নয়াদিল্লি (পিটিআই): একদিকে, ‘অপারেশন সিন্দুরে’র সাফল্য। অন্যদিকে, চিন ও পাকিস্তান— দুই প্রতিবেশীর চ্যালেঞ্জের কথা মাথায় রেখে সেনাবাহিনীতে আধুনিকীকরণের উদ্যোগ। সেই আবহেই দেশের প্রতিরক্ষায় বিপুল বরাদ্দ বৃদ্ধির প্রস্তাব দেওয়া হল সাধারণ বাজেটে। রবিবার সংসদে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন তাঁর বাজেট ভাষণে প্রতিরক্ষা খাতে মোট ৭ লক্ষ ৮৪ হাজার ৬৭৮ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা ঘোষণা করেছেন। গত বছর এই অর্থের পরিমাণ ছিল ৬ লক্ষ ৮১ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ, এক ধাক্কায় বরাদ্দ বাড়ল ১ লক্ষ কোটি টাকার বেশি। শতাংশের বিচারে এই বৃদ্ধির পরিমাণ ১৫ শতাংশ।এদিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেছেন, ‘অপারেশন সিন্দুরের ঐতিহাসিক সাফল্যের আবহে প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্ত আমাদের সংকল্প ও দেশের নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে।’ প্রতিরক্ষায় মোট বরাদ্দের মধ্যে ২ লক্ষ ১৯ হাজার ৩০৬ কোটি টাকা ধার্য করা হয়েছে সশস্ত্র বাহিনীগুলির মূলধনী খরচ হিসেবে। এই অর্থের বড় অংশ ব্যয় হবে নতুন অস্ত্র, এয়ারক্র্যাফ্ট, যুদ্ধজাহাজ ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম কেনার জন্য। ৬৩ হাজার ৭৩৩ কোটি টাকা রাখা হয়েছে এয়ারক্র্যাফ্ট ও বিমানের ইঞ্জিন কেনার জন্য। ২৫ হাজার ২৩ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে নৌবাহিনীর জন্য যুদ্ধজাহাজ সহ অন্যান্য সরঞ্জামের জন্য। মূলধনী খরচ বাবদ এই অর্থ গত বছরের তুলনায় ৩৯ হাজার কোটি টাকা বেশি। অর্থমন্ত্রী সীতারামন তাঁর বাজেট ভাষণে অসামরিক ও প্রশিক্ষণ সহ অন্যান্য বিমান উৎপাদনের প্রয়োজনী যন্ত্রাংশে প্রাথমিক আমদানি শুল্ক ছাড়ের ঘোষণা করেছেন। এছাড়া, প্রতিরক্ষার প্রয়োজনে ব্যবহৃত বিমানের যন্ত্রাংশ তৈরিতে প্রয়োজনীয় কাঁচামালেও প্রাথমিক আমদানি শুল্ক মকুবের প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। এদিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেন, এবারের বাজেটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হল তিন বাহিনীর আধুনিকীকরণের উদ্যোগ। এজন্য বরাদ্দ অর্থের পরিমাণ গতবারের থেকে ২৪ শতাংশ বেশি। এর ফলে আমাদের সামরিক দক্ষতা আরও শক্তিশালী হবে। এছাড়া, এবারের বাজেটে প্রাক্তন সেনাকর্মী ও তাঁদের পরিবারবর্গের কল্যাণেও বাড়তি নজর দেওয়া হয়েছে। -ফাইল চিত্র