জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: 'জনবিরোধী, কৃষকবিরোধী, মহিলাবিরোধী'। কেন্দ্রীয় বাজেটের কড়া সমালোচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়। তাঁর মতে, 'বাজেটে কোনও ভিশন নেই। অর্থনীতি বেলাইন হল। পুরো অর্থনীতি বিপর্যস্ত৷ সেনসেক্স পড়ছে, বাজার পড়ছে'। একই সুর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গলায়ও।
বাজেটে 'বঞ্চনা'। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'বাংলায় একটা প্রবাদ আছে, চোরের মায়ের বড় গলা! বাংলাকে কী দিল? বড় বড় কথা৷ আমি ২০০৯ সালে বাজেটে দিয়েছিলাম। জঙ্গলমহলে জঙ্গলসুন্দরী প্রজেক্ট আমরা আগেই ঘোষণা করেছি ৷ চামড়া, সিমেন্ট শিল্পে এখানে কাজ হচ্ছে ৷ বিনিয়োগ হচ্ছে'। তাঁর অভিযোগ, ওরা এক পয়সা বাংলাকে দেয় না ৷ আর বাংলাকে বড় বড় কথা বলে ৷ যা বাংলা থেকে নিয়ে যায়, তার এক পয়সা দেয় না৷ ওদের মরাল অথরিটি নিয়ে একটা কথা বলার! সাংবিধানিক ও অর্থনৈতিক কাঠামো ধ্বংস করছে। বড় বড় ভাষণ আর কাজের বেলায় শুন্য'। জানান, 'সাধারণ মানুষ, তফশিলী কারও জন্য কিছু নেই৷ ওরা তিনটি ইকনমিক করিডর বলেছে৷ আমরা ছটি করছি'।
এদিকে সংসদের বাজেট অধিবেশনে যোগ দিতে এখন দিল্লিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, 'বাংলার জন্য় কোনরকম কোনও বরাদ্দ বা প্রতিকার বা আর্থিক প্যাকেজ বা সমাধান, কিছুই নেই বাজেটে। বাংলার শ্রমিক হোক, কৃষক হোক, তপশিলি হোক, জনজাতি, মত্স্যজীবী হোক, কারও জন্য় কিছু নেই বাজেটে। যুব সমাজের জন্য আলাদা করে কোনও কর্মসংস্থানের দিশা'। তাঁর সাফ কথা, '৮৫ মিনিট খালি ভাট বকে কাটিয়ে দেওয়া হয়েছে। ডানকুনি করিডোর আগেরবারও বলা হয়েছিল, সেটাই নতুনভাবে বলা হয়েছে। নতুন বোতলে পুরানো মদ'।
বাজেটে বাংলার প্রাপ্তি
---ডানকুনি এবং সুরাতকে সংযুক্ত করার জন্য নতুন ফ্রেট করিডর।
শিলিগুড়ি-সহ সাতটি শহরের মধ্যে হাই স্পিড রেল করিডর
এই করিডরের মধ্যেই থাকছে বারাণসী-শিলিগুড়ি রুটটিও।
দুর্গাপুরে নয়া শিল্প করিডর।
দুর্গাপুরে রে ইন্টিগ্রেটেড ইস্ট-কোস্ট করিডরে নতুন কেন্দ্র।
পানিহাটিতে NIPER কেন্দ্রের উন্নয়ন
গত বছর অর্থাত্ ২০২৫ সালে বিধানসভা ভোটের আগে বিহারের জন্য ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প ঘোষণা করা হয়েছিল বাজেটে। এবছর অর্থাত্ ২০২৬-এ বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন। বস্তুত, ভোটের আর বেশি দেরিও নেই। ফলে বাজেটে বাংলার জন্য় কোনও বড় ঘোষণা থাকবে, এমনটাই প্রত্যাশা ছিল। তিন্তু সেই আশায় জল ঢেলে দিলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ।