মূল্যায়নে পাশ করতে মালদহে ঢেলে সাজানো হচ্ছে স্বাস্থ্য পরিষেবা
বর্তমান | ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: ইন্ডিয়ান পাবলিক হেলথ স্ট্যান্ডার্ডের (আইপিএইচএস) মূল্যায়নে নম্বর পেতে হবে আশি শতাংশের বেশি। সেই লক্ষ্যে এবার মালদহ জুড়ে ঢেলে সাজানো হচ্ছে স্বাস্থ্য পরিষেবা। একদিকে চলছে চিকিৎসক, নার্স সহ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া। একই সঙ্গে ন্যায্যমূল্যের ওষুধের দোকানের সঙ্গে বাড়ানো হচ্ছে অন্যান্য পরিষেবা।মালদহের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সুদীপ্ত ভাদুড়ি বলেন, আইপিএইচএসের গাইডলাইন মেনে স্বাস্থ্য পরিষেবার পরিকাঠামো উন্নয়নে বেশকিছু কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। কর্মী নিয়োগ, ন্যায্যমূল্যের ওষুধের দোকানের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে।স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে খবর, ইন্ডিয়ান পাবলিক হেলথ স্ট্যান্ডার্ড ২০২২ (আইপিএইচএস) এর একটা গাইডলাইন আছে। যেখানে প্রায় পাঁচশো রকমের বিষয়ের উপর ভিত্তি করে স্কোর বা নম্বর দেওয়া হয়। যা কেন্দ্র সরকারের স্বাস্থ্যখাতে রাজ্যকে দেওয়া ফান্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত। এক স্বাস্থ্য কর্তা জানান, রাজ্য সরকারকে ফান্ড দেওয়ার জন্য একটা শর্ত দিয়েছে কেন্দ্র। কী সেই শর্ত? ২০২৬-’২৭ অর্থবর্ষের মধ্যে অন্তত ৫০ শতাংশ সরকারি হাসপাতাল যেমন, উপ স্বাস্থ্যকেন্দ্র, প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্র, জেলা হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে ৮০ শতাংশের বেশি স্কোর করতে হবে।স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে খবর, ইন্ডিয়ান পাবলিক হেলথ স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী একটা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জন্য খুব কম করে হলেও আরও দেড় কাঠা জমির প্রয়োজন। মালদহের মত একটি অতি জনঘনত্বপূর্ণ জেলায় এই অতিরিক্ত জায়গা পাওয়া কার্যত অসম্ভব। তবে কি মালদহের আইপিএইচএসের নম্বর কাটা যাবে?মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক বলেন, এক্ষেত্রে আমাদের হাসপাতালে পরিষেবা দিয়ে ইন্ডিয়ান পাবলিক হেলথ স্ট্যান্ডার্ডের নম্বর বাড়াতে হবে। কারণ, নম্বর অনেক বিভাগে রয়েছে।ইতিমধ্যেই ৪৮৬ রকমের ‘এসেনশিয়াল ড্রাগ লিস্ট’ (ইডিএল) বা জরুরি ওষুধের তালিকা বেঁধে দিয়েছে স্বাস্থ্য দপ্তর। মালদহের ১৫টি ব্লকের ১৭টি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সেই তালিকা অনুযায়ী ওষুধ মজুত রাখার কাজ শুরু হয়েছে। এর জন্য সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ফার্মাসিস্টরা মাসে দু’বার করে ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিককে এবং বিএমওএইচরা মাসে দু’বার করে মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিককে সার্টিফিকেট দেবেন।এখানেই থেমে নেই স্বাস্থ্য দপ্তর। মালদহ জুড়ে প্রায় দুশো পদে কর্মী নিয়োগ করছে স্বাস্থ্য দপ্তর। এর মধ্যে যেমন চিকিৎসক রয়েছেন, আছেন কমিউনিটি হেলথ অফিসার, টেকনিশিয়ান, ফিজিওথেরাপিস্ট, নার্স, পাবলিক হেলথ ম্যানেজার ইত্যাদি।