• বামনগোলায় মদ্যপ অবস্থায় নিজের বাড়িতে বন্ধুকে খুন,পরকীয়ার অভিযোগ ওড়ালেন স্ত্রী গ্রেপ্তার স্বামী
    বর্তমান | ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • সংবাদদাতা, হবিবপুর: মদ্যপ অবস্থায় নিজের বাড়িতে বন্ধুকে কুপিয়ে খুন করল যুবক। স্ত্রীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা করতে গিয়ে বন্ধু হাতেনাতে ধরা পড়েছিল, সেই কারণেই তাকে খুন করেছে বলে জেরায় জানিয়েছে অভিযুক্ত রাজু রায়। তার স্ত্রী আরতী রায়ের দাবি, মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে। স্বামী অহেতুক সন্দেহ করত তাঁকে।শনিবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে বামনগোলা ব্লকের গোবিন্দপুর মহেশপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের গঙ্গাপ্রসাদ কলোনি এলাকায়। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মালদহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠায় বামনগোলা থানার পুলিশ।পুলিশ সূত্রে খবর, মৃতের নাম সুভাষ রায় (৪৫)। রাজুর বাড়ি থেকে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। রাতেই রাজুকে গ্রেপ্তার করা হয় ঘটনাস্থল থেকে।স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সুভাষ ও রাজুর মধ্যে বন্ধুত্ব ছিল। পার্শ্ববর্তী মদনাবতী গ্রাম পঞ্চায়েতের বেলডাঙা এলাকায় সুভাষের বাড়ি। তিনি গাড়ির চালক। রাজু মাঝেমধ্যে কর্মসূত্রে ভিনরাজ্যে যায়। সম্প্রতি সে নিজের একটি জায়গা বিক্রি করে বাইরে কাজে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। স্ত্রীর সঙ্গে সুভাষের ফোনে কথোপকথনের কিছু প্রমাণ পেয়েছিল রাজু। এনিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে একাধিক বার ঝগড়াও হয়। খুনের কিছুক্ষণ আগে দুই বন্ধু একসঙ্গে বসে মদ্যপানও করেছিল বলে দাবি।মাঝেমধ্যে মদ্যপ অবস্থায় রাজু ঝামেলায় জড়িয়ে পড়ত বলে জানিয়েছেন স্ত্রী। বলেন, প্রায় সাত মাস আগে স্বামীর বন্ধুর সঙ্গে পরিচয় হয়। অহেতুক আমাকে সন্দেহ করত স্বামী। ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি মিথ্যা। ঘটনার আগে স্বামীর সঙ্গে দু’তিনজন বন্ধুও এসেছিল বাড়িতে।তবে, খুনের আসল কারণ বুঝে উঠতে পারছে না সুভাষের পরিবার। সুভাষের এক মেয়ের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। রাজুর সঙ্গে কোনও দিন ঝগড়া নজরে আসেনি বলে দাবি সুভাষের পরিবারের।সুভাষের দাদা রঞ্জিত রায় বলেন, কর্মসূত্রে হয়তো রাজুর সঙ্গে পরিচয় ছিল। আমি তাকে আজ পর্যন্ত দেখিনি। পরকীয়ার বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। কী কারণে এমন ঘটনা, কিছুই বুঝতে পারছি না। পুলিশ তদন্ত করলে বোঝা যাবে কী ঘটেছিল। বামনগোলা থানার আইসি তরুণ কুমার রায় বলেন, রাজুকে রাতেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। খুনের আসল কারণ জানতে শুরু হয়েছে তদন্ত।
  • Link to this news (বর্তমান)