নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: রানাঘাট পুরসভার ডাম্পিং গ্রাউন্ডে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘিরে তীব্র আতঙ্ক ছড়াল গোটা এলাকায়। শনিবার ভোররাতে অনুলিয়া পঞ্চায়েতে অবস্থিত পুরসভার ভাগাড়ে আগুন লাগে। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং বেলা বাড়তেই পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নেয়। কালো, বিষাক্ত ধোঁয়ায় ঢেকে যায় আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোরের দিকে আগুনের খবর পেয়ে দমকলের একটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। প্রাথমিকভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলেই মনে করা হয়েছিল। কিন্তু ভাগাড়ে জমে থাকা বিপুল পরিমাণ বর্জ্য, প্লাস্টিক ও দাহ্য পদার্থের কারণে আগুন ফের ছড়িয়ে পড়ে। সন্ধ্যা নামার পর আগুন তীব্র আকার ধারণ করে। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে দমকলের মোট ছ’টি ইঞ্জিন নামানো হয়। দীর্ঘ সময় ধরে জ্বলতে থাকা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকল কর্মীদের কার্যত রাতভর লড়াই চালাতে হয়। শনিবার রাত প্রায় ১১টার পর আগুন অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে সম্পূর্ণভাবে নিভে যেতে আরও সময় লাগে বলে দমকল সূত্রে জানা গিয়েছে।এই অগ্নিকাণ্ডে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় ডাম্পিং গ্রাউন্ডে পর্যাপ্ত জলের ব্যবস্থা না থাকা। আগুন নেভাতে দমকলকে দূরবর্তী এলাকা থেকে জল আনতে হয়, যার ফলে কাজের গতি ব্যাহত হয়। এই ঘটনা সামনে আসতেই পুরসভার পরিকাঠামো ও প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এত বড় একটি ভাগাড়ে স্থায়ী জলাধার বা অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থার অভাব কেন, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। যদিও বিষয়টি নিয়ে রানাঘাট পুরসভার চেয়ারম্যান কোশলদেব বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, সাধারণ মানুষের থেকে আমরা অভিযোগ পেয়েছি যে, ওইখানে আগুন লাগিয়ে দিয়ে পালিয়ে গিয়েছিল কেউ। তবে বিষয়টি কী তা নিয়ে তদন্ত হবে। আর জলের ব্যবস্থা আমাদের ওখানে আগে থেকেই ছিল। কিন্তু নতুন করে যেহেতু পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ হচ্ছে, তাই সেই সমস্ত জায়গা বুজে গিয়েছে। আমরা পুনরায় সেখানে জলের ব্যবস্থা করছি। আগুনের ফলে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন আশপাশের এলাকার মানুষ। সারাদিন ধরে দুর্গন্ধযুক্ত বিষাক্ত ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্ট, চোখ জ্বালা ও মাথা ঘোরার অভিযোগ ওঠে। বহু মানুষ ঘরবন্দি হয়ে থাকতে বাধ্য হন। শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে বাড়তি উদ্বেগ তৈরি হয় এলাকায়। অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, ভাগাড়ে জমে থাকা গ্যাস বা কোনও দাহ্য বর্জ্য থেকেই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে সমস্ত দিক খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে দমকল বিভাগ।