• বঞ্চিত প্রবীণ নাগরিকরাও, শ্রম-কর্মসংস্থানে দিশা নেই
    বর্তমান | ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: মাসে ইপিএফের ন্যূনতম পেনশন বৃদ্ধি থেকে ট্রেনের টিকিটে ছাড়ের বন্দোবস্ত পুনরায় বহাল করা। কর্মী পিএফ থেকে রেল— ২০২৬-২৭ আর্থিক বছরের সাধারণ বাজেটে কোনো ক্ষেত্রেই প্রবীণ নাগরিকদের উল্লেখমাত্র হল না কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের বাজেট ভাষণে। অর্থাৎ, এক্ষেত্রে সিনিয়র সিটিজেনদের প্রাপ্তির ঝুলি একপ্রকার শূন্যই রয়ে গেল। পশ্চিমবঙ্গ সহ পাঁচ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের আবহে মাসে ইপিএফের ন্যূনতম পেনশনের পরিমাণ এক হাজার টাকা থেকে বৃদ্ধির ঘোষণা এবারের বাজেটে করা হতে পারে বলে চর্চা শুরু হয়েছিল। একইসঙ্গে জল্পনা ছড়িয়েছিল যে, রেল সফরে প্রবীণ নাগরিকদের স্বস্তি দিয়ে ছ’বছর বাদে ট্রেনের টিকিটে সিনিয়র সিটিজেন কনসেশন পুনরায় চালু করা হতে পারে। কিন্তু রবিবার যে সাধারণ বাজেটের ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী, তাতে উল্লিখিত ক্ষেত্রগুলিতে প্রবীণ মানুষ ব্রাত্যই রয়ে গেল। যদিও প্রবীণ রেল যাত্রীদের টিকিটে ছাড় ফের বহাল করার ব্যাপারে ইতিমধ্যেই অর্থমন্ত্রকের কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছে রেল বোর্ড। সরকারি সূত্রের খবর, অর্থমন্ত্রক তা রবিবার পর্যন্ত অনুমোদন করেনি। বিবেচনাধীনেই রেখেছে। তাই ঘোষণাও হয়নি। কিন্তু মাসে ইপিএফের ন্যূনতম পেনশনের পরিমাণ বৃদ্ধিরও কোনও ঘোষণা না হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই রীতিমতো হতাশ পেনশন গ্রাহকেরা। ন্যূনতম পেনশনের পরিমাণ যেমন বাড়ানো হয়নি। তেমনই সার্বিকভাবে এমপ্লয়িজ পেনশন স্কিমের (ইপিএস ১৯৯৫) বাজেট বরাদ্দের পরিমাণও কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে এই খাতে ১১ হাজার ২৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছিল কেন্দ্র। কিন্তু ২০২৬-২৭ আর্থিক বছরে তা কমিয়ে করা হয়েছে ১১ হাজার ১৪৪ কোটি টাকা। প্রধানমন্ত্রী শ্রম যোগী মানধন যোজনাতেও বরাদ্দের পরিমাণ গতবারের তুলনায় সামান্যই বৃদ্ধি করা হয়েছে। এবারের বাজেট নথি থেকে দেখা যাচ্ছে যে, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে এই খাতে বরাদ্দের পরিমাণ ছিল ২৪৪ কোটি টাকা। ২০২৬-২৭ আর্থিক বছরে তা মাত্র ছ’কোটি টাকা বাড়িয়ে ২৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রী শ্রম যোগী মানধন যোজনাতেও অসংগঠিত ক্ষেত্রের প্রবীণ শ্রমিক-কর্মচারীদের পেনশন প্রদানের বন্দোবস্ত রেখেছে কেন্দ্র সরকার। প্রধানমন্ত্রী বিকশিত ভারত রোজগার যোজনায় বরাদ্দকৃত অর্থের পরিমাণ ২০ হাজার ৮২ কোটি টাকা। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, শুধুমাত্র প্রবীণ নাগরিকদের বঞ্চিত করাই নয়। সামগ্রিকভাবেই শ্রম এবং কর্মসংস্থানে বিশেষ গুরুত্বই দেয়নি কেন্দ্রের মোদি সরকার। অন্তত এমনই অভিযোগ করছে বিরোধীরা। কারণ এবারের বাজেট নথি থেকে দেখা যাচ্ছে যে, শ্রম এবং কর্মসংস্থানে বরাদ্দের পরিমাণ মাত্র ২০ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ৩২ হাজার ৬৪৬ কোটি টাকা থেকে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে ৩২ হাজার ৬৬৬ কোটি টাকা।
  • Link to this news (বর্তমান)