ভোটমুখী তামিলনাড়ুর মন জয়ই লক্ষ্য, নির্মলার পরনে কাঞ্জিভরম, বাংলার শাড়ি না পরা কীসের ইঙ্গিত?
বর্তমান | ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: অর্থমন্ত্রকের নতুন অফিস কতর্ব্য ভবন থেকে রাষ্ট্রপতি ভবন। প্রথা মেনে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে সকালেই অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন জানিয়ে এলেন, বাজেট পেশ করতে চলেছি। রাষ্ট্রপতিও জানালেন শুভেচ্ছা। শুভকামনায় নিজে হাতে খাইয়ে দিলেন দই-চিনি। তোলা হল ছবিও। সেখান থেকে সংসদে ভবন। প্রস্তাবিত বাজেট পাশ হল কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায়। তারপরই লোকসভায় প্রবেশ করলেন সীতারামন। ঘড়ির কাঁটায় তখন ১০ টা ৫৮। একদিক দিয়ে প্রবেশ করছেন অর্থমন্ত্রী। অন্যদিক দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।প্রধানমন্ত্রী প্রবেশ করতেই বিজেপি সাংসদ রবি কিষান তুললেন স্লোগান। ততক্ষণে নিজের আসনে দাঁড়িয়ে পড়েছেন নির্মলা। টকটকে লাল সোয়েটের ব্যাগ থেকে বের করলেন ট্যাবলেট। সেখানেই রয়েছে তাঁর বাজেট বক্তৃতা। পরনে হাতেবোনা তামিলনাডুর কাঞ্জিভরম সিল্ক শাড়ি। ম্যাজেন্টা রঙের শাড়িতে সোনালি সুতোর সূক্ষ্ম কাজ। পাড় গাঢ় চকোলেট। তার উপর রুপোলি আর সোনালি জড়ির জোড়া ফিতে পাড়। নির্মলা নিজে তামিল। তার ওপর সামনেই তামিলনাড়ু বিধানসভার ভোট। তাই দক্ষিণী রাজ্যকে কিছুটা আবেগ উসকানো বার্তা তো বটেই। কয়েকমাসের ব্যবধানেই এবার বাংলায় বিধানসভা ভোট। কিন্তু তাও নির্মলার পোশাকে বাংলার তাঁতশিল্পের ছিটেফোঁটাও দেখা গেল না। রাজনৈতিক মহলের একাংশের কথায়, ওঁরা এখন থেকেই টের পেয়েছেন এবারও বাংলা থেকে খালি হাতে ফিরতে হবে। তাই আর বাড়তি গুরুত্ব দিতে নারাজ।এখানেই থেকে যাচ্ছে কিছু প্রশ্ন। গতবছর সীতারামনের পরনে ছিল অফ-হোয়াইট হ্যান্ডলুম সিল্কের শাড়ি। আর সেই শাড়িতে ছিল মধুবনীর কাজ। ভোটমুখী বিহারের কথা মাথায় রেখেই যে এই সাজ, তা বুঝতে কারও অসুবিধা হয়নি। এমনকি ২০২৪ সালে বাজেট পেশ করার সময় ম্যাজেন্টা বর্ডারের মঙ্গলগিরি শাড়ি পরেছিলেন সীতারামন। অন্ধ্র্রপ্রদেশ হ্যান্ডলুমের চেনা নকশা ও জরির বর্ডার ছিল সেই শাড়িতে। চব্বিশের লোকসভা বৈতরণী পার করতে মোদির ভরসা ছিলেন নীতীশ ও চন্দ্রবাবু। সেই কৃতজ্ঞতা জানাতে ও বিধানসভা ভোটের মুখে অন্ধ্র-বিহারের আমজনতার নজর কাড়তে এটাই ছিল নির্মলাদের রণকৌশল। তবে এই ‘ট্রেন্ড’ দীর্ঘদিনের। ২০২৩ সাল। কর্ণাটক বিধানসভা নির্বাচন। সেবার বাজেট পেশের সময় অর্থমন্ত্রীর পরনে ছিল কর্ণাটকের কাসুতি সুতোর কাজ করা লাল ও ব্ল্যাক টেম্পল বর্ডারের শাড়ি। ২০২২ সালে পরেছিলেন রাস্ট ব্রাউন বোমকাই শাড়ি। আর সেবারই ওড়িশায় পুরসভার নির্বাচন ছিল। একইভাবে ২০২১ সালে অর্থমন্ত্রী একটি লাল ও অব হোয়াইট সিল্ক পোচমপল্লি শাড়ি পরেছিলেন। বিশেষজ্ঞদের কথায়, তেলেঙ্গানার পুরসভা নির্বাচনে দলের জমি শক্ত করতে ও মানুষের আবেগ ছুঁতেই এই পরিকল্পনা করেছিল বিজেপি।৮৪ মিনিটের বাজেট বক্তৃতায় আপাতভাবে রাজনৈতিকভাবে উত্তেজনাপূর্ণ তেমন কোনও ঘোষণা শোনা গেল না। তাই কি বাজেট পড়তে গিয়ে তিনি নিজেও কিছুটা ছিলেন ম্লান? কাচের গ্লাস থেকে পাঁচবার জল খেলেন নির্মলা। দুবার খুশখুশে কাশিও। পাশেই বসা স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা এগিয়ে দিলেন গলা খুশখুশ সমস্যা কাটানোর লজেন্স। নির্মলা অবশ্য তা নিলেন না।বেলা ১২-২৫ মিনিটে বাজেট বক্তৃতা শেষ হতে তাঁর কাছে উঠে এলেন নরেন্দ্র মোদি। ডানকানে কালো হ্যান্ডসফ্রি লাগিয়ে বাজেট বক্তৃতা শুনছিলেন প্রধানমন্ত্রী। নির্মলার কাছে এসে নমস্কারের ঢঙে বললেন, খুব ভালো হয়েছে। মোদির পথ অনুসরণ করে রাজনাথ সিং, নাড্ডা, শিবরাজ সিং চৌহান, অমিত শাহরা সহ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, বিজেপি সাংসদরা এসে ভিড় করলেন প্রথম সারিতে।