• ২০ দিন পরে মার্কিন বন্দিদশা থেকে মুক্তি, নিরাপদে বাড়ি ফিরলেন হিমাচলের নৌ-অফিসার
    এই সময় | ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • দীর্ঘ ২০ দিনের আতঙ্ক কাটিয়ে অবশেষে ঘরের ছেলে ঘরে ফিরল। ২৬ বছর বয়সি রিক্ষিত চৌহান একজন মার্চেন্ট নেভি অফিসার। আমেরিকার নৌবাহিনী রুশ তেলবাহী ট্যাঙ্কার মারিনেরা আটক করার পরে তিনি দীর্ঘদিন আটকে ছিলেন। অবশেষে রিক্ষিত বাড়ি ফেরায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে তাঁর পরিবার।

    রিক্ষিত হিমাচল প্রদেশের পালমপুরের বাসিন্দা। তিনি ২০২৫ সালের ১ অগস্ট প্রথম কাজে যোগ দিয়েছিলেন। এটিই ছিল তাঁর সমুদ্রপথে প্রথম অ্যাসাইনমেন্ট। তিনি মারিনেরা নামে একটি রুশ তেলের ট্যাঙ্কারে কাজ করছিলেন। গত ৭ জানুয়ারি আমেরিকার নৌবাহিনী ওই জাহাজটিকে মাঝ সমুদ্রে আটক করে। জাহাজে মোট ২৮ জন কর্মীর মধ্যে রিক্ষিত-সহ তিন জন ভারতীয় ছিলেন।

    জানা গিয়েছে, ৭ জানুয়ারি শেষবার রিক্ষিত তাঁর পরিবারের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন। কারণ মার্কিন নৌবাহিনী রিক্ষিত-সহ জাহাজের বাকি কর্মীদের ফোন কেড়ে নিয়েছিল। টানা ২০ দিন পরিবারের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ না থাকায় উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছিলেন রিক্ষিতের বাবা রণজিৎ সিং এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা। রিক্ষিতকে ফিরে পেতে তাঁর পরিবার ভারত সরকারের কাছে সাহায্যের আবেদন জানান। রিক্ষিতের নিখোঁজ হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই সক্রিয় হয়ে ওঠে রাজনৈতিক মহল। হিমাচল প্রদেশের বিরোধী দলনেতা জয়রাম ঠাকুর রিক্ষিতের বাড়িতে গিয়ে তাঁর পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। এর পাশাপাশি তিনি গোটা বিষয়টি কেন্দ্রীয় বিদেশ মন্ত্রকের নজরে আনেন।

    লোকসভা সাংসদ রাজীব ভরদ্বাজ এবং বিজেপি মুখপাত্র ত্রিলোক কাপুরও ব্যক্তিগতভাবে রিক্ষিতের পরিবারের পাশে দাঁড়ান। ভারত সরকারের কড়া হস্তক্ষেপ এবং কূটনৈতিক চাপে অবশেষে আমেরিকা রিক্ষিতকে মুক্তি দেয়। দেশে ফেরার পরে রিক্ষিত জানান, মার্কিন নৌবাহিনী জাহাজটি আটক করার পরে তাদের ফোন কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। তাই তিনি কারওর সঙ্গেই যোগাযোগ করতে পারছিলেন না। রিক্ষিতের কথায়, ‘ভারত সরকারের প্রচেষ্টার জন্যই আজ আমি নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পেরেছি। কেন্দ্রীয় সরকার যে ভাবে দ্রুত পদক্ষেপ করেছে, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ।’

    ছেলে বাড়ি ফেরার পরে আবেগাপ্লুত বাবা রণজিৎ সিং। তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা এবং অন্যান্য বিজেপি নেতাদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি জানান, বিপদের দিনে ত্রিলোক কাপুর প্রতি মুহূর্তে তাঁদের মানসিক সাহস জুগিয়েছেন। এ দিকে ফেব্রুয়ারি মাসেই রিক্ষিতের দাদার বিয়ে। তাঁর আগেই ঘরের ছেলে সুস্থ ভাবে বাড়ি ফেরায় খুশি তাঁর পরিবারের সদস্যরা।

  • Link to this news (এই সময়)