নয়াদিল্লি, ১ ফেব্রুয়ারি: ভোট বড়ো বালাই, সেই কারণে বাংলার জন্য বেশ কিছু এবারের বাজেটে ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। তবে কোনও বিশেষ আর্থিক প্যাকেজ পেল না পশ্চিমবঙ্গ। বিহারের মতো নেই একাধিক চমকও। অর্থাৎ তৃণমূল কংগ্রেসের দাবিই মান্যতা পেল। কেন্দ্রের কাছে ফের ব্রাত্য বাংলা, এমনটাই মনে করছে রাজ্যের শাসকদল। সামনেই বাংলার বিধানসভার নির্বাচন। স্বভাবতই বাংলার মানুষের নজর ছিল ভোট পূর্ববর্তী বাংলার জন্য বাজেটে কী ঘোষণা করবেন অর্থমন্ত্রী। আজ, রবিবার বাজেট ঘোষণায় অর্থমন্ত্রী পণ্য পরিবহণ পরিকাঠামো উন্নয়নে বাংলার জন্য বিশেষ রূপরেখা পেশ করেছেন।তিনি সংসদে যে প্রস্তাব দিয়েছেন তাতে পূর্ব ভারত তথা পশ্চিমবঙ্গের জন্য রয়েছে বড়ো চমক। শিল্প ও বাণিজ্যকে নয়া গতি দিতে ঘোষিত হল ডানকুনি থেকে সুরাত ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডর। ডানকুনি-সুরাত এই নতুন মালবাহী ফ্রেট করিডর দেশের দুই প্রান্তের-শিল্পনগরী সুরাত থেকে বাংলার প্রবেশদ্বার ডানকুনিকে জুড়তে চলেছে। এর ফলে গুজরাতের শিল্পাঞ্চল থেকে কাঁচামাল এবং পণ্য সরাসরি দ্রুতগতিতে পৌঁছাবে বাংলায়। এতে আন্তঃরাজ্য ব্যাবসায় এক আমূল পরিবর্তন ঘটবে। পাশাপাশি যাত্রীবাহী ট্রেনের ক্ষেত্রেও বিশেষ ঘোষণা অর্থমন্ত্রীর। উত্তরবঙ্গের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে চলেছে বারাণসী-শিলিগুড়ি হাইস্পিড রেল (বুলেট ট্রেন) করিডর। বারাণসী-শিলিগুড়ি হাইস্পিড রেল করিডর ছাড়াও আরও ৬টি হাইস্পিড রেল করিডরও তৈরি করা হবে বলে ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী। সেগুলির মধ্যে রয়েছে মুম্বই-পুনে, পুনে-হায়দরাবাদ, হায়দরাবাদ-বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ-চেন্নাই, চেন্নাই-বেঙ্গালুরু, দিল্লি-বারাণসী। রেলপথের অগ্রগতির এই পরিকল্পনায় খুশি রেলযাত্রীরা। শুধু রেলপথই নয়। জলপথের দিকেও রয়েছে বিশেষ নজর। আগামী ৫ বছরের মধ্যে ২০টি নতুন জাতীয় জলপথ চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে কেন্দ্র সরকারের। তার মধ্যে ওড়িশার কলিঙ্গনগর থেকে পারাদ্বীপ পর্যন্ত নতুন জলপথ করিডরের ঘোষণা আজই করা হয়েছে সংসদ ভবন থেকে। এছাড়াও দুর্গাপুরের শিল্পের পরিকাঠানো উন্নয়নে জোর দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন নির্মলা সীতারামন।