• মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে কেলেঙ্কারি! সংজ্ঞাহীন রোগীকে সপাটে চড় নার্সের...
    ২৪ ঘন্টা | ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: সরকারি হাসপাতালে একী কাণ্ড! সংজ্ঞাহীন অবস্থায় রোগীকে সপাটে চড় মারলেন কর্তব্যরত নার্স!এরপর কয়েক ঘণ্টার পরই মৃত্যু হয় ওই রোগীর। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন রোগীর পরিবারের লোকেরা। ঘটনাটি ঘটেছে  মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে। 

    জানা গিয়েছে, মৃতের নাম  বৈশাখী খান। বাড়ি, মেদিনীপুরে শহরের সিপাই বাজার এলাকায়। গত শুক্রবার প্যানক্রিয়াসের সমস্যা নিয়ে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি বছর সাতাশের ওই তরুণী। পরিবারে লোকেদের দাবি, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর থেকে তাঁর শারীরিক ক্রমশই খারাপ হতে শুরু করে। শনিবার রাতে আর জ্ঞান ছিল না বৈশাখীর। সংজ্ঞাহীন অবস্থায় কর্তব্য়রত নার্স তাঁকে চড় মারেন বলে অভিযোগ।  ঘটনাটি স্বচক্ষে দেখে ফেলেন ওই তরুণীর স্বামী।

    এদিকে আজ, রবিবার সকালে মৃত্যু হয় বৈশাখীর। এরপরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন পরিবারের লোকেরা। চিকিত্‍সকদের বিরুদ্ধে তাঁদের কোনও ক্ষোভ নেই। প্রশ্ন একটাই, হাসপাতালে কর্তব্যরত নার্স ও নিরাপত্তারক্ষী কেন রোগী ও তাঁর পরিবারের লোকের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করবেন? কেনই-বা রোগীকে চড় মারা হবে? খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন স্থানীয় কাউন্সিলর মিতালী বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালে অত্যাধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থার বন্দোবস্ত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে যদি এইরকমের গুরুতর অভিযোগ ওঠে, তা খতিয়ে দেখা উচিত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের।

    হাসপাতাল সূত্রে খবর, অনেক সময় রোগীর জ্ঞান ফেরানোর জন্য বডি প্রেসার করতে হয়। আঘাত পেলে রোগী বুঝতে পারছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে হয়। কিন্তু চড় মারার ব্যাপারটি অত্যন্ত অস্বাভাবিক। গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

    এদিকে মালদহ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে সন্তানের জন্ম দিতে গিয়ে দুটি কিডনিই নষ্ট হয়ে গিয়েছে মহিলার।  অভিযোগ, সিজারিয়ান অপারেশনে সেলাই করেছিলেন ভুয়ো চিকিত্‍সক। অপারেশনের মূল দায়িত্বে যিনি ছিলেন, তিনি ডিপ্লোমাধারী অর্থোপেডিক! আদালতের নির্দেশে অবশেষে নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করল পুলিস।

    ঘটনাটি ঠিক কী? মালদহের পুখুরিয়া থানার হরিপুর গ্রামের বাসিন্দা রেশমিরা খাতুন। গত বছরের অগাস্টে প্রসব যন্ত্রণা নিয়ে সামসি এলাকার একটি নার্সিংহোমে ভর্তি হন তিনি। সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে কন্যাসন্তানের জন্মও দেন। কিন্তু মা হওয়ার পর থেকে রেশমিরার শারীরিক অবস্থায় দ্রুত অবনতি হতে থাকে অভিযোগ।

    পরিবারের দাবি, প্রথমে বিষয়টি সেভাবে গুরুত্ব দিতে চায়নি নার্সিংহোমে। পরে যখন শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়, রেশমিরাকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় মালদহ জেলা হাসপাতালে। সেখান থেকে কলকাতা এসএসকেএম হাসপাতালে। প্রায় দুই মাস ধরে চিকিত্‍সা চলে ওই তরুণীর।  ১৩ অক্টোবর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান তিনি। চিকিত্‍সকরা জানান, দুটি কিডনিই নষ্ট হয়ে গিয়েছে।

    এদিকে রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর, নার্সিংহোমে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য দফতর ও মহকুমাশাসকের দফতরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ওই তরুণীর পরিবারের লোকেরা। তাঁদের অভিযোগ, অপারেশনের পর সেলাই করেছিলেন নার্সিংহোমের মালিক  মহম্মদ আনারুল ইসলাম। তিনি আসলে ভুয়ো চিকিত্‍সক।

  • Link to this news (২৪ ঘন্টা)