্ষ কোটি টাকা এবং বাজেটের আকার ৫৩.৫ লক্ষ কোটি টাকা অনুমোদন করেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা। এবারের বাজেট পেশের দিনে পোশাকে চমক দিয়েছেন নির্মলা। তামিলাড়ুর তাঁতশিল্পীদের হাতে তৈরি সিল্কের কাঞ্জিভরম পরেছিলেন তিনি।