সন্দীপন দত্ত, মালদহ: মাত্র পনেরো দিন আগের ঘটনা। মালদহের মাটিতে দাঁড়িয়ে রাজনৈতিক সভা থেকে আমজনতাকে ‘আম’ বার্তা দিতে শোনা গিয়েছিল নরেন্দ্র মোদিকে। দেখিয়েছিলেন জেলায় আমকেন্দ্রিক শিল্পকে অন্য উচ্চতায় পৌঁছে দেওয়া, রেশম ও পাট শিল্পে কোটি কোটি টাকার বিনিয়োগের স্বপ্ন। অথচ রবিবার কেন্দ্রীয় বাজেটে তার বিন্দুমাত্র প্রতিফলন নেই। আম, রেশম নিয়ে একটি শব্দও ছিল না সেখানে।পুরাতন মালদহের নিত্যানন্দপুরের সভা থেকে গত ১৭ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, আজও মালদহ আম, আমসত্ত্ব, রেশম, পাটের জন্য পরিচিত। মালদহের আমকেন্দ্রিক অর্থনীতিকে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া হবে। কেন্দ্রের বিজেপি সরকার হিমঘর ও ভাণ্ডার তৈরির জন্য এক লক্ষ কোটি টাকা খরচ করছে। মালদহেও অনেক হিমঘর তৈরি করা হবে। জেলার যুবকদের জন্য খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ক্ষেত্রে কাজের অনেক সুযোগ খুলে যাবে। রেশম এবং পাট দেশের ঐতিহ্য। রেশম ও পাট চাষিদের উন্নয়নের লক্ষ্যে কেন্দ্র কোটি কোটি টাকার প্রকল্প চালু করেছে।বাজেট বঞ্চনা ইস্যুতে এখন বিজেপিকে চেপে ধরছে তৃণমূল। বলছে, মোদির চেষ্টা যে সদর্থক, তার প্রমাণ কই? বাজেটে আম ও রেশমের জন্য বরাদ্দ করলেই না বোঝা যাবে কেন্দ্রীয় সরকার সত্যিই কিছু করতে চাইছে। তৃণমূলের দাবি, মোদি মালদহের মানুষের কাছে স্বপ্নের জাল বুনে গিয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা গেল না। মালদহ জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র শুভময় বসু বলেন, স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী মালদহে এসে আম, রেশম, পাট নিয়ে বিশাল স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন। মালদহ তো দূরের কথা, বাংলার জন্যও কিছু জুটল না। এসবই ভোটের রাজনীতি। আমাদের জেলার মানুষ রীতিমতো হতাশ। বিজেপির পালটা দাবি, আগে দেশের কোনও প্রধানমন্ত্রী মালদহের আম, রেশম শিল্প, ভাঙন রোধ নিয়ে কোনও উচ্চবাচ্য করেননি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ মোদি যখন সদিচ্ছা প্রকাশ করেছেন মানে কাজ হবে। বিজেপির উত্তর মালদহ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি প্রতাপ সিংহের মন্তব্য, বাজেটে নির্দিষ্ট করে মালদহের আম নিয়ে কথা বলা হয়নি। তবে, শিল্পের জন্য যে সার্বিক উন্নয়নের কথা বলা হয়েছে, মালদহও তার মধ্যে রয়েছে।হতাশ মালদহ মার্চেন্টস চেম্বার অফ কমার্সের সভাপতি জয়ন্ত কুন্ডুও। বলেন, আমকে কেন্দ্র করে বৈদেশিক বাণিজ্য, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণের মতো অনেক বড় শিল্প গড়ে উঠতে পারত। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী এখানে যে কথা বলে গিয়েছেন, বাজেটে তার কোনও প্রতিফলনই দেখতে পেলাম না।