• দলের মধ্যেই নিরাপত্তাহীনতা! পবিত্রকে আধা সেনা-সুরক্ষা ,নন্দীগ্রামে ফুঁসছে বিজেপির নীচুতলার কর্মীরা
    বর্তমান | ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: দলের কর্মী-নেতাদের হাতে আক্রান্ত হওয়ার ভয়।  নন্দীগ্রামের বিতর্কিত বিজেপি নেতা পবিত্র কর পেলেন আধা সেনার সুরক্ষা। যা নিয়ে দলের অভ্যন্তরেই তোলপাড় চলছে। নিচুতলার কর্মী-সমর্থকদের মধ্যেও চাপা ক্ষোভ। সুযোগ বুঝে আক্রমণ শানিয়েছে তৃণমূল। নন্দীগ্রাম-২ ব্লক তৃণমূলের কোর কমিটির সদস্য রবীন জানা বলেছেন, ‘বিজেপির সংগঠনের এমন হতশ্রী চেহারা দেখে নন্দীগ্রামের মানুষ হাসাহাসি করছে। রাইফেলধারী সঙ্গে নিয়ে আর যাইহোক, মানুষের মন পাওয়া যায় না। তা ছাড়া যাঁরা দলের অভ্যন্তরেই নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন, তাঁরা সাধারণ মানুষকে নিরাপত্তা দেবেন কীভাবে?’বিজেপির দলীয় সূত্রেই খবর, নীচুতলার কর্মীরা ‘দাদার অনুগামী’ ওই নেতার উপর বেজায় খাপ্পা। গত ২২ জানুয়ারি রেয়াপাড়ায় পবিত্রবাবুকে ঘিরে তুমুল ঝামেলা বাধে। মঞ্চ থেকে নামাতে টিপ্পনি কাটেন কর্মীরা। সেই ঘটনায় দলের জেলা সভাপতি মলয় সিংহ তিন নেতাকে শোকজ করেছেন। কিন্তু, তাতে কর্মীদের রোষ আটকানো যাবে না বলেই নেতৃত্বের ধারণা। সেই কারণেই জেলা বিজেপির সহ সভাপতি পবিত্রবাবুকে আধা সেনার সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। তাঁকে সর্বক্ষণ ঘিরে থাকছেন স্বয়ংক্রিয় রাইফেলধারী তিন জওয়ান। রবিবার বয়াল-২ গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসের অডিটোরিয়ামে বিজেপির নেতাদের নিয়ে কর্মিসভা ছিল। মূলত বয়াল-১ ও ২ গ্রাম পঞ্চায়েতে দলের রেষারেষি মোকাবিলায় স্থানীয় বিধায়কের উপস্থিতিতে সেই কর্মিসভা হয়। সেখানে পবিত্রবাবু নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে থেকে হাজির হন। কর্মিসভায় বয়াল-১ ও ২ গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান যথাক্রমে শিউলি কর ও নিবেদিতা বর্মণ প্রমুখ ছিলেন। বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক মেঘনাদ পাল বলেন, ‘পবিত্র করকে আধা সেনার নিরাপত্তারক্ষী দেওয়া হয়েছে।’বেশ কিছুদিন ধরেই পবিত্রবাবুকে নিয়ে দলবদলের গুঞ্জন চলছে নন্দীগ্রামে। গত ২২ জানুয়ারি অযোধ্যায় রামলালার প্রাণপ্রতিষ্ঠার দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে নন্দীগ্রাম-২ ব্লকে কর্মসূচি রেখেছিল বিজেপি। সিদ্ধেশ্বরী বাজার থেকে রেয়াপাড়া পাওয়ার হাউস মাঠ পর্যন্ত মিছিল হয়। মিছিল শেষে সভা হয়। টানা কয়েক মাস বাদে পবিত্রবাবুকে সেই সভায় হাজির হতে দেখা যায়। তাতেই খেপে ওঠে বিপক্ষ শিবির। তাঁকে উদ্দেশ্য করে নানারকম ব্যাঙ্গ-বিদ্রূপ করতে থাকেন কেউ কেউ। কর্মীরা চিৎকার করে তাঁকে মঞ্চ থেকে নেমে যেতে বলেন। তখন মঞ্চে ছিলেন জেলা সভাপতি মলয় সিনহা, স্থানীয় বিধায়ক সহ অন্যান্য নেতৃত্ব। চূড়ান্ত অস্বস্তির মধ্যে পড়ে যান সকলেই।ঘটনার দিন রাতেই শোকজ করা হয় দলের নন্দীগ্রাম-২ ব্লকের তিন নেতা গুরুপদ সাহু, রাধাকান্ত দাস ও পার্থ মাইতিকে। তাঁদের বিরুদ্ধে দলবিরোধী কাজের অভিযোগ আনা হয়। তিন দিনের মধ্যে শোকজের জবাব দিতে বলা হয়। একইসঙ্গে দলের নির্দেশ না আসা পর্যন্ত পার্টির কাজকর্ম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ পাঠানো হয়।২০২০ সালে ‘দাদার অনুগামী’ হিসেবে পবিত্র কর তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন। একসময় নিজে বয়াল-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূলের প্রধান ছিলেন। বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর একটি রাজনৈতিক খুনের ঘটনায় তিনি গ্রেপ্তার হন। প্রায় সাড়ে পাঁচ মাস জেলে ছিলেন। এই মুহূর্তে তাঁর স্ত্রী শিউলি কর বয়াল-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের বিজেপির প্রধান। পবিত্রবাবু ২০২৬ সালে নন্দীগ্রাম, চণ্ডীপুর কিংবা নন্দকুমার যে কোনও একটি বিধানসভায় প্রার্থী হতে ইচ্ছুক বলে ঘনিষ্ঠদের জানিয়েছেন। তাঁর ইচ্ছা নিয়ে দল উৎসাহ না দেখানোয় গোপনে তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলে কর্মীদের দাবি। এনিয়েই পবিত্রবাবুকে ঘিরে নীচুতলায় বিজেপি কর্মীদের রোষ তৈরি হয়েছে। এদিন ওই নেতাকে বারবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো মেসেজেরও রিপ্লাই দেননি।  পবিত্র কর।-নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)