শিল্পাঞ্চলে ছন্নছাড়া বিজেপি, পার্টি অফিসে মার খেলেন মণ্ডল নেতা
বর্তমান | ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: জেলা পার্টি অফিসেই বেধড়ক মারধর করা হয় দলের নেতাদের। এমন বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে পুলিশের দ্বারস্থ হলেন বিজেপির মণ্ডল সাধারণ সম্পাদক। অভিযোগ, জেলা সভাপতির নির্দেশে বিজেপি নেতারা শনিবার আসানসোল জেলা কার্যালয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে সামান্য গোলমাল বাধে। তারপরই তাঁকে বাঁশ দিয়ে বেধড়ক পেটানো হয়। পাঞ্চও করা হয় বলে অভিযোগ। তিনি শুধু একাই নন, একইভাবে আক্রান্ত হয়েছেন তিন নেতা। সকলেই জেলা সাধারণ সম্পাদক অরিজিৎ রায়ের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ এনেছেন। তাঁদের খুন করার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও পুলিশকে জানিয়েছেন তাঁরা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিল্পাঞ্চলের রাজনীতিতে শোরগোল পড়েছে। ভোটের আগে পার্টি অফিসে বিজেপির দুই গোষ্ঠীর এই কোন্দল, মারামারি বেজায় অস্বস্তিতে ফেলেছে গেরুয়া শিবিরকে। স্থানীয় মানুষও বিষয়টিকে ভালোভাবে নিচ্ছেন না। চরম নিন্দার ঝড় উঠেছে সর্বত্র। ডিসি ধ্রুব দাস বলেন, ‘নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছি।’বিজেপি সূত্রে খবর, ঘটনার সূত্রপাত মণ্ডল সভাপতিদের মাথার উপরে মণ্ডল কনভেনার বসানোকে কেন্দ্র করে। বারাবনি ৪ নম্বর মণ্ডলের কনভেনার করা নিয়ে বিজেপি নেতাদের অসন্তোষ তীব্র হয়। শুক্রবার রাতে তাঁরা বিজেপি জেলা সভাপতি দেবতনু ভট্টাচার্যের বাড়িতে চড়াও হয়। তীব্র প্রতিবাদ জানান। আক্রান্ত নেতাদের দাবি, জেলা সভাপতিই নির্দেশ দেন শনিবার জেলা পার্টি অফিসে আসতে। সেখানেই এনিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। সেই মতো তাঁরা শনিবার দুপুরে পার্টি অফিসে যান। কিছু পরেই অরিজিৎ রায় ও তাঁর অনুগামীদের সঙ্গে তীব্র বাদানুবাদ শুরু হয়। এরমধ্যে আচমকাই তাঁদের মারধর করা হয়। বিজেপি বারাবনি মণ্ডল ৪ দুই সাধারণ সম্পাদক অভিজিৎ অধিকারী, চিরঞ্জীব রায়, মণ্ডল সম্পাদক সত্যজিৎ দাস বেধড়ক পিটুনি খান। প্রথম দু’জনকে হাতে মারা হলেও তৃতীয়জনকে পার্টি অফিসের ভিতরের ফেলে বাঁশ দিয়ে পেটানো হয় বলে অভিযোগ। এরপরই শনিবার রাতে আসানসোল উত্তর থানায় পুরো ঘটনাটি জানিয়ে লিখিত অভিযোগ করেন অভিজিৎ অধিকারী। তিনি বলেন, ‘অরিজিৎ রায় মনে করেন বারাবনিতে তিনিই শেষ কথা। তাঁর বাইরে কেউ কিছু করতে গেলেই মারধর করেন। এর আগেও এক মণ্ডল সভাপতির দোকান ভাঙচুর করেছিলেন অরিজিৎ। দলীয় কর্মীদের প্রতি তাঁর অত্যাচার বেড়েই চলেছে। তাই তাঁর বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি।’ চিরঞ্জীব রায়ও বলেন, ‘আমরা এর শেষ দেখে ছাড়ব। দলের শীর্ষ নেতৃত্বর নজরে বিষয়টি এনেছি।’অভিযুক্ত নেতা অরিজিৎ রায় অবশ্য বলেন, ‘তাঁদের কাছে মারধর করার কোনও ভিডিও কি রয়েছে? ভিত্তিহীন অভিযোগ করছেন আমার নামে। ওঁরা গত বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলকে সাহায্য করেছিলেন। এদিন সেই বিষয়টি নিয়ে পার্টি অফিসের কিছু নেতার সঙ্গে তাঁদের ঝাগড়া হয়। মারধরের কোন ঘটনা ঘটেনি।’রাজ্যের শ্রম ও আইনমন্ত্রী মলয় ঘটক বলেন, ‘আসানসোলে বিজেপি পার্টির নিয়ন্ত্রণ মাফিয়াদের হাতে চলে গিয়েছে। এখন খালি হাতে, লাঠি নিয়ে মারপিট হচ্ছে। কিছুদিন পর বোমা, গুলি হাতে নিজেদের মধ্যে লড়াই করবে।’ এর আগেও জামুড়িয়ায় বিজেপির গোষ্ঠী কোন্দল সামনে এসেছিল। সেবার মণ্ডল সভাপতির বিরুদ্ধে মণ্ডল সহ-সভাপতির মার খাওয়ার অভিযোগ ওঠেছিল। ক’মাস পরেই রাজ্যে ভোট। তার আগে বিজেপি শিবিরের অন্দরের দ্বন্দ ক্রমেই প্রকট হচ্ছে। রীতিমতো মারামারিতে জড়িয়ে পড়ছে দু’পক্ষ। দলের নিচুতলার কর্মীদের আক্ষেপ, দলীয় কার্যালয়ে যদি দলের নেতারাই সুরক্ষিত না হন, তা হলে তৃণমূলকে দোষ দিয়ে কী লাভ!