জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: সুপ্রিম কোর্টে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বড় রদবদল। আস্থা শর্মার বদলে রাজ্যের ‘অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড’ হলেন কুণাল মিমানি।
দেশের শীর্ষ আদালতে আইনি লড়াই আরও মজবুত করতে বড় পদক্ষেপ নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। দীর্ঘদিন ধরে সুপ্রিম কোর্টে রাজ্যের ‘অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড’ হিসেবে দায়িত্ব সামলানো আস্থা শর্মাকে সরিয়ে তাঁর জায়গায় আনা হলো আইনজীবী কুণাল মিমানিকে। রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের অনুমতিক্রমে রাজ্য সরকার এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই আইনজীবী বদলের কথা জানিয়েছে। এই রদবদল বর্তমান সময়ে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক ও আইনি মহল।
আস্থা শর্মার বিদায় ও নেপথ্যের জল্পনা
আইনজীবী আস্থা শর্মা দীর্ঘদিন ধরে সুপ্রিম কোর্টে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ সব মামলায় সওয়াল করেছেন। সাম্প্রতিক কালে রাজ্যকে অস্বস্তিতে ফেলা আরজি কর হাসপাতালের মামলাতেও প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে তাঁকে রাজ্যের হয়ে লড়তে দেখা গিয়েছে। এমন এক হাই-প্রোফাইল মামলার মাঝপথে কেন তাঁকে ‘অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড’ পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো, তা নিয়ে নবান্নের অন্দরে ও আইনি মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে। যদিও রাজ্য সরকার বা রাজভবনের তরফে এই পরিবর্তনের কোনো নির্দিষ্ট কারণ ব্যাখ্যা করা হয়নি।
কে এই কুণাল মিমানি?
রাজ্যের নতুন আইনি কাণ্ডারি কুণাল মিমানি আইনি পেশায় অত্যন্ত দক্ষ এবং অভিজ্ঞ একজন ব্যক্তিত্ব। তাঁর কর্মজীবনের বিশেষ কিছু দিক হল:
অভিজ্ঞতা: এই পেশায় তাঁর ১১ বছরেরও বেশি সময় কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে।
শিক্ষাগত যোগ্যতা: তিনি গুজরাত ন্যাশনাল ল ইউনিভার্সিটি (GNLU) থেকে আইন নিয়ে পড়াশোনা করেছেন।
পূর্বতন কাজ: কুণাল মিমানি ইতিপূর্বে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পাবলিক সার্ভিস ইউনিটের হয়ে বিভিন্ন আদালতে সওয়াল করেছেন। এছাড়া দিল্লির মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের হয়ে মামলা লড়ারও অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর।
বিবিধ সাফল্য: সুপ্রিম কোর্ট ছাড়াও দেশের বিভিন্ন উচ্চ আদালতে একাধিক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও সরকারি সংস্থার হয়ে আইনি লড়াইয়ে তিনি সফল হয়েছেন।
অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড-এর গুরুত্ব
সুপ্রিম কোর্টে কোনো মামলা দাখিল করতে গেলে বা রাজ্যের পক্ষে কোনও হলফনামা পেশ করতে গেলে ‘অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড’-এর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনিই মূলত আদালতের সাথে সরকারের সরাসরি যোগসূত্র হিসেবে কাজ করেন। আরজি কর মামলার মতো স্পর্শকাতর বিষয় যখন সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন, তখন কুণাল মিমানির ওপর এই দায়িত্ব অর্পণ করায় বোঝা যাচ্ছে যে, রাজ্য সরকার আইনি লড়াইয়ে আরও পেশাদারিত্ব ও অভিজ্ঞতার ওপর জোর দিতে চাইছে।
তৃণমূল নেতৃত্বের স্বস্তি ও আইনি লড়াই
প্রসঙ্গত, কুণাল মিমানি কেবল রাজ্যের প্রতিনিধি হিসেবেই নন, তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের আইনি লড়াইয়েও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। ২০২৪ সালের ৮ এপ্রিল দিল্লিতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের দপ্তরের সামনে প্রতিবাদ করতে গিয়ে দিল্লি পুলিসের মামলার মুখে পড়েছিলেন ডেরেক ও’ব্রায়েন, সাগরিকা ঘোষ, দোলা সেনসহ ১০ জন তৃণমূল নেতা। সেই রাজনৈতিক ও আইনি লড়াইয়েও মৃণাল হিমানির (কুণাল মিমানি হিসেবে উল্লেখিত প্রসঙ্গের আইনজীবী) মতো দক্ষ আইনজীবীরাই তৃণমূলের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন এবং প্রমাণ করেছিলেন যে সেই প্রতিবাদ কোনো আইন ভঙ্গ করেনি।
রাজ্যপাল ও রাজ্য সরকারের যৌথ সম্মতিতে হওয়া এই রদবদল সুপ্রিম কোর্টে পশ্চিমবঙ্গের ভবিষ্যৎ মামলাগুলোর মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। একদিকে যখন কেন্দ্রীয় এজেন্সির অতিসক্রিয়তা নিয়ে রাজ্য সোচ্চার, অন্যদিকে আরজি করের মতো অভ্যন্তরীণ ইস্যুগুলো যখন শীর্ষ আদালতের নজরে—ঠিক সেই সময়েই কুণাল মিমানির মতো অভিজ্ঞ আইনজীবীর হাতে ব্যাটন তুলে দেওয়া নবান্নের এক সুচিন্তিত কৌশল বলেই মনে করা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, শীর্ষ আদালতে রাজ্যের আইনি স্বার্থ রক্ষায় নতুন এই কাণ্ডারি কতটা সফল হন।