• ২টি রেল ও একটি শিল্প করিডর, ভোটমুখী বাংলার বরাতে জুটল নামমাত্রই
    বর্তমান | ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • দিব্যেন্দু বিশ্বাস, নয়াদিল্লি: ডানকুনি থেকে গুজরাতের সুরাত পর্যন্ত ডেডিকেটেড পণ্যবাহী করিডর (ডিএফসি) এবং বারাণসী-শিলিগুড়ি রুটে হাইস্পিড রেল করিডর। এবারের বাজেটে ভোটমুখী বাংলায় রেল-ভাগ্যে প্রাপ্তি এটুকুই। তবে এর সঙ্গে শুধুমাত্র যুক্ত হয়েছে দুর্গাপুরে শিল্প করিডর তৈরির ঘোষণা। রবিবার ২০২৬-২৭ আর্থিক বছরের সাধারণ বাজেট ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। এদিনের বাজেট ঘোষণায় তিনি বাংলার জন্য তিনটি প্রকল্পের কথা জানিয়েছেন মাত্র। সাধারণত ভোটমুখী রাজ্যগুলির জন্য সাধারণ বাজেটে উপহারের ডালি উপুড় করে দেওয়াই কেন্দ্রীয় সরকারের দস্তুর। গতবারের বাজেটে বিহারের জন্য কার্যত সেই ছবিই দেখা গিয়েছিল। কিন্তু এবারের বাজেট ঘোষণায় বাংলার জন্য কেন উলটো ছবি তৈরি হল, তানিয়ে রীতিমতো বিস্মিত রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মহল। এদিন পরে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন যে, উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়ি থেকে বারাণসী পর্যন্ত হাইস্পিড রেল করিডর তৈরি হলে মাত্র ২ ঘণ্টা ৫৫ মিনিট সময়ের মধ্যেই ওই দু’জায়গার মধ্যে যাতায়াত করা যাবে। এই করিডর পাটনা হয়েই উত্তরবঙ্গের সঙ্গে বারাণসীকে যুক্ত করবে। অন্যদিকে রেলমন্ত্রী জানিয়েছেন, ডানকুনি থেকে সুরাত পর্যন্ত ২ হাজার ৫২ কিলোমিটারের যে ডেডিকেটেড পণ্যবাহী করিডর তৈরি হবে, তা ওড়িশা, ছত্তিসগড়, মধ্যপ্রদেশ এবং মহারাষ্ট্র হয়ে গুজরাত যাবে। এবারের সাধারণ বাজেটে বারাণসী-শিলিগুড়ি সহ দেশব্যাপী মোট সাতটি হাইস্পিড রেল করিডর তৈরির ঘোষণা করেছে কেন্দ্র। বাকি ছ’টি প্রস্তাবিত করিডর হল মুম্বই-পুনে, পুনে-হায়দরাবাদ, হায়দরাবাদ-বেঙ্গালুরু, বেঙ্গালুরু-চেন্নাই, চেন্নাই-হায়দরাবাদ এবং দিল্লি-বারাণসী। রেলমন্ত্রী জানিয়েছেন, মোট চার হাজার কিলোমিটারের সাতটি হাইস্পিড রেল করিডর তৈরির জন্য খরচ পড়বে প্রায় ১৮ লক্ষ কোটি টাকা। রবিবার রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন, ২০২৬-২৭ আর্থিক বছরে রেলের মোট বাজেট বরাদ্দের পরিমাণ ২ লক্ষ ৭৮ হাজার কোটি টাকা। মূলধনী খরচের পরিমাণ ২ লক্ষ ৯৩ হাজার কোটি টাকা। যাত্রী সুরক্ষা এবং নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দের পরিমাণ ১ লক্ষ ২০ হাজার কোটি টাকা। তবে এই খাতের মধ্যে ‘কবচ’ প্রযুক্তির বাস্তবায়নে কত টাকা খরচ হবে, তানিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। তবে যত বরাদ্দই হোক না কেন, তহবিলের হাল নিয়ে যথেষ্টই উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে রেলমন্ত্রক। কারণ দূরপাল্লার মেল, এক্সপ্রেস ট্রেনের স্লিপার, থার্ড এসি এবং সেকেন্ড এসি, অর্থাৎ, যেসব কোচে সাধারণত মধ্যবিত্ত রেল যাত্রীরাই সফর করেন, তার প্রতিটিতেই প্যাসেঞ্জার রেভিনিউ সংক্রান্ত বাজেটের টার্গেট লক্ষ্যণীয়ভাবে কমেছে। যেমন স্লিপারে ১৬ হাজার ৫০৮ কোটি টাকা থেকে কমে হয়েছে ১৫ হাজার ৭৪১ কোটি টাকা। থার্ড এসিতে ৩৭ হাজার ১১৫ কোটি টাকা থেকে কমে হয়েছে ২৮ হাজার ৬৩৭ কোটি টাকা। সেকেন্ড এসিতে ৮ হাজার ৭৭৬ কোটি টাকা থেকে কমে হয়েছে ৭ হাজার ৯৩৬ কোটি টাকা। সাবার্বান, অর্থাৎ লোকাল ট্রেনের ক্ষেত্রে আগামী অর্থবর্ষে যাত্রীভাড়া থেকে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৬১৩ কোটি টাকা।  সামগ্রিকভাবে রেলের যাত্রীভাড়া থেকে রাজস্ব আদায় কমেছে সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা। এখানেই শেষ নয়। ১০০ টাকা আয় করতে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে রেলের খরচ হতে পারে (অপারেটিং রেশিও) ৯৮ টাকা ৪০ পয়সা। তবে নতুন রেল লাইন তৈরি, ডাবলিং, গেজ পরিবর্তন, রোলিং স্টকের খাতে বাজেট বরাদ্দের পরিমাণ গতবারের তুলনায় এবছর অনেকটাই বৃদ্ধি করেছে কেন্দ্র সরকার। তা স্পষ্ট হয়েছে রেলের বাজেট নথিতেই।-ফাইল চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)