• দু’টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশেই শ্মশানের চুল্লি, আপত্তি করায় স্কুল লক্ষ্য করে ঢিল
    বর্তমান | ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • সংবাদদাতা, ঘাটাল: স্কুল ও অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের পাশেই তৈরি হচ্ছে শ্মশান চুল্লি। তা নিয়েই দাসপুর-২ ব্লকের দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে কয়েক দিন ধরেই ক্ষোভ, পাল্টা বিক্ষোভ চলছে। অভিযোগ, ওই দুই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে শ্মশান চুল্লি তৈরির প্রতিবাদ করায় স্কুল দু’টিকে তাক করে ইট-পাটকেল ছোড়া হচ্ছে। এ নিয়ে আতঙ্কে রয়েছেন  গোমকপোতা আত্যয়িক প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ১৩৭ নম্বর গোমকপোতা উত্তর আত্যয়িক অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের পড়ুয়া ও শিক্ষক-শিক্ষিকারা। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোপালচন্দ্র মণ্ডল বলেন, আমাদের উপর হামলার বিষয়টি আমি প্রশাসনে জানিয়েছি। তাড়াছাও অবিলম্বে শ্মশান তৈরি বন্ধ না হলে আগামী দিনে স্কুল ও অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে রান্না করা সমস্যা হবে। এদিকে দাসপুর-২ পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ প্রদীপ পোড়ে বলেন, সীতাপুর গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে যেখানে মৃতদেহ সৎকার করা হতো সেখানেই দু’ লক্ষ টাকা দিয়ে শ্মশান তৈরি হচ্ছে। এতে স্কুলের কোনও সমস্যা হওয়া কথা নয়। তাছাড়া প্রত্যেক দিন শবদেহ দাহ করা হয় না। বছরে দু’-চারটে দাহ হয়ে থাকে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তা বিকেলের পর। তাই এতে কোনও সমস্যা হওয়ার কথা নয়। সমস্যাটি দু’টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার দুই গ্রামের বাসিন্দাদের নিয়ে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দু’টি রয়েছে জোৎঘনশ্যাম পঞ্চায়েত এলাকায় শোলাটোপা খালের পাড়ে গোমকপোতায়। খালের অন্য পাড়ে রয়েছে গৌরা পঞ্চায়েতের সীতাপুর গ্রাম। সীতাপুরেরই তৈরি হচ্ছে শ্মশান। গোমকপতা প্রাথমিক বিদ্যালয় লাগোয়া অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রটি। দুই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ গোমকপোতা গ্রামের বাসিন্দাদের শ্মশান বিরোধিতার যুক্তি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দু’টি থেকে মাত্র ২৫-৩০ মিটার দূরে শ্মশান চুল্লিটি তৈরি হচ্ছে। সকালে হয় অঙ্গনওয়াড়ির রান্না, দুপুরে হয় স্কুলের মিড ডে মিল। শবদাহ হলে চিতার ধোঁয়ায় গোটা স্কুল চত্বরে ভরে যাবে। পড়ুয়ারা খাওয়া-দাওয়াও করতে পারবে না। অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের কর্মী তারারানি কর, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোপালবাবু বলেন, শ্মশান চুল্লিতে আমাদের কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু একটু সরিয়ে করার জন্য অনুরোধ করেছি। এই কথা বলাতেই সীতাপুরের বাসিন্দারা আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দু’টি লক্ষ্য করে প্রায়ই ইট-পাটকেল ছুঁড়ছে। আমরা ভয়ে ক্লাস করতে পারছি না। সীতাপুর গ্রামের বাসিন্দা শচীনন্দন পোড়ে, বাঁটুল পোড়ে প্রমুখ বলেন, খালের পাড়টিকেই গ্রামের বাসিন্দার আবহমান কাল থেকে শ্মশান হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন। সেখানেই চুল্লিটি তৈরি করা হচ্ছে। তাতে কারও কোনও সমস্যা হবে না। দু’টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং গোমকপোতা গ্রামের বাসিন্দারা গাজোয়ারি করছেন। আমাদের অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করছেন। বিষয়টি আমরাও প্রশাসনে জানিয়েছি।  ব্লক প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে, সমাধান সূত্রের খোঁজে আজ সোমবার উভয়পক্ষকে নিয়ে আলোচনায় বসা হবে।
  • Link to this news (বর্তমান)