এই সময়: কম দৃশ্যমানতায় বিমান রানওয়েতে নেমে আসে বিমানবন্দরের বিভিন্ন যন্ত্রাংশের সাহায্যে। ভারতের যেখানে সেই যন্ত্রাংশ নেই, সেখানে নামতে দেশের তৈরি নিজস্ব স্যাটেলাইট–ভিত্তিক ব্যবস্থা সাহায্য করে। তাকে বলে গগন (জিপিএস এডেড জিও অগমেন্টেড নেভিগেশন)।
বিমান পরিবহণের বিশেষজ্ঞ সুদীপ্ত চন্দ্র বলছেন, ‘ল্যান্ডিংয়ের ক্ষেত্রে নেভিগেশন ব্যবস্থার সাহায্য প্রয়োজন। না থাকলে ভিএফআর (ভিসুয়াল ফ্লাইং রুল) ছাড়া রাস্তা নেই। সেখানে ন্যুনতম দৃশ্যমানতা পাঁচ হাজারের এক মিটার কম হলেও চলবে না।’
প্রসঙ্গটা উঠেছে, কারণ গত বুধবার মহারাষ্ট্রের বারামতিতে নামতে গিয়ে বিমান ভেঙে মারা যান উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার, দুই পাইলট, বিমানকর্মী ও অজিতের দেহরক্ষী। বারামতির ক্ষেত্রেও ভিএফআর প্রযোজ্য। তবে, বিমানে গগন থাকলে স্যাটেলাইটের সাহায্যে কম দৃশ্যমানতাতেও নামতে পারে বারামতিতেও।
অজিত পাওয়ারকে নিয়ে ল্যান্ড করতে যাওয়া বম্বার্ডিয়ার লিয়ারজেট ৪৫ বিমানটিতে গগন ছিল না। ১৬ বছর আগে ওই বিমানটির রেজিস্ট্রেশনের ২৮ দিন পরে গগন প্রযুক্তি শুরু হয়। তাই, একাংশের দাবি, মাত্র কয়েক দিন আগে রেজিস্ট্রেশন হলে হয়তো গগন–সক্ষম হতো বিমানটি। তাতে দুর্ঘটনা এড়ানো যেত।
সুদীপ্ত অবশ্য বলছেন, ‘ভারতে এখন যদি এক হাজার কমার্শিয়াল প্লেন উড়ে বেড়ায়, তার মধ্যে কতগুলিতে গগন আছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। এর জন্য বিশেষ অ্যান্টেনার প্রয়োজন। শুধু গগন থাকলেই হলো না। সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দরের অ্যাপ্রোচ পাথে বাধা, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে তার উচ্চতা–সহ অন্য ফ্যাক্টরের উপরে নির্ভর করে কত দৃশ্যমানতায় নামা যাবে। ফলে, ওই বিমান গগন এনাবল থাকলেও তা তিন হাজার মিটার ভিজ়িবিলিটিতে নামতে পারত কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।’