• পর্যটনের বিকাশ, বন্যা ও ধস নিয়ন্ত্রণে নেই কোনও প্যাকেজ
    বর্তমান | ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • সুব্রত ধর , শিলিগুড়ি: পাহাড়, তরাই, ডুয়ার্স মানেই পর্যটন শিল্পের খনি! প্রাকৃতিক পরিবেশ থেকে গ্রামীণ পর্যটন, অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টস থেকে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি, তীর্থ থেকে ঐতিহাসিক স্থানের ছড়াছড়ি। তবু বিজেপি শাসিক কেন্দ্রীয় সরকারের বাজেটে উত্তরবঙ্গের পর্যটন শিল্পের বিকাশ নিয়ে কোনও দিশা নেই। রবিবার সংসদে বাজেট পেশের পর এমন মতামত দিয়েছেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা। তাঁরা হতাশ। একইসঙ্গে পাহাড়-সমতলের বন্যা ও ধস নিয়ন্ত্রণেও নেই প্যাকেজ। যা নিয়ে ক্ষুব্ধ বিভিন্ন মহল। বিধানসভা ভোটের মুখে তাদের প্রশ্ন, একাধিক এমপি ও এমএলএ থাকা সত্ত্বেও উত্তরবঙ্গ বঞ্চিত কেন।উত্তরবঙ্গের অর্থনীতির মেরুদণ্ড থ্রি-টি, টি-টিম্বার-ট্যুরিজম। এখানকার পাহাড়, তরাই ও ডুয়ার্সে পর্যটন কেন্দ্রের ছড়াছড়ি। চা বাগান, জঙ্গল, ঝরনা দিয়ে ঘেরা দার্জিলিং ও কালিম্পং পাহাড়ে অসংখ্য গ্রামীণ পর্যটন কেন্দ্র রয়েছে। বৌদ্ধ সংস্কৃতি ও মঠ প্রচুর। যারজন্য পাহাড়ে গড়ে উঠেছে কয়েক হাজার হোমস্টে। কিন্তু কেন্দ্রীয় বাজেটে এখানকার পর্যটন শিল্পের বিকাশ নিয়ে কিছু উল্লেখ করা হয়নি।শিলিগুড়ির ট্যুর অপারেটার সম্রাট সান্যাল বলেন, দুই পাহাড়ে বৌদ্ধ সংস্কৃতি ছড়িয়ে রয়েছে। এছাড়া উত্তরবঙ্গের পাহাড় অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজম ও পাখি পর্যবেক্ষণের আদর্শ স্থান। বাজেটে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলি নিয়ে প্রতিফলন হয়নি। এই বাজেটে আমরা আশাহত হলাম।রাজ্য সরকারের ইকো ট্যুরিজম সেন্টারের চেয়ারম্যান রাজ বসু বলেন, গ্রামীণ পর্যটন, তীর্থস্থান, ঐতিহাসিক নিদর্শনের সম্ভার রয়েছে এখানে। এর মাধ্যমে এখানকার যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হতে পারে। কেন্দ্রীয় বাজেটে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কোনও দিশা দেওয়া হয়নি।শুধু পর্যটন ব্যবসায়ীরা নন, এবারের বাজেট নিয়ে স্থানীয় রাজনীতিও সরগরম। প্রাক্তনমন্ত্রী সিপিএম নেতা অশোক ভট্টাচার্য বলেন, শুধুমাত্র হিন্দুত্ব ও পৃথক রাজ্যের আবেগে সুড়সুড়ি দিয়ে ভোট লুট করছে।তৃণমূলের দার্জিলিং জেলার চেয়ারম্যান (সমতল) সঞ্জয় টিবরেওয়াল বলেন, এখানকার পর্যটন শিল্পে বিকাশে এবং বন্যা ও ধস নিয়ন্ত্রণে কোনও প্যাকেজ বাজেটে নেই। বিধানসভা ভোটে এর জবাব পাবে বিজেপি। মাটিগাড়া-নকশালবাড়ির বিজেপি বিধায়ক আনন্দময় বর্মন বলেন, এটা উন্নয়ন ও প্রগতির বাজেট।
  • Link to this news (বর্তমান)