• জেলায় এখনও ৬০ হাজার ভোটারের ‘হিয়ারিং’ বাকি,দু’দিনের মধ্যে শুনানি শেষ করার উদ্যোগ
    বর্তমান | ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: লক্ষ্য ছিল ৩১ জানুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ করা। কিন্তু সেই লক্ষ্যমাত্রা পেরিয়ে গেলেও বীরভূম জেলায় ‘লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি’ বা যৌক্তিক অসঙ্গতির পাহাড় এখনও পুরোপুরি ডিঙানো সম্ভব হয়নি। জেলা প্রশাসনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জেলার ৬ লক্ষ ১৫ হাজারের বেশি ভোটারের নাম এই অসঙ্গতির তালিকায় ছিল। তার মধ্যে এখনও প্রায় ৬০ হাজার ভোটারের হিয়ারিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া বাকি। এই পরিস্থিতিতে কমিশনের কড়া নির্দেশ মেনেই আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে বকেয়া শুনানি শেষ করতে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় নেমেছে জেলা প্রশাসন।প্রশাসন সূত্রে খবর, বহু ক্ষেত্রে নোটিস পাওয়ার পরেও নির্দিষ্ট দিনে শুনানিতে হাজির হননি বাসিন্দাদের একাংশ। এঁদের একটা বড় অংশ ভিনরাজ্যে কর্মরত পরিযায়ী শ্রমিক বা অন্য পেশার মানুষ। নির্দিষ্ট দিনে হাজির হতে না পারা এরকম কয়েক হাজার মানুষের শুনানি বাকি রয়েছে। এক কর্তার সাফ কথা, ‘নোটিস পেয়েও যাঁরা যাঁরা আসতে পারেননি, তাঁদের মঙ্গলবারের মধ্যে অবশ্যই হাজির হতে বলা হয়েছে।’গত শনিবার এসআইআর শুনানি নিয়ে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরের সঙ্গে বৈঠক করে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ। বৈঠকে ডিইও, ইআরও, এইআরওদের কিছু নির্দেশ দেয় কমিশন। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ ছিল, ১ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৫টার মধ্যে বকেয়া সমস্ত নোটিস পাঠাতে হবে এবং তার প্রমাণ বিএলওদের আপলোড করতে হবে। প্রশাসনের এক কর্তার দাবি, সবাইকেই নোটিস পাঠানো সম্পন্ন হয়েছে। সেইসঙ্গে শুনানি এবং শুনানির কাগজপত্র আপলোডের কাজও চলছে। শুনানির যে তথ্য আপলোড করা হচ্ছে, সেগুলি মাইক্রো অবজার্ভাররা পরখ করে দেখছেন। অনলাইনে আপলোড হওয়া সেই সব নথি, তথ্য ও সিদ্ধান্ত এবার বিশেষ পর্যবেক্ষকেরা ‘সুপারচেকিং’ করবেন।উল্লেখ্য, বীরভূম জেলায় মোট ভোটারের সংখ্যা ছিল ২৯ লক্ষ ৪৫ হাজার ৩০০ জন। গত ১৬ ডিসেম্বর খসড়া তালিকা প্রকাশিত তালিকায় দেখা গিয়েছে, এরমধ্যে এনিউমারেশন ফর্ম ডিটিটাইজড হয়েছে ২৭ লাখ ৬৬ হাজার জন ভোটারের। মৃত, স্থানান্তরিত, অনুপস্থিত ও দু’জায়গায় নাম রয়েছে এমন ভোটার মিলে তালিকা থেকে বাদ গিয়েছেন ১ লাখ ৭৮ হাজার জন ভোটার। এরমধ্যে ২০০২ সালের এসআইআর তালিকায় যাঁদের নিজস্ব বা নিকটাত্মীয়ের নামের সঙ্গে মিল নেই, এমন ভোটারের সংখ্যা ছিল প্রায় ৬৫ হাজার। এই সমস্ত ‘আন-ম্যাপড’ ভোটারদের শুনানি বাধ্যতামূলক ছিল। প্রশাসন সূত্রের খবর, এরমধ্যে প্রায় ৫১ হাজার জনকে শুনানির নোটিস পাঠানো হয়েছিল। বাকি প্রায় ১৪ হাজারের কোনও তথ্যই পাওয়া যায়নি।পাশাপাশি, ভোটার তালিকায় বংশ তালিকায় মিল থাকলেও পদবি বা নামের বানানে সামান্য তফাত, কিংবা বাবা-মায়ের সঙ্গে সন্তানের বয়সের ফারাক ১৫ বছরের কম বা ৫০ বছরের বেশি হলেই সফটওয়্যার সেটিকে ‘অসঙ্গতি’ হিসেবে চিহ্নিত করছে। জেলায় এই ধরনের অসঙ্গতিপূর্ণ ভোটারের সংখ্যা ছিল ৬ লক্ষ ১৫ হাজার। কমিশন সূত্রের খবর, এরমধ্যেপ্রায় ৫ লক্ষ ৮৯ হাজার ২৬৫ জনের নামে নোটিস ইস্যু করা হয়েছিল। যার একটা বড় অংশের শুনানি সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবারের মধ্যে বাকি ৬০ হাজারের শুনানিও শেষ করার ব্যাপারে আশাবাদী প্রশাসন।  নিজস্ব চিত্র।
  • Link to this news (বর্তমান)