বিশ্বভারতী ও জেলা প্রশাসনকে তীব্র ভর্ৎসনা পরিবেশ আদালতের, কর্তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও জেল হেফাজতে পাঠানোর হুঁশিয়ারি
বর্তমান | ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সংবাদদাতা, বোলপুর: শান্তিনিকেতনে কঠিন ও তরল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের ব্যর্থতার অভিযোগে এবার আরও কঠোর হল জাতীয় পরিবেশ আদালত। বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনকে চূড়ান্ত ভর্ৎসনার পর আদালত তাঁদের শোকজ নোটিস দিয়েছে। কাজে অবহেলার জন্য তাঁদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ওসেইসব কর্তাদের জেল হেফাজতে পাঠানো হবে নাকেন, আদালত তা জানতে চেয়েছে।উল্লেখ্য, এই মামলার সূত্রপাত ২০১৬ সালে। শান্তিনিকেতনের পৌষমেলায় দূষণের অভিযোগ তুলে পরিবেশকর্মী সুভাষ দত্ত জাতীয় পরিবেশ আদালতের দ্বারস্থ হন। সেই সময় আদালত বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষকে পরিবেশবান্ধবপৌষমেলা আয়োজনের নির্দেশ দেয়। কিন্তু অভিযোগ, সেই নির্দেশ বাস্তবে কার্যকর হয়নি।পরবর্তীতে ২০১৮ সালে আবারও পরিবেশ আদালতে অভিযোগ দায়ের হয়। তখন সুভাষ দত্ত শুধু পৌষমেলার দূষণ নয়, বিশ্বভারতী চত্বরে বসবাসকারী মানুষদের দৈনন্দিন কঠিন ও তরল বর্জ্য নিষ্কাশনের কোনো সুষ্ঠু ব্যবস্থা না থাকার বিষয়টিও তুলে ধরেন। এর প্রেক্ষিতে ২০২০ সালে আদালত স্পষ্ট নির্দেশ দেয়, আইন মেনে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করতে হবে। তবুও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন না হওয়ায় মামলা ফের গতি পায়।মামলা চলাকালীন একাধিকবার জাতীয় পরিবেশ আদালত বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসনকে কাছে অ্যাকশন টেকেন রিপোর্টজমা দিতে বলে। কিন্তু সেই রিপোর্ট জমা না পড়ায় আদালতের অসন্তোষ ক্রমশ বাড়তে থাকে। গত ডিসেম্বর মাসের শুনানিতে রিপোর্ট না দেওয়ার জন্য আদালত উভয় পক্ষকে তীব্র তিরস্কার করে এবং জরিমানাও ধার্য করে।এরপর চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি শুনানিতে আদালত আরও কড়া অবস্থান নেয়। জেলাশাসক ও বিশ্বভারতীর কর্মসচিবকে সশরীরে হাজির হতে নির্দেশ দেয়। সাম্প্রতিক শুনানিতে তাঁরা ভার্চুয়ালি উপস্থিত হন। তবে আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিনও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত অগ্রগতি নিয়ে সন্তোষজনক কোনো উত্তর দিতে পারেননি তাঁরা। ফলে আদালত প্রকাশ্যেই বিশ্বভারতী ও জেলা প্রশাসনের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে।এরপরই আদালত শোকজ নোটিস জারি করে জানায়—আদালতের নির্দেশ কতটা মানা হয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ ও প্রামাণ্য ব্যাখ্যা দিতে হবে। একই সঙ্গে কারণ দর্শাতে হবে, কেন তাঁদের বিরুদ্ধে সম্পত্তি বাজেয়াপ্তকরণ বা জেল হেফাজতের মতো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। এই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ৩০ মার্চ।সুভাষ দত্ত আদালতের এই নির্দেশকে স্বাগত জানিয়ে বলেন,এই নির্দেশের পর আশা করছি সমস্যার বাস্তব সমাধান হবে। যে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবেশ ও প্রকৃতিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল, সে তার ঐতিহ্যফিরেপাবে।