• পূর্ব বর্ধমানে আজ শুনানির শেষদিন, সন্দেহজনক এসসি, এসটিদের নিয়ে ঘোষণা নেই কমিশনের
    বর্তমান | ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: আদিবাসীদের বৈধতা নিয়ে সংশয় নেই। তারপরও তাঁদের অনেকেই নির্বাচন কমিশনের চোখে সন্দেহজনক হয়ে রয়েছেন। একই অবস্থা তফসিলি জাতির ভোটারদের। কমিশন সন্ন্যাসীদের বৈধতা দেওয়ার জন্য বিশেষ নির্দেশ দিয়েছে। আদিবাসীদের জন্যও তারা এমনটাই করবে বলে অনেকে আশা করেছিলেন। কিন্তু রবিবার পর্যন্ত এসসি, এসটিদের নিয়ে কোনও নির্দেশ দেয়নি কমিশন। জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের অনেকেই মনে করছেন, আদিবাসীদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ চলে গেলে আইনশৃঙ্খলার অবনতি হতে পারে। ইতিমধ্যেই বর্ধমানে তৃণমূলের আদিবাসী সংগঠনের নেতারা আমরণ অনশনে বসেছেন। টানা অনশনে দলের নেতা দেবু টুডুর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। তিনি বলেন, কমিশন আমাদের ধৈর্যের পরীক্ষা নিচ্ছে। কিন্তু জানে না, একজন আদিবাসীর নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গেলে তার পরিণাম কী হতে পারে।কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার পূর্ব বর্ধমান জেলায় শুনানি পর্ব শেষ হচ্ছে। রবিবারের মধ্যেই অধিকাংশ সন্দেহজনক ভোটারের শুনানি শেষ হয়ে গিয়েছে। সোমবার অল্প কিছু ভোটারের শুনানি হবে। এক আধিকারিক বলেন, ফর্ম-৭ জমা দেওয়ার পরও অনেকে শুনানিতে আসতে চাননি। সেগুলি বাতিল করা হচ্ছে। লজিকাল ডিসক্রিপেন্সিতে খুব বেশি ভোটারের নাম বাদ যাবে না। তবে, নো ম্যাপিং ভোটারদের অধিকাংশের নাম বাদ যেতে বসেছে। তার মধ্যে প্রায় ১০ হাজার এসসি এবং এসটি ভোটার রয়েছেন। আধিকারিকরাও জানেন তাঁদের বৈধতা নিয়ে সংশয় নেই। তাঁরা যেসব এলাকায় রয়েছেন, সেখানে বহিরাগতদের বসবাস নেই। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তাঁদের অনেকের বাবা বা মায়ের নাম নেই। তার আগেই অনেকের বাবা-মা মারা গিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের ঠিক করে দেওয়া নথিগুলিও তাঁরা সংরক্ষিত করে রাখতে পারেনি। আদিবাসীদের অনেকেই মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরোননি। সেই কারণে স্কুল থেকে সার্টিফিকেট বা অ্যাডমিট কার্ড জোগাড় করাও তাঁদের পক্ষে সম্ভব নয়। কমিশনের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত, বহিরাগত ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া। সেটা না করে তারা বৈধ ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ।আর এক আধিকারিক বলেন, নির্বাচন কমিশন ইআরও বা এইআরওদের বিশেষ ক্ষমতা না দিলে আদিবাসীদের নাম তালিকায় থাকা সম্ভব নয়। সেক্ষেত্রে শুধু পূর্ব বর্ধমান নয়, রাজ্যের বিভিন্ন জেলার আদিবাসীদের নাম তালিকা থেকে বাদ যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে এসআইআরের চাপে জেলার ছয় মৃতের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তৃণমূল দিল্লি পৌঁছেছে। তাঁদের নির্বাচন কমিশনারের দপ্তরে নিয়ে গিয়ে তৃণমূল হয়রানির ছবি তুলে ধরবে। ফর্ম বিলির সময় জেলায় এক বিএলও হার্ট অ্যাটাকে মারা গিয়েছেন। এছাড়া, আতঙ্কে পাঁচজন মারা গিয়েছেন। তাঁদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।
  • Link to this news (বর্তমান)