শহরের উন্নয়নে এক টাকাও খরচ করেননি বিধায়ক, খোঁচা তৃণমূলের
বর্তমান | ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সংবাদদাতা, মাথাভাঙা: মাথাভাঙা শহরের উন্নয়নে কোনও কাজই করেননি এলাকার বিজেপি বিধায়ক সুশীল বর্মন। অথচ বিগত ২০১৯ সাল থেকে শহরের মানুষ বিজেপিকে উজাড় করে ভোট দিয়েছে। গত লোকসভা নির্বাচনে কোচবিহারে বিজেপির প্রার্থী পরাজিত হলেও মাথাভাঙা শহরে ভালো লিড পেয়েছিলেন। অথচ শহরের জন্য বিজেপি বিধায়ক তাঁর উন্নয়ন তহবিলের টাকায় কিছুই করেননি। যদিও বিজেপি বিধায়কের দাবি, পুরসভাকে একাধিক প্রস্তাব দেওয়া হলেও তা নিতে অস্বীকার করেছে তারা।বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে মাথাভাঙা শহরে ইতিমধ্যেই জোর প্রস্তুতি শুরু করেছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। প্রতিটি ওয়ার্ডে কর্মীদের নিয়ে মিটিং করছে। পাড়ায় পাড়ায় গিয়ে জনসংযোগ রাখার কাজ করছেন তৃণমূল নেতারা। অপরদিকে এখনও ময়দানে দেখা নেই বিজেপির। তৃণমূলের দাবি, বিজেপি বিধায়ক শহরে আসেন কোনও দলীয় কর্মসূচিতে। তাছাড়া তাঁর দেখা মেলে না। শুধু ভোট এলেই বিধায়ককে দেখা যায়। বার বার শহরে বড় লিড পেলেও উন্নয়নের প্রশ্নে কেন বঞ্চনা, এই প্রশ্ন তুলেই এখন জোর প্রচার করছে জোড়াফুল শিবির।তৃণমূলের মাথাভাঙা শহর ব্লক সভাপতি তথা ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার বিশ্বজিৎ রায় বলেন, আমরা প্রতিটি ওয়ার্ডে জোর কদমে প্রচারে নেমেছি। একই সঙ্গে জনসংযোগ বৃদ্ধি করা হচ্ছে। বিগত ৫ বছরে বিধায়ক তাঁর উন্নয়ন তহবিলের পাঁচ টাকাও শহরের কোনও কাজে খরচ করেননি। শহরের মানুষ বার বার বিজেপিকে ভোট দিয়েছে, কিন্তু প্রতিবারেই প্রতারিত হয়েছে। এবার শহরের মানুষ তাই বিজেপির থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে।যদিও বিজেপি বিধায়ক সুশীল বর্মন বলেন, আমার বিধায়ক উন্নয়ন তহবিলের টাকায় একাধিক কাজ করেছি। শহরের একটি স্কুলের উন্নয়নে টাকা দিতে চেয়েছিলাম সেই টাকা নেয়নি তারা। পুরসভাকে একাধিক প্রস্তাব দিয়েছিলাম, কোনও প্রস্তাবই গ্রহণ করেনি। মানুষ সবকিছু জানে। শহরের মানুষ বিজেপির সঙ্গে ছিল, এখনও আছে। তৃণমূলের দুর্নীতি, অনুন্নয়ন মানুষকে বিরক্ত করে তুলছে।অন্যদিকে, মাথাভাঙা পুরসভার চেয়ারম্যান প্রবীর সরকার বলেন, গত পাঁচ বছরে বিধায়ক কোনও কাজই করেননি। আমরা পুরসভার পক্ষ থেকে বিভিন্ন দপ্তর থেকে টাকা এনে কাজ করছি। আমরা ছোট পুরসভা। বিধায়ক তহবিল থেকে টাকা পেলে ভালো হতো। প্রস্তাব গ্রহণ না করার কথা উনি যা বলেছেন সেটা ঠিক নয়।