• মোদী ব‍ললেন ‘ঐতিহাসিক’, রাহুলের মতে ‘অন্ধ–বাজেট’, ক্ষুব্ধ একাধিক বিরোধী দলও
    এই সময় | ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • এই সময়: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যে বাজেটকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে দাবি করলে‍ন, সংসদের বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী সেই বাজেটকেই আবার ‘অন্ধ’ বলে কটাক্ষ করলে‍ন। রবিবার দিনভর কেন্দ্রীয় বাজেট নিয়ে শাসক–বিরোধীর তরজায় সরগরম থাকল জাতীয় রাজনীতি।

    এ দিন সংসদে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন বাজেট পেশ করেন। িকছুক্ষণের মধ্যে সেই বাজেটের বিরোধিতায় সরব হয় বিরোধী শিবির। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়গের মতো বিরোধী নেতা–নেত্রীদের তোপের মুখে পড়ে বিকেলে আসরে নামেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী। তিনি নির্মলা সীতারমনের ভূয়সী প্রশংসা করে তাঁর পেশ করা বাজেটকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে বর্ণনা করেন। জাতির উদ্দেশে ভিডিয়ো বার্তায় নরেন্দ্র মোদী বলেন, ‘এই বাজেট দেশের যুব সমাজকে ওড়ার জন্য খোলা আকাশ দেবে। এই বাজেটে যুবদের চিন্তাভাবনা, যুবদের স্বপ্ন, যুবদের সংকল্প, যুব সমাজের শক্তির পাশাপাশি যুবদের গতিও আছে। ভারতকে দুনিয়ার ডেটা সেন্টার হাব বানানোর জন্য করে ছাড়ও দেওয়া হয়েছে। এই বাজেটে কর্মসংস্থানে গতি আসবে। এটা অ্যাম্বিশাস বাজেট।’ ভবিষ্যতমুখী এবং সংবেদনশীল বাজেট তৈরির জন্য প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে একাধিকবার ধন্যবাদ জানান নির্মলাকে।

    তার আগে এই বাজেটকে ‘অন্ধ’ কটাক্ষ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি বলেন, ‘দেশের যুবসমাজের রোজগার নেই। উৎপাদনের হার লাগাতার নীচের দিকে নামছে। বিনিয়োগকারীরা টাকা তুলে নিচ্ছেন। মানুষের ক্রয় ক্ষমতা কমছে। দেশের কৃষকদের অবস্থাও বেহাল। ভবিষ্যতের সংকটগুলিকে এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে। ভারতের সত্যিকারের সমস্যাগুলি নিয়ে এই বাজেট অন্ধ।’

    একই সুরে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেন, ‘নতুন কিছু ভাবার মতো শক্তি নেই মোদী সরকারের। যে বাজেট পেশ করা হলো তা দেশের আর্থিক, সামাজিক এবং রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান করতে ব্যর্থ।’

    তামিল‍নাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিনের দাবি, এ বারের কেন্দ্রীয় বাজেটে তাঁর রাজ্যের স্বার্থ পুরোপুরি উপেক্ষিত হয়েছে। স্ট্যালিনের কথায়, ‘তামিলনাড়ুতে সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। তাই অন্তত এ বছর তামিলনাড়ুর মানুষের কণ্ঠস্বর কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে পৌঁছবে বলে আশা করেছিলাম। কিন্তু বিজেপি সরকার কেবল হতাশাই উপহার দিয়েছে আমাদের।’ হতাশ কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়‍নও। তিনি বলেন‍, ‘এইমস তৈরি এবং রেলওয়ে করিডর নির্মাণে দীর্ঘদিনের দাবিকে উপেক্ষা করে নির্মলা সীতারমন কেরালা–বিদ্বেষী বাজেট পেশ করেছেন।’

    সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব কেন্দ্রীয় বাজেটকে বিজেপির দুর্নীতির ‘অদৃশ্য খতিয়ান’ বলে ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর ক্ষোভ, ‘কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে কোনও আশা নেই আমাদের। ফলে তাদের পেশ করা বাজেট নিয়ে আর কী–ই বা আশা থাকবে। অখিলেশের মতে, ‘এই বাজেটের উপাদনগুলি থেকেই স্পষ্ট, বিজেপির পেটোয়া কিছু লোকের মুনাফা লুটতে সুবিধা হবে।’ তবে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী আদিত্যনাথের দাবি, ‘এই বাজেট যুবসমাজকে সুযোগ দেবে। কৃষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। উদ্যোগপতিদের উৎসাহিত করবে। মধ্যবিত্তকে স্বস্তি দেবে। এবং একইসঙ্গে শ্রমজীবীদের সম্মান দেবে।’

  • Link to this news (এই সময়)