মোবাইল দেখলেই পরীক্ষা বাতিল,১৩১টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় বসছে প্রায় ৪৭ হাজার পরীক্ষার্থী, কন্যাশ্রীর সংখ্যাই বেশি
বর্তমান | ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে মাধ্যমিক। আর তার আগে বীরভূম জেলার পরিসংখ্যান বলছে, পরীক্ষার্থীর সংখ্যায় ছেলেদের টেক্কা দিচ্ছে কন্যাশ্রীরা। এবছরও জেলায় মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীদের সংখ্যা অনেকটাই বেশি। জেলা স্কুলশিক্ষা দপ্তর জানিয়েছে, বীরভূমে ৪৬ হাজার ৯৮০জন পরীক্ষার্থী মাধ্যমিকে বসছে। তার মধ্যে ছাত্রীর সংখ্যা ২৪ হাজার ৭৩৯। ২২ হাজার ২৪১জন ছাত্র পরীক্ষা দেবে। অর্থাৎ, ছাত্রদের তুলনায় প্রায় আড়াইহাজার বেশি ছাত্রী এবার পরীক্ষায় বসছে।গতবছরও জেলায় পরীক্ষার্থীর সংখ্যায় ছাত্রীরা এগিয়ে ছিল। সেবার জেলায় ৪৭ হাজার ৩০০জন মাধ্যমিক দিয়েছে। তার মধ্যে ২২ হাজার ৭৩জন ছাত্র ও ২৫ হাজার ২২৭জন ছাত্রী ছিল। শিক্ষামহলের মতে, কন্যাশ্রী সহ রাজ্য সরকারের নানা প্রকল্পের সুবাদে গ্রামাঞ্চলেও মেয়েদের স্কুলমুখী হওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। এই পরিসংখ্যান তারই প্রতিফলন।এবার জেলায় ১৩১টি কেন্দ্রে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। তার মধ্যে মেন ভেন্যু ৩৬টি। ৯৫টি সাব-ভেন্যু রয়েছে। জেলার মধ্যে রামপুরহাট মহকুমায় পরীক্ষার্থীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। সেখানে ২০ হাজার ৫০৪জন পরীক্ষা দিচ্ছে। সিউড়ি মহকুমায় ১৫ হাজার ৪৭৬জন এবং বোলপুর মহকুমায় ১১হাজার পরীক্ষার্থী রয়েছে।জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক(মাধ্যমিক) গৌতম হালদার বলেন, সুষ্ঠুভাবে মাধ্যমিক পরীক্ষা সম্পন্ন করতে আমরা একাধিক বৈঠক করেছি। পরীক্ষার্থীদের যাতে কোনও অসুবিধা না হয়, সেজন্য সবরকম পদক্ষেপ করা হয়েছে। পরীক্ষাকেন্দ্রে যাতায়াত নিয়ে পড়ুয়া ও অভিভাবকদের যাতে নাজেহাল হতে না হয়, সেদিকে জেলা বাসমালিক সমিতি বিশেষ নজর দিচ্ছে। সংগঠনের সহ-সম্পাদক তন্ময় পইতুন্ডি বলেন, প্রশাসনের সঙ্গে আমাদের বৈঠক হয়েছে। পরীক্ষার দিনে কোনও রুটেই বাস বন্ধ থাকবে না বলে আমরা কথা দিয়েছি। সোমবার সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন রুটে ২০০’র বেশি বাস রাস্তায় নামবে।নকল রুখতে ও প্রশ্ন ফাঁস আটকাতে এবার পর্ষদ অত্যন্ত কড়া। পরীক্ষাকেন্দ্রে মোবাইল, স্মার্ট ওয়াচ বা ক্যালকুলেটরের মতো বৈদ্যুতিন যন্ত্র নিয়ে ঢোকা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কেউ ধরা পড়লে তার পরীক্ষা বাতিল পর্যন্ত হতে পারে। ১০টা ৪৫মিনিটে শুরু হয়ে দুপুর ২টো অবধি পরীক্ষা চলবে। পরীক্ষা শেষের আগে কেউ প্রশ্নপত্র নিয়ে হলের বাইরে বেরোতে পারবে না।রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া এখনও চলছে। বহু শিক্ষক-শিক্ষিকা এখনও বিএলও’র দায়িত্বে রয়েছেন। আবার পরীক্ষা পরিচালনার গুরুদায়িত্বও তাঁদেরই উপর ন্যস্ত। দু’টি দায়িত্ব তাঁরা কীভাবে পালন করবেন, তা নিয়ে ধন্দ দেখা দিয়েছিল। তবে জেলাশাসক ধবল জৈন জানিয়েছেন, যে সমস্ত শিক্ষক-শিক্ষিকারা এসআইআরের দায়িত্বে রয়েছেন, পরীক্ষার সময়টুকু তাঁদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। যতক্ষণ পরীক্ষা চলবে, তখন তাঁরা সেই দায়িত্ব সামলাবেন। বাকি সময়টা তাঁরা এসআইআরের কাজ করবেন।